যশোরের শার্শা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাদুরপুর ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, মামলা-হামলা, বোমা আতঙ্ক ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও শিক্ষক নেতা।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি একজন ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও মাঠঘেঁষা সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা শিক্ষকতা পেশায় থেকেও তিন দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ছাত্রদল থেকেই রাজনীতির শুরু
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, কলারোয়া সরকারি কলেজে এইচএসসি অধ্যয়নকালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দেন। পরে যশোর এমএম কলেজে বিএ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
১৯৯১ সালে যুবদলের দায়িত্ব
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ৩ নম্বর বাহাদুরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
টানা ২৫ বছরের বেশি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
১৯৯৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি টানা ২৫ বছরেরও বেশি সময় বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ এই সময়ে ইউনিয়নের দলীয় কাঠামো সুসংগঠিত করা, আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার কারণে তিনি এলাকায় শক্তিশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান।
২০২৪ সালে সভাপতি নির্বাচিত
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন কাউন্সিলে তিনি বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়নের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
১৬টি মামলার মুখোমুখি হওয়ার দাবি
তার দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ১১টি রাজনৈতিক মামলার আসামি করা হয়। পরে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একটি হত্যা মামলাসহ আরও ৫টি মামলার মুখোমুখি হন। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট ১৬টি মামলা হয়েছে, যেগুলোকে তিনি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেছেন।
হামলা, বোমা ও চাকরি হারানোর অভিযোগ
তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৭ সালে তার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুনরায় চাকরিতে বহাল হন।
এছাড়া ২০১১ সালে তার বাড়িতে বোমা হামলা এবং ২০২৪ সালে বাহাদুরপুর বাজারে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হওয়ার দাবিও করেন। আহত অবস্থায় তাকে শার্শা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় বলে তিনি জানান।
শিক্ষকতা ও রাজনীতির সমন্বয়
পেশাগত জীবনে তিনি ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। শিক্ষা জীবনে বি.এ ও বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির রাজনীতি পরিচালনা করা তাকে এলাকায় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করেছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয়
ইতোমধ্যে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, কুশল বিনিময় ও সাংগঠনিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তিনি। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
বর্তমানে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে—দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই শিক্ষক নেতার চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
যশোরের শার্শা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাদুরপুর ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, মামলা-হামলা, বোমা আতঙ্ক ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও শিক্ষক নেতা।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি একজন ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও মাঠঘেঁষা সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা শিক্ষকতা পেশায় থেকেও তিন দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ছাত্রদল থেকেই রাজনীতির শুরু
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, কলারোয়া সরকারি কলেজে এইচএসসি অধ্যয়নকালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দেন। পরে যশোর এমএম কলেজে বিএ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
১৯৯১ সালে যুবদলের দায়িত্ব
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ৩ নম্বর বাহাদুরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
টানা ২৫ বছরের বেশি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
১৯৯৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি টানা ২৫ বছরেরও বেশি সময় বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ এই সময়ে ইউনিয়নের দলীয় কাঠামো সুসংগঠিত করা, আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার কারণে তিনি এলাকায় শক্তিশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান।
২০২৪ সালে সভাপতি নির্বাচিত
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন কাউন্সিলে তিনি বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়নের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
১৬টি মামলার মুখোমুখি হওয়ার দাবি
তার দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ১১টি রাজনৈতিক মামলার আসামি করা হয়। পরে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একটি হত্যা মামলাসহ আরও ৫টি মামলার মুখোমুখি হন। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট ১৬টি মামলা হয়েছে, যেগুলোকে তিনি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেছেন।
হামলা, বোমা ও চাকরি হারানোর অভিযোগ
তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৭ সালে তার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুনরায় চাকরিতে বহাল হন।
এছাড়া ২০১১ সালে তার বাড়িতে বোমা হামলা এবং ২০২৪ সালে বাহাদুরপুর বাজারে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হওয়ার দাবিও করেন। আহত অবস্থায় তাকে শার্শা উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় বলে তিনি জানান।
শিক্ষকতা ও রাজনীতির সমন্বয়
পেশাগত জীবনে তিনি ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। শিক্ষা জীবনে বি.এ ও বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির রাজনীতি পরিচালনা করা তাকে এলাকায় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত করেছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয়
ইতোমধ্যে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, কুশল বিনিময় ও সাংগঠনিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তিনি। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
বর্তমানে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে—দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই শিক্ষক নেতার চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ।

আপনার মতামত লিখুন