নেত্রকোনার মদনে সরকারি জলমহল ইজারার আড়ালে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে ইজারাকৃত জলমহলের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের সাধারণ কৃষি জমি থেকেও হাঁসের খামারি ও শামুক আহরণকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ১৪৩১–৩৪ বঙ্গাব্দ মেয়াদে উপজেলার ‘ছাঁড়িয়ার বিল’ ও ‘বরদাইর’-এর একাংশ ইজারা পায় ‘মেঘনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’। আর এই সমিতিটির সাধারণ সম্পাদক উপজেলার গোবিন্দশ্রী (বড্ডা) গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কেবল নির্দিষ্ট জলমহল থেকে মাছ আহরণের অনুমোদন থাকলেও, নজরুল ইসলাম নিজের প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত ও সাধারণ কৃষি জমি থেকেও জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শামুক সংগ্রাহকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত নজরুল এলাকায় এক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ক্যাডার ও লাঠিয়াল হিসেবে পরিচিত। তার দাপটে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। হাঁসের খাবারের জন্য নিজস্ব বা খোলা কৃষি জমি থেকে শামুক তুলতে গেলেই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শামুক তোলায় বাধা প্রদানসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পরিচয় গোপন করে গ্রাহক সেজে অভিযুক্ত নজরুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের কাছেও ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফোনালাপে নজরুল বলেন, “আমরা সরকারের কাছ থেকে বিল ইজারা এনেছি। সুতরাং বিল ও তার আশপাশের যেকোনো জমি থেকে শামুক তুলতে হলে টাকা দিতেই হবে, নয়তো শামুক তোলা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “অন্যদের কাছ থেকে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা নিলেও আপনার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা রাখা হবে। ইতোমধ্যে ১৫-২০ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। একবার টাকা দিলে আর কেউ ডিস্টার্ব করবে না।”
তবে পরবর্তীতে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বিষয়টি এক বাক্যে অস্বীকার করেন। একই সাথে এ ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রতিবেদককে ‘দেখে নেওয়া’ ও পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানান, “বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। জলমহল ইজারা নেওয়া ব্যক্তি কেবল নির্ধারিত সীমানার ভেতর মাছ আহরণ করতে পারবেন। সাধারণ জমি থেকে শামুক তোলাই হোক কিংবা জলমহলের বাইরে টাকা নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি বা সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
নেত্রকোনার মদনে সরকারি জলমহল ইজারার আড়ালে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে ইজারাকৃত জলমহলের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের সাধারণ কৃষি জমি থেকেও হাঁসের খামারি ও শামুক আহরণকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ১৪৩১–৩৪ বঙ্গাব্দ মেয়াদে উপজেলার ‘ছাঁড়িয়ার বিল’ ও ‘বরদাইর’-এর একাংশ ইজারা পায় ‘মেঘনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’। আর এই সমিতিটির সাধারণ সম্পাদক উপজেলার গোবিন্দশ্রী (বড্ডা) গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কেবল নির্দিষ্ট জলমহল থেকে মাছ আহরণের অনুমোদন থাকলেও, নজরুল ইসলাম নিজের প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত ও সাধারণ কৃষি জমি থেকেও জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শামুক সংগ্রাহকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত নজরুল এলাকায় এক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ক্যাডার ও লাঠিয়াল হিসেবে পরিচিত। তার দাপটে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। হাঁসের খাবারের জন্য নিজস্ব বা খোলা কৃষি জমি থেকে শামুক তুলতে গেলেই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শামুক তোলায় বাধা প্রদানসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পরিচয় গোপন করে গ্রাহক সেজে অভিযুক্ত নজরুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের কাছেও ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফোনালাপে নজরুল বলেন, “আমরা সরকারের কাছ থেকে বিল ইজারা এনেছি। সুতরাং বিল ও তার আশপাশের যেকোনো জমি থেকে শামুক তুলতে হলে টাকা দিতেই হবে, নয়তো শামুক তোলা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “অন্যদের কাছ থেকে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা নিলেও আপনার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা রাখা হবে। ইতোমধ্যে ১৫-২০ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। একবার টাকা দিলে আর কেউ ডিস্টার্ব করবে না।”
তবে পরবর্তীতে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বিষয়টি এক বাক্যে অস্বীকার করেন। একই সাথে এ ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রতিবেদককে ‘দেখে নেওয়া’ ও পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানান, “বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। জলমহল ইজারা নেওয়া ব্যক্তি কেবল নির্ধারিত সীমানার ভেতর মাছ আহরণ করতে পারবেন। সাধারণ জমি থেকে শামুক তোলাই হোক কিংবা জলমহলের বাইরে টাকা নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি বা সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন