কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের উরুকচাইল গ্রামে ওয়ারিশী সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিচারাধীন সম্পত্তি বিক্রির অপচেষ্টা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে উপজেলা হেসাখাল ইউপির উরুকচাইল গ্রামের আপন মামা এনামুল হকের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঝরনা বেগম।এছাড়াও এনামুল হকের বড় ভাই রিয়াজুল হকের পালক সন্তানের ক্রয়কৃত জমি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করে দেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঝরনা বেগমের মা মরহুমা ফাতেমা বেগম তার পৈতৃক সম্পত্তিতে আইনগত অংশীদার হলেও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তির অংশ বুঝে পাননি। তার ভাই এনামুল হক নানা অজুহাতে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে ফাতেমা বেগম মৃত্যুবরণ করলে তার উত্তরাধিকারীগণ সম্পত্তির ন্যায্য অংশ দাবি করেন। কিন্তু অভিযুক্ত এনামুল হক তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে সম্পত্তি নিজের দখলে রেখে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আদালতের শরণাপন্ন হলে বর্তমানে দেওয়ানি মামলা নং-২৮৭/২০২৫ বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় ৩৪ ডিং ওয়ারিশী সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ঝরনা বেগম জানান, গত ২১ জুন সকালে তিনি বিষয়টি নিয়ে এনামুল হকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রক্ষা পান।
এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। একই সঙ্গে বিচারাধীন সম্পত্তি অবৈধভাবে বিক্রি বা হস্তান্তরের আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আল জাবের সুমনের স্ত্রী তাহমিনা বেগম বলেন, আমার শ্বশুরবাড়ির সম্পদ বিক্রি করে মামাশ্বশুর রিয়াজুল হকের থেকে সাড়ে ১৫ শতক জায়গা ক্রয় করে আমরা বসবাস করছি। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর মামাশ্বশুর এনামুল হক জোর করে আমাদের বাড়ি থেকে বের করেদেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকান ঘর ছিল সেটিও তালা মেরে দেয়। আমি এখন অন্যের ঘরে ৪সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ও সরকারিভাবে একটি ঘর দে আমাকে,কিন্তু মামা এনামুল হকরে কারণে সেই ঘর করতে পারেনি। আমি প্রশাসনের কাছে আমারে স্বামীর জায়গাটুকু ফিরে চাই। বাকি জীবন যেন সন্তানদের নিয়ে দু'মুঠো ডাল ভাত খেয়ে বাঁচতে পারি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফাতেমা বেগম আমার বোন নয় এবং সে দুদা মিয়া ও জয়তুনের নেছার মেয়ে না। তারা আমাদের কাছে কোন সম্পত্তি পাবে না।
স্থানীয় নেছার আহমদ, হাফেজ আনিছুল হক মোল্লা ও আমিনুল হক বলেন, ফাতেমা বেগম দুধা মিয়ার মেয়ে।তার ভাই এনামুল হক ওয়ারিশ নামায় তার নাম বাদ দিয়ে সকল সম্পত্তি আত্মসাৎ করে। সন্তানরা সম্পদ চাইতে আসলে তাদের গায়ে হাত তোলে এনামুল হক এবং তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। অন্যদিকে এনামুল হকের বড় ভাই রিয়াজুল হকের কোন সন্তান না থাকায় ফাতেমা বেগমের পুত্র সন্তান আল জাবের সুমনকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং সাড়ে ১৫ শতক জমি তার নামে কবলা করে দেন।সুমনের মৃত্যুর পর এনামুল হক জোর করে দোকানও বাড়ি দখল করে নেয়। এবং তার বউ, সন্তানদেরকে বের করে দেয়। সুমনের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পাশের বাড়িতেই অন্যের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা তার সুস্থ বিচার প্রার্থনা করছি।
নাঙ্গলকোট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আরিফুর রহমান বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান আছে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের উরুকচাইল গ্রামে ওয়ারিশী সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিচারাধীন সম্পত্তি বিক্রির অপচেষ্টা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে উপজেলা হেসাখাল ইউপির উরুকচাইল গ্রামের আপন মামা এনামুল হকের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঝরনা বেগম।এছাড়াও এনামুল হকের বড় ভাই রিয়াজুল হকের পালক সন্তানের ক্রয়কৃত জমি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করে দেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঝরনা বেগমের মা মরহুমা ফাতেমা বেগম তার পৈতৃক সম্পত্তিতে আইনগত অংশীদার হলেও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তির অংশ বুঝে পাননি। তার ভাই এনামুল হক নানা অজুহাতে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে ফাতেমা বেগম মৃত্যুবরণ করলে তার উত্তরাধিকারীগণ সম্পত্তির ন্যায্য অংশ দাবি করেন। কিন্তু অভিযুক্ত এনামুল হক তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে সম্পত্তি নিজের দখলে রেখে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আদালতের শরণাপন্ন হলে বর্তমানে দেওয়ানি মামলা নং-২৮৭/২০২৫ বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় ৩৪ ডিং ওয়ারিশী সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ঝরনা বেগম জানান, গত ২১ জুন সকালে তিনি বিষয়টি নিয়ে এনামুল হকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রক্ষা পান।
এ ঘটনায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। একই সঙ্গে বিচারাধীন সম্পত্তি অবৈধভাবে বিক্রি বা হস্তান্তরের আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আল জাবের সুমনের স্ত্রী তাহমিনা বেগম বলেন, আমার শ্বশুরবাড়ির সম্পদ বিক্রি করে মামাশ্বশুর রিয়াজুল হকের থেকে সাড়ে ১৫ শতক জায়গা ক্রয় করে আমরা বসবাস করছি। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর মামাশ্বশুর এনামুল হক জোর করে আমাদের বাড়ি থেকে বের করেদেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি দোকান ঘর ছিল সেটিও তালা মেরে দেয়। আমি এখন অন্যের ঘরে ৪সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ও সরকারিভাবে একটি ঘর দে আমাকে,কিন্তু মামা এনামুল হকরে কারণে সেই ঘর করতে পারেনি। আমি প্রশাসনের কাছে আমারে স্বামীর জায়গাটুকু ফিরে চাই। বাকি জীবন যেন সন্তানদের নিয়ে দু'মুঠো ডাল ভাত খেয়ে বাঁচতে পারি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফাতেমা বেগম আমার বোন নয় এবং সে দুদা মিয়া ও জয়তুনের নেছার মেয়ে না। তারা আমাদের কাছে কোন সম্পত্তি পাবে না।
স্থানীয় নেছার আহমদ, হাফেজ আনিছুল হক মোল্লা ও আমিনুল হক বলেন, ফাতেমা বেগম দুধা মিয়ার মেয়ে।তার ভাই এনামুল হক ওয়ারিশ নামায় তার নাম বাদ দিয়ে সকল সম্পত্তি আত্মসাৎ করে। সন্তানরা সম্পদ চাইতে আসলে তাদের গায়ে হাত তোলে এনামুল হক এবং তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। অন্যদিকে এনামুল হকের বড় ভাই রিয়াজুল হকের কোন সন্তান না থাকায় ফাতেমা বেগমের পুত্র সন্তান আল জাবের সুমনকে সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং সাড়ে ১৫ শতক জমি তার নামে কবলা করে দেন।সুমনের মৃত্যুর পর এনামুল হক জোর করে দোকানও বাড়ি দখল করে নেয়। এবং তার বউ, সন্তানদেরকে বের করে দেয়। সুমনের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পাশের বাড়িতেই অন্যের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা তার সুস্থ বিচার প্রার্থনা করছি।
নাঙ্গলকোট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আরিফুর রহমান বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান আছে।

আপনার মতামত লিখুন