দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ​নীরব ভোটারদের দৃষ্টি কোন দিকে এমন প্রশ্নের ঘুরপাক জনমনে।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ​নীরব ভোটারদের দৃষ্টি  কোন দিকে এমন প্রশ্নের ঘুরপাক জনমনে।

​সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা তিন লাখ ৬৬ হাজার ৩০৯ ভোট নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৪ আসন।

নির্বাচনী প্রচারণার উচ্চকিত শব্দ এখন স্তব্ধ। আইনি বাধ্যবাধকতায় মাইকিং, মিছিল আর পথসভা বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু মাঠের রাজনীতি এখন প্রবেশ করেছে সবচেয়ে ‘তৎপর’ এক অধ্যায়ে। দলীয় নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ ছাপিয়ে এখন সবার নজর সাধারণ ভোটারদের দিকে। আর মাত্র একদিন বাকি, কিন্তু সাধারণ ভোটারদের মাঝে যে গভীর নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা কি কোনো বড় ধরনের ‘ভোট বিপ্লবের’ ইঙ্গিত দিচ্ছে

​নেতাকর্মীরা ব্যস্ত, সাধারণ ভোটাররা ভাবুক

​বিগত দিনগুলোতে প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়ালেও সাধারণ ভোটাররা কিন্তু খুব একটা মুখ খোলেননি। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় দলীয় নেতাকর্মীদের উৎসব থাকলেও আমজনতা ছিল পর্যবেক্ষণকামী। বড় বড় জনসভার চেয়ে ভোটারদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় প্রার্থী নির্বাচনে ভিন্ন এক গাম্ভীর্য দেখা যাচ্ছে।

​সাধারণ ভোটারের ভোট কোন দিকে যাচ্ছে তা এখন দেখার পালা রাজনীতির বাহিরে থাকা খেটে খাওয়া মানুষ গুলো কি চাইছে তাদের প্রতিনিধি কাকে বানাতে চান আসলে এখন সেটাই ভাবার বিষয়।

তবে ​মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে সাধারণ ভোটারদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কিছু পরিষ্কার আভাস পাওয়া যাচ্ছে:

ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছেন আমাদের কেউ ডাল ভাত দিবেনা নিজের শ্রম ব্যবসা বানিজ্য করে নিজেরটা নিজেই কামাই করে খেতে হবে,তারা চান শান্তিতে বসবাস করতে আর যার ধারা রাজনীতির বাহিরে থাকা সাধারণ মানুষের উপকার হবে তাকে বিবেচনায় নিচ্ছেন।

আবার অন্য একটি অংশ সুশাসন ও ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষাকে প্রধান্য দিচ্ছেন। এই দুই মেরুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক ‘নীরব ভোটার’ গোষ্ঠী।

​ব্যক্তিগত ইমেজ: দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ এবং বিপদে-আপদে পাশে পাওয়ার নিশ্চয়তাকে বড় করে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

​বিশ্বম্ভরপুর ও সদরের পার্থক্য

সদর এলাকার শহরে ভোটার এবং বিশ্বম্ভরপুরের গ্রামীণ ভোটারদের চিন্তায় কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাওরাঞ্চল ও হাওর এলাকার মানুষের কাছে নদী রক্ষা ও কর্মসংস্থান বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা যদি কোনো প্রার্থীর প্রতি অতিমাত্রায় সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট থাকেন, তখনই ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটে। যদি সাধারণ মানুষ মনে করেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, তবে ব্যালটে তার বড় প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। এই নিঃশব্দ সমর্থন বা অনাস্থা যার পক্ষেই যাক, তিনিই হবেন আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি।

​শেষ মুহূর্তের সমীকরণ

​প্রচারণা শেষ হওয়ার পর এখন ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যাওয়ার ‘ জনসংযোগ’এখন বন্ধ তবে কর্মী সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন প্রার্থীরা

সাধারণ ভোটাররা আপাতত প্রার্থীদের কথা শুনছেন, কিন্তু তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি জমা করে রেখেছেন ১২ ফেব্রুয়ারির জন্য।

​আগামীকালকের সূর্যোদয় নির্ধারণ করবে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের পরবর্তী ভাগ্য।

এখন প্রশ্ন একটাই—সাধারণ মানুষের এই রহস্যময় নীরবতা কি কোন রাজনৈতিক প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করবে, নাকি কোনো নতুন মুখকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরবে।।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ​নীরব ভোটারদের দৃষ্টি কোন দিকে এমন প্রশ্নের ঘুরপাক জনমনে।

প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


​সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা তিন লাখ ৬৬ হাজার ৩০৯ ভোট নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৪ আসন।


নির্বাচনী প্রচারণার উচ্চকিত শব্দ এখন স্তব্ধ। আইনি বাধ্যবাধকতায় মাইকিং, মিছিল আর পথসভা বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু মাঠের রাজনীতি এখন প্রবেশ করেছে সবচেয়ে ‘তৎপর’ এক অধ্যায়ে। দলীয় নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ ছাপিয়ে এখন সবার নজর সাধারণ ভোটারদের দিকে। আর মাত্র একদিন বাকি, কিন্তু সাধারণ ভোটারদের মাঝে যে গভীর নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা কি কোনো বড় ধরনের ‘ভোট বিপ্লবের’ ইঙ্গিত দিচ্ছে

​নেতাকর্মীরা ব্যস্ত, সাধারণ ভোটাররা ভাবুক

​বিগত দিনগুলোতে প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়ালেও সাধারণ ভোটাররা কিন্তু খুব একটা মুখ খোলেননি। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় দলীয় নেতাকর্মীদের উৎসব থাকলেও আমজনতা ছিল পর্যবেক্ষণকামী। বড় বড় জনসভার চেয়ে ভোটারদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় প্রার্থী নির্বাচনে ভিন্ন এক গাম্ভীর্য দেখা যাচ্ছে।


​সাধারণ ভোটারের ভোট কোন দিকে যাচ্ছে তা এখন দেখার পালা রাজনীতির বাহিরে থাকা খেটে খাওয়া মানুষ গুলো কি চাইছে তাদের প্রতিনিধি কাকে বানাতে চান আসলে এখন সেটাই ভাবার বিষয়।


তবে ​মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে সাধারণ ভোটারদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কিছু পরিষ্কার আভাস পাওয়া যাচ্ছে:

ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছেন আমাদের কেউ ডাল ভাত দিবেনা নিজের শ্রম ব্যবসা বানিজ্য করে নিজেরটা নিজেই কামাই করে খেতে হবে,তারা চান শান্তিতে বসবাস করতে আর যার ধারা রাজনীতির বাহিরে থাকা সাধারণ মানুষের উপকার হবে তাকে বিবেচনায় নিচ্ছেন।


আবার অন্য একটি অংশ সুশাসন ও ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষাকে প্রধান্য দিচ্ছেন। এই দুই মেরুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক ‘নীরব ভোটার’ গোষ্ঠী।

​ব্যক্তিগত ইমেজ: দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ এবং বিপদে-আপদে পাশে পাওয়ার নিশ্চয়তাকে বড় করে দেখছেন সাধারণ মানুষ।


​বিশ্বম্ভরপুর ও সদরের পার্থক্য

সদর এলাকার শহরে ভোটার এবং বিশ্বম্ভরপুরের গ্রামীণ ভোটারদের চিন্তায় কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাওরাঞ্চল ও হাওর এলাকার মানুষের কাছে নদী রক্ষা ও কর্মসংস্থান বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।


​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা যদি কোনো প্রার্থীর প্রতি অতিমাত্রায় সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট থাকেন, তখনই ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটে। যদি সাধারণ মানুষ মনে করেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, তবে ব্যালটে তার বড় প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। এই নিঃশব্দ সমর্থন বা অনাস্থা যার পক্ষেই যাক, তিনিই হবেন আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি।


​শেষ মুহূর্তের সমীকরণ

​প্রচারণা শেষ হওয়ার পর এখন ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যাওয়ার ‘ জনসংযোগ’এখন বন্ধ তবে কর্মী সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন প্রার্থীরা


সাধারণ ভোটাররা আপাতত প্রার্থীদের কথা শুনছেন, কিন্তু তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি জমা করে রেখেছেন ১২ ফেব্রুয়ারির জন্য।

​আগামীকালকের সূর্যোদয় নির্ধারণ করবে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের পরবর্তী ভাগ্য।


এখন প্রশ্ন একটাই—সাধারণ মানুষের এই রহস্যময় নীরবতা কি কোন রাজনৈতিক প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করবে, নাকি কোনো নতুন মুখকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরবে।।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ