ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকায় উপজেলা প্রশাসনকে আগাম অবহিত করার পরও দুই অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাল্যবিবাহের প্রস্তুতির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর পরও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, বর ইমরান আলী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকার মহেশপুর, মধ্য ঝাড়গাঁও গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। তাঁর জন্মতারিখ ২৮ মে ২০০৯। সেই হিসাবে বিয়ের সময় তাঁর বয়স ২১ বছর পূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে কনে তাহমিনা রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামের পশিরুল ইসলামের মেয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তিনিও বিয়ের আইনগত ন্যূনতম বয়সে পৌঁছানোর আগেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
আগাম তথ্য দেওয়ার পরও বিয়ে
বিয়ের প্রস্তুতির খবর পেয়ে এই প্রতিবেদক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেন এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক কোনো অভিযান পরিচালনা বা কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে নির্ধারিত সময়েই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে সময়মতো তথ্য দেওয়ার পরও যদি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা না যায়, তাহলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
কাজীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক
এদিকে বিয়ের দায়িত্বে থাকা কাজী শাহাদাত হোসেন বাবলার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, “উভয় পক্ষের গার্ডিয়ান রাজি থাকলে বিয়ে দিতে কোনো অসুবিধা নেই। আমি খসড়া বিয়ে দিয়েছি, পরে বয়স হলে রেজিস্ট্রি করে দেব।”
কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদকের কাছে “আপনার বিকাশ নম্বরটা দেন” বলেও মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাজীর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—আইনগত বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো বিয়েকে ‘খসড়া বিয়ে’ হিসেবে সম্পন্ন করার আদৌ কোনো আইনগত ভিত্তি আছে কি না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইন কী বলে
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং নারীর ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ে সম্পন্ন করা এবং বাল্যবিবাহের আয়োজন, সহযোগিতা বা উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে।
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ‘খসড়া বিয়ে’ বা পরবর্তীতে রেজিস্ট্রির কথা বললেই অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ের বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। তবে এ ঘটনায় কার কী ধরনের আইনগত দায় তৈরি হয়েছে, তা নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন।
তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের
অভিযোগের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। বাল্যবিবাহ ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাল্যবিবাহে শুধু বর-কনের পরিবার নয়, বিয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সহযোগী এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ও আইনগত সমস্যা। প্রশাসনের কাছে আগাম তথ্য পৌঁছানোর পরও যদি এমন বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকায় উপজেলা প্রশাসনকে আগাম অবহিত করার পরও দুই অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাল্যবিবাহের প্রস্তুতির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর পরও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, বর ইমরান আলী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকার মহেশপুর, মধ্য ঝাড়গাঁও গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। তাঁর জন্মতারিখ ২৮ মে ২০০৯। সেই হিসাবে বিয়ের সময় তাঁর বয়স ২১ বছর পূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে কনে তাহমিনা রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামের পশিরুল ইসলামের মেয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তিনিও বিয়ের আইনগত ন্যূনতম বয়সে পৌঁছানোর আগেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
আগাম তথ্য দেওয়ার পরও বিয়ে
বিয়ের প্রস্তুতির খবর পেয়ে এই প্রতিবেদক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেন এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক কোনো অভিযান পরিচালনা বা কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে নির্ধারিত সময়েই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে সময়মতো তথ্য দেওয়ার পরও যদি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা না যায়, তাহলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
কাজীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক
এদিকে বিয়ের দায়িত্বে থাকা কাজী শাহাদাত হোসেন বাবলার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, “উভয় পক্ষের গার্ডিয়ান রাজি থাকলে বিয়ে দিতে কোনো অসুবিধা নেই। আমি খসড়া বিয়ে দিয়েছি, পরে বয়স হলে রেজিস্ট্রি করে দেব।”
কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদকের কাছে “আপনার বিকাশ নম্বরটা দেন” বলেও মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাজীর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—আইনগত বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো বিয়েকে ‘খসড়া বিয়ে’ হিসেবে সম্পন্ন করার আদৌ কোনো আইনগত ভিত্তি আছে কি না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইন কী বলে
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং নারীর ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ে সম্পন্ন করা এবং বাল্যবিবাহের আয়োজন, সহযোগিতা বা উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে।
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ‘খসড়া বিয়ে’ বা পরবর্তীতে রেজিস্ট্রির কথা বললেই অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ের বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। তবে এ ঘটনায় কার কী ধরনের আইনগত দায় তৈরি হয়েছে, তা নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন।
তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের
অভিযোগের বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। বাল্যবিবাহ ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাল্যবিবাহে শুধু বর-কনের পরিবার নয়, বিয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সহযোগী এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ও আইনগত সমস্যা। প্রশাসনের কাছে আগাম তথ্য পৌঁছানোর পরও যদি এমন বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন