দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অবতরণে চরম অবহেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মহান বিজয় দিবসে ১৬ ডিসেম্বর উত্তোলিত জাতীয় পতাকা নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও নামানো হয়নি—এমন অভিযোগে বিষয়টি জাতীয় পতাকা অবমাননার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ১৭ ডিসেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত অবস্থায় ছিল। রাষ্ট্রীয় বিধি অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগেই জাতীয় পতাকা নামানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি।
বিজয়ের মাসে জাতীয় প্রতীকের এমন অবহেলা শুধু প্রশাসনিক গাফিলতাই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সরাসরি লঙ্ঘন—এমন মন্তব্য স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে সাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.তরিকুল ইসলাম দায় এড়ানোর সুরে বলেন, বিদ্যালয় ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ। সকালে একটি ছেলে এসে পতাকা উত্তোলন করেছে। হয়তো স্কুল খোলা মনে করেই সে এটি করেছে।
তবে ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মন্তব্য। বিষয়টি জানতে চাইলে খানসামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন,
“এটা নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই। তুমি একটু থাম। নিউজ করিও না। আমি বিষয়টি দেখছি।
একজন দায়িত্বশীল শিক্ষা কর্মকর্তার মুখে এমন বক্তব্যে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় প্রতীক নিয়ে অবহেলার বিষয় কি সংবাদযোগ্য নয়?
ঘটনাটি জেলা পর্যায়ে পৌঁছালে ভিন্ন সুর শোনা যায়। দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাষ্ট্রীয় বিধি অনুযায়ী সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই তা নামানোর নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবহেলার জন্য কার দায় রয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে এবং অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার এই বক্তব্যের পর প্রশাসনের ভেতরে নড়াচড়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় পতাকা শুধু কাপড় নয়—এটি স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। বিজয়ের মাসে এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অবতরণে চরম অবহেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মহান বিজয় দিবসে ১৬ ডিসেম্বর উত্তোলিত জাতীয় পতাকা নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও নামানো হয়নি—এমন অভিযোগে বিষয়টি জাতীয় পতাকা অবমাননার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ১৭ ডিসেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত অবস্থায় ছিল। রাষ্ট্রীয় বিধি অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগেই জাতীয় পতাকা নামানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি।
বিজয়ের মাসে জাতীয় প্রতীকের এমন অবহেলা শুধু প্রশাসনিক গাফিলতাই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সরাসরি লঙ্ঘন—এমন মন্তব্য স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে সাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.তরিকুল ইসলাম দায় এড়ানোর সুরে বলেন, বিদ্যালয় ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ। সকালে একটি ছেলে এসে পতাকা উত্তোলন করেছে। হয়তো স্কুল খোলা মনে করেই সে এটি করেছে।
তবে ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মন্তব্য। বিষয়টি জানতে চাইলে খানসামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন,
“এটা নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই। তুমি একটু থাম। নিউজ করিও না। আমি বিষয়টি দেখছি।
একজন দায়িত্বশীল শিক্ষা কর্মকর্তার মুখে এমন বক্তব্যে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় প্রতীক নিয়ে অবহেলার বিষয় কি সংবাদযোগ্য নয়?
ঘটনাটি জেলা পর্যায়ে পৌঁছালে ভিন্ন সুর শোনা যায়। দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাষ্ট্রীয় বিধি অনুযায়ী সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই তা নামানোর নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবহেলার জন্য কার দায় রয়েছে তা চিহ্নিত করা হবে এবং অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার এই বক্তব্যের পর প্রশাসনের ভেতরে নড়াচড়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় পতাকা শুধু কাপড় নয়—এটি স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক। বিজয়ের মাসে এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন