দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল অভূতপূর্ব উৎসাহ। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ইতোমধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে যেমন রয়েছে উচ্ছ্বাস, তেমনি রয়েছে পাহাড়সম প্রত্যাশা।
বিকালে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সুবর্ণা খাতুন 'দৈনিক উত্তরের নিউজ'-কে বলেন, "জীবনে প্রথমবার পরিবারের সাথে গিয়ে একই সাথে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সার্বিকভাবে অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই নতুন সরকারের কাছে আমাদের এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।" তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হওয়া সত্ত্বেও কোনো কোনো উচ্চপদস্থ শিক্ষক নবনির্বাচিত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।
ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো: আবু সোয়াইব হোসেন শাওন সরকারকে অনুরোধ জানান যেন তারা বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন। এ লক্ষ্যে কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারিভাবে ঋণ প্রদান ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া, মৃতপ্রায় কলকারখানাগুলো পুনরায় সচল করা এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আন্তরা আজিজ বলেন, "জুলাই আন্দোলন-পূর্ববর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারতাম না। কিন্তু নবনির্বাচিত সরকার আসার পর বাক-স্বাধীনতা ফিরে পেয়ে আমি আনন্দিত।"
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিচ্ছে। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুণগত পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে। নির্বাচিত সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শিক্ষার্থীদের এই প্রবল আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। তরুণ প্রজন্মের এই ভাবনা ও দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিলেই একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ে তোলা সম্ভব হবে

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার প্রক্রিয়ার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল অভূতপূর্ব উৎসাহ। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ইতোমধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে যেমন রয়েছে উচ্ছ্বাস, তেমনি রয়েছে পাহাড়সম প্রত্যাশা।
বিকালে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সুবর্ণা খাতুন 'দৈনিক উত্তরের নিউজ'-কে বলেন, "জীবনে প্রথমবার পরিবারের সাথে গিয়ে একই সাথে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সার্বিকভাবে অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই নতুন সরকারের কাছে আমাদের এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।" তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হওয়া সত্ত্বেও কোনো কোনো উচ্চপদস্থ শিক্ষক নবনির্বাচিত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।
ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো: আবু সোয়াইব হোসেন শাওন সরকারকে অনুরোধ জানান যেন তারা বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন। এ লক্ষ্যে কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারিভাবে ঋণ প্রদান ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া, মৃতপ্রায় কলকারখানাগুলো পুনরায় সচল করা এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আন্তরা আজিজ বলেন, "জুলাই আন্দোলন-পূর্ববর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারতাম না। কিন্তু নবনির্বাচিত সরকার আসার পর বাক-স্বাধীনতা ফিরে পেয়ে আমি আনন্দিত।"
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিচ্ছে। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুণগত পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে। নির্বাচিত সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শিক্ষার্থীদের এই প্রবল আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। তরুণ প্রজন্মের এই ভাবনা ও দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিলেই একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ে তোলা সম্ভব হবে

আপনার মতামত লিখুন