সরকারি চাকরিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলির বিধান থাকলেও রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে তার ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে। সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহীনুর রহমান টানা ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অফিস সূত্রে জানা যায়, মো. শাহীনুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। এ সময়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাধিক কর্মকর্তা বদলি হয়ে এলেও তার দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে না রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয়ভাবে কোনো প্রভাব বলয় বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠা রোধ করা। কিন্তু তারাগঞ্জে দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালনের কারণে এসব নীতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও সচেতন নাগরিক অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় শিক্ষা প্রশাসনে এক ধরনের একচ্ছত্র প্রভাব তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থাকার সুযোগে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছে। অতীতে তিনি পতিত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের আস্থাভাজন ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি বদলি নীতিমালা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর না হলে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়। তাই দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
তারাগঞ্জের শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহীনুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
সরকারি চাকরিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলির বিধান থাকলেও রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে তার ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে। সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহীনুর রহমান টানা ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অফিস সূত্রে জানা যায়, মো. শাহীনুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। এ সময়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাধিক কর্মকর্তা বদলি হয়ে এলেও তার দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে না রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয়ভাবে কোনো প্রভাব বলয় বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠা রোধ করা। কিন্তু তারাগঞ্জে দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালনের কারণে এসব নীতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও সচেতন নাগরিক অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় শিক্ষা প্রশাসনে এক ধরনের একচ্ছত্র প্রভাব তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থাকার সুযোগে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছে। অতীতে তিনি পতিত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের আস্থাভাজন ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি বদলি নীতিমালা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর না হলে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়। তাই দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
তারাগঞ্জের শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহীনুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আপনার মতামত লিখুন