দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

তারিখ=০৯/০৮/২০২৬ ইং  বন্দরের রাস্তার ফোরলেন কাজের উদ্ভোধন করলেন ডা. জাহিদ

তারিখ=০৯/০৮/২০২৬ ইং বন্দরের রাস্তার ফোরলেন কাজের উদ্ভোধন করলেন ডা. জাহিদ

ছাত্রদল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে ৩৫ বছরের সংগ্রাম—১৬ মামলার ঝড় পেরিয়ে এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেই শিক্ষক নেতা

ছাত্রদল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে ৩৫ বছরের সংগ্রাম—১৬ মামলার ঝড় পেরিয়ে এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেই শিক্ষক নেতা

মদনে ইজারার নামে চাঁদা আদায়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি

মদনে ইজারার নামে চাঁদা আদায়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি

ইউএনওকে জানানোর পরও ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহ  কাজীর ‘খসড়া বিয়ে’ বক্তব্যে বিতর্ক, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ইউএনওকে জানানোর পরও ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহ কাজীর ‘খসড়া বিয়ে’ বক্তব্যে বিতর্ক, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ক্রয় কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও রোপণ কিত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ক্রয় কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও রোপণ কিত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে

১১দফা দাবীতে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিপ্রদান

১১দফা দাবীতে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিপ্রদান

তিস্তার আকস্মিক বন্যায় ভেঙে গেল সড়ক, ভোগান্তিতে ২ হাজার পরিবার

তিস্তার আকস্মিক বন্যায় ভেঙে গেল সড়ক, ভোগান্তিতে ২ হাজার পরিবার

ছাতকে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছাতকে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে খড়ি; গিলে খাচ্ছে জমি

নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে খড়ি; গিলে খাচ্ছে জমি

কৃষি প্রধান দেশের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জেলা নওগাঁ। এই জেলার উৎপাদিত ধান-চাল ও বিভিন্ন ফসল দিয়েই দেশের অধিকাংশ জনগণের খাদ্যের চাহিদা মিটে থাকে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসল ফলানো সেই কৃষি জমিগুলো। 

এর প্রধান কারণ অনুমতিবীহিন অবৈধ ইটভাটা। আর সেই অবৈধ ইট ভাটাগুলোতে অনায়াসে পোড়ানো হচ্ছে খড়ি, দিন দিন গিলে খাচ্ছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি। এমনই দৃশ্য চোখে পড়বে নওগাঁ জেলায়। অথচ অভিযোগ দিয়েও অনেকে প্রতিকার পাচ্ছে না।

জেলার পোরশা উপজেলার ইটভাটাগুলোতে সবচেয়ে বেশি খড়ি পোড়ানো হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পোরশা উপজেলায় ১১টি ইটভাটার মালিক তাদের কার্য়ক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যেগুলোর নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনাপত্তি সনদ। নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা এ সকল অবৈধ ইটভাটার ৮টিতেই পুড়ছে খড়ি। ফলে পরিবেশ হচ্ছে বিপর্যয়, হচ্ছে ক্ষতি। 

আবার কৃষকদের লোভনীয় টাকার প্রলোভন দিয়ে জমি লীজ নিচ্ছে। এছাড়া অনেক কৃষক উপায় না পেয়ে তাদের জমিগুলো লীজ দিতে বাধ্য হচ্ছে।  

এদিকে সদর উপজেলার বরুনকান্দি এলাকায় দিঘা গ্রামের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এম.বি.কে নামের একটা ইটভাটা বন্ধের জন্য শতাধিক এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। তারপরও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। বরং ইটভাটার মালিক অনায়াসেই চালিয়ে যাচ্ছে তার কার্যক্রম। তবে এম.বি.কে ইটভাটার স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নানের দাবি, আমরা যখন আন্দোলন করলাম, তখন ডিসি অফিস থেকে এই বছরের জন্য মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন। আর অন্যরা যেভাবে চালাচ্ছে আমিও সেভাবে শুরু করেছি। এছাড়া আগে কিছু বাড়ি ছিল, এখন অনেক হয়েছে। 

তাই স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি চোখ বন্ধ করে বসে আছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লোক দেখানো কিছু ইটভাটায় অভিযান চালালেও অদৃশ্য কারণে সেই ইটভাটাগুলো পুনরায় বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। কাজেই সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ। 

খড়ি পোড়ানোয় পোরশা উপজেলার ক্ষোদ একজন ভাটার মালিকই বিরক্ত। তিনি জানালেন, এখানে ১১টি ভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৩টি ইটভাটায় কয়লা দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। আর বাকি ৮টিতে একদম খড়ি পুড়ছে। আমি চাই সকলে কয়লা ব্যবহার করুক। আমরা ডিসি অফিসে ওয়াদা করেছিলাম খড়ি পুড়বোনা বলে। আমি নিজে একজন ইটভাটার মালিক হয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে বলতে পারছি না। তারপরও এই খড়ি পোড়ানোর বিষয়ে জেলার নেতাকে অনেক বলেছি। 

পোরশা ঢুকতেই রাস্তার বাম পাশে চোখে পড়বে কে.এম.এস ব্রিকস নামক ইটভাটা। পুরো একটা ফসলী মাঠ জুড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে ভাটার মালিক কামরুল হাসান চৌধুরী। ভাটার ম্যানেজার তারেক আজিজ গর্ব করে জানালেন, এই ইটভাটা শুরু থেকেই আমি চাকরি করছি। ৮ বছর আগে শুরু করা এই ইটভাটার এখন কার্যক্রম চলছে ৫৫বিঘা জমি জুড়ে। সকল জমি বিভিন্ন মেয়াদে লীজ নেওয়া আছে। ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিঘা প্রতি। পরিবেশ সনদ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি সকল বিষয়ে রাজস্ব দেওয়া হয়। আর ইটভাটা শুরু করলে খড়ি একটু লাগেই। 

এম.বি.কে ইটভাটার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগকারীর একাধিক ব্যক্তিসহ স্থানীয়রা বলেন, গ্রামের মধ্যে ইটভাটা কিভাবে সম্ভব? প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালু না করার জন্য বলা হয়েছিল। বন্ধ রাখার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ১৩৭ জন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারপরও কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব নাটকের কোনো মানে হয়না বলে মন্তব্য করলেন তারা। 

তারা আরও বলেন, এই ইটভাটার কারণে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়, যখন বড় বড় গাড়ি চলাচল করে। এছাড়া ফসলী জমির মাটি কাটা হচ্ছে। দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমি।

একাধিক বিষয়ে জানতে চাইলে কে.ই.বি.সি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ও পোরশা উপজেলা মালিক সমিতির সভাপতি আকবর আলী কালু মোবাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সরাসরি কথা বলতে বলেন।  

জানতে চাইলে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মিঠু মুঠোফোনে বলেন, কোনো ভাবেই ইটভাটাতে খড়ি পোড়ানো চলবে না। কারণ আমাদের প্রথম কমিটমেন্টই ছিল কোনো ইটভাটাতে খড়ি পোড়ানো হবে না। যদি কেউ খড়ি ব্যবহার করে থাকে তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। এটা যারা করছে অবশ্যই তাদের শাস্তির আওতায় আসা উচিৎ। 

তিনি আরও বলেন, এম.বি.কে নামক মান্নান ভাইয়ের ইটভাটা নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই। একটা ঝামেলা হয়েছিল, পরে মিমাংসা হয়েছে। তাই মানবিক ভাবে বলছি নিউজ করার দরকার নেই। এভাবেই তিনি বারবার নিষেধ করেন এম.বি.কে ইটভাটা নিয়ে না লিখতে। 

পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমরা নির্বাচনের বিষয় নিয়ে ব্যস্ত আছি। তারপরও প্রতিনিয়ত মাটিকাটাসহ বিভিন্ন কারণে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে। আর খড়ি পোড়ানোর বিষয়ে কেউ সহযোগিতা করলে আমাদের অভিযান চালাতে ভালো হবে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাইলে আমরা ফুল সাপোর্ট দিবো।  

জানতে চাইলে নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন মুঠোফোনে বলেন, যেসব ইটভাটায় খড়ি পোড়ানো হচ্ছে, সেসব ইটভাটায় গতবছর যেভাবে অভিযান চালানো হয়েছিল, এবারও চালানো হবে। আর যখন অভিযোগ দিয়েছিল, তখন এম.বি.কে নামক ইটভাটা বন্ধ ছিল। চালু করলে অভিযান চালানো হবে। তবে আমরা প্রায়ই অভিযান চালাচ্ছি।

উল্লেখ, সরকারি ভাবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশনা আসার পর গত এক মাস আগে জেলার সকল ইট ভাটার মালিকরা তাদের অবৈধ ইটভাটা চালানোর জন্য দফায় দফায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারপরও সেই সময় জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি কোনো অনুমতি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে খড়ি; গিলে খাচ্ছে জমি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image



কৃষি প্রধান দেশের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জেলা নওগাঁ। এই জেলার উৎপাদিত ধান-চাল ও বিভিন্ন ফসল দিয়েই দেশের অধিকাংশ জনগণের খাদ্যের চাহিদা মিটে থাকে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসল ফলানো সেই কৃষি জমিগুলো। 


এর প্রধান কারণ অনুমতিবীহিন অবৈধ ইটভাটা। আর সেই অবৈধ ইট ভাটাগুলোতে অনায়াসে পোড়ানো হচ্ছে খড়ি, দিন দিন গিলে খাচ্ছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি। এমনই দৃশ্য চোখে পড়বে নওগাঁ জেলায়। অথচ অভিযোগ দিয়েও অনেকে প্রতিকার পাচ্ছে না।


জেলার পোরশা উপজেলার ইটভাটাগুলোতে সবচেয়ে বেশি খড়ি পোড়ানো হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পোরশা উপজেলায় ১১টি ইটভাটার মালিক তাদের কার্য়ক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যেগুলোর নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনাপত্তি সনদ। নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা এ সকল অবৈধ ইটভাটার ৮টিতেই পুড়ছে খড়ি। ফলে পরিবেশ হচ্ছে বিপর্যয়, হচ্ছে ক্ষতি। 


আবার কৃষকদের লোভনীয় টাকার প্রলোভন দিয়ে জমি লীজ নিচ্ছে। এছাড়া অনেক কৃষক উপায় না পেয়ে তাদের জমিগুলো লীজ দিতে বাধ্য হচ্ছে।  


এদিকে সদর উপজেলার বরুনকান্দি এলাকায় দিঘা গ্রামের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এম.বি.কে নামের একটা ইটভাটা বন্ধের জন্য শতাধিক এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। তারপরও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। বরং ইটভাটার মালিক অনায়াসেই চালিয়ে যাচ্ছে তার কার্যক্রম। তবে এম.বি.কে ইটভাটার স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নানের দাবি, আমরা যখন আন্দোলন করলাম, তখন ডিসি অফিস থেকে এই বছরের জন্য মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন। আর অন্যরা যেভাবে চালাচ্ছে আমিও সেভাবে শুরু করেছি। এছাড়া আগে কিছু বাড়ি ছিল, এখন অনেক হয়েছে। 


তাই স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি চোখ বন্ধ করে বসে আছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লোক দেখানো কিছু ইটভাটায় অভিযান চালালেও অদৃশ্য কারণে সেই ইটভাটাগুলো পুনরায় বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। কাজেই সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ। 


খড়ি পোড়ানোয় পোরশা উপজেলার ক্ষোদ একজন ভাটার মালিকই বিরক্ত। তিনি জানালেন, এখানে ১১টি ভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৩টি ইটভাটায় কয়লা দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। আর বাকি ৮টিতে একদম খড়ি পুড়ছে। আমি চাই সকলে কয়লা ব্যবহার করুক। আমরা ডিসি অফিসে ওয়াদা করেছিলাম খড়ি পুড়বোনা বলে। আমি নিজে একজন ইটভাটার মালিক হয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে বলতে পারছি না। তারপরও এই খড়ি পোড়ানোর বিষয়ে জেলার নেতাকে অনেক বলেছি। 


পোরশা ঢুকতেই রাস্তার বাম পাশে চোখে পড়বে কে.এম.এস ব্রিকস নামক ইটভাটা। পুরো একটা ফসলী মাঠ জুড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে ভাটার মালিক কামরুল হাসান চৌধুরী। ভাটার ম্যানেজার তারেক আজিজ গর্ব করে জানালেন, এই ইটভাটা শুরু থেকেই আমি চাকরি করছি। ৮ বছর আগে শুরু করা এই ইটভাটার এখন কার্যক্রম চলছে ৫৫বিঘা জমি জুড়ে। সকল জমি বিভিন্ন মেয়াদে লীজ নেওয়া আছে। ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিঘা প্রতি। পরিবেশ সনদ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি সকল বিষয়ে রাজস্ব দেওয়া হয়। আর ইটভাটা শুরু করলে খড়ি একটু লাগেই। 


এম.বি.কে ইটভাটার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগকারীর একাধিক ব্যক্তিসহ স্থানীয়রা বলেন, গ্রামের মধ্যে ইটভাটা কিভাবে সম্ভব? প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালু না করার জন্য বলা হয়েছিল। বন্ধ রাখার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ১৩৭ জন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারপরও কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব নাটকের কোনো মানে হয়না বলে মন্তব্য করলেন তারা। 


তারা আরও বলেন, এই ইটভাটার কারণে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়, যখন বড় বড় গাড়ি চলাচল করে। এছাড়া ফসলী জমির মাটি কাটা হচ্ছে। দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলী জমি।


একাধিক বিষয়ে জানতে চাইলে কে.ই.বি.সি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ও পোরশা উপজেলা মালিক সমিতির সভাপতি আকবর আলী কালু মোবাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সরাসরি কথা বলতে বলেন।  


জানতে চাইলে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মিঠু মুঠোফোনে বলেন, কোনো ভাবেই ইটভাটাতে খড়ি পোড়ানো চলবে না। কারণ আমাদের প্রথম কমিটমেন্টই ছিল কোনো ইটভাটাতে খড়ি পোড়ানো হবে না। যদি কেউ খড়ি ব্যবহার করে থাকে তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। এটা যারা করছে অবশ্যই তাদের শাস্তির আওতায় আসা উচিৎ। 


তিনি আরও বলেন, এম.বি.কে নামক মান্নান ভাইয়ের ইটভাটা নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই। একটা ঝামেলা হয়েছিল, পরে মিমাংসা হয়েছে। তাই মানবিক ভাবে বলছি নিউজ করার দরকার নেই। এভাবেই তিনি বারবার নিষেধ করেন এম.বি.কে ইটভাটা নিয়ে না লিখতে। 


পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমরা নির্বাচনের বিষয় নিয়ে ব্যস্ত আছি। তারপরও প্রতিনিয়ত মাটিকাটাসহ বিভিন্ন কারণে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে। আর খড়ি পোড়ানোর বিষয়ে কেউ সহযোগিতা করলে আমাদের অভিযান চালাতে ভালো হবে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাইলে আমরা ফুল সাপোর্ট দিবো।  


জানতে চাইলে নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন মুঠোফোনে বলেন, যেসব ইটভাটায় খড়ি পোড়ানো হচ্ছে, সেসব ইটভাটায় গতবছর যেভাবে অভিযান চালানো হয়েছিল, এবারও চালানো হবে। আর যখন অভিযোগ দিয়েছিল, তখন এম.বি.কে নামক ইটভাটা বন্ধ ছিল। চালু করলে অভিযান চালানো হবে। তবে আমরা প্রায়ই অভিযান চালাচ্ছি।


উল্লেখ, সরকারি ভাবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশনা আসার পর গত এক মাস আগে জেলার সকল ইট ভাটার মালিকরা তাদের অবৈধ ইটভাটা চালানোর জন্য দফায় দফায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারপরও সেই সময় জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি কোনো অনুমতি।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ