নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বাবার সঙ্গে নিজের স্ত্রীর দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও দেখার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন ত্বালহা (২২) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ত্বালহা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের তুড়ুকগ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রী তার বাবার বাড়ি বৈলশিং গ্রামে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে ত্বালহার বাবা তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তার স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করে আসছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত পবিত্র ঈদুল আজহার আগে একপর্যায়ে ত্বালহা তার বাবা ও স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের মোবাইল ফোনে কিছু ছবি ও ভিডিও দেখতে পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্বজনরা জানান, ঘটনার বিচার ও সমাধানের আশায় ত্বালহা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হন। ঈদের আগের রাতে বিষয়টি নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে তিনি সন্তোষজনক কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েন।
এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের দিন বিকেলে উপজেলার মনহরপুর এলাকায় বিষপান করেন ত্বালহা। পরে এক পথচারীকে বিষয়টি জানিয়ে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত বাবা তাইজুল ইসলাম পূর্বেও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। নিজের ছেলের সংসার ভাঙনের পেছনে বাবার ভূমিকার অভিযোগ তুলে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বাবার সঙ্গে নিজের স্ত্রীর দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও দেখার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন ত্বালহা (২২) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ত্বালহা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের তুড়ুকগ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রী তার বাবার বাড়ি বৈলশিং গ্রামে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে ত্বালহার বাবা তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তার স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করে আসছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত পবিত্র ঈদুল আজহার আগে একপর্যায়ে ত্বালহা তার বাবা ও স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের মোবাইল ফোনে কিছু ছবি ও ভিডিও দেখতে পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্বজনরা জানান, ঘটনার বিচার ও সমাধানের আশায় ত্বালহা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হন। ঈদের আগের রাতে বিষয়টি নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে তিনি সন্তোষজনক কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েন।
এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের দিন বিকেলে উপজেলার মনহরপুর এলাকায় বিষপান করেন ত্বালহা। পরে এক পথচারীকে বিষয়টি জানিয়ে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত বাবা তাইজুল ইসলাম পূর্বেও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। নিজের ছেলের সংসার ভাঙনের পেছনে বাবার ভূমিকার অভিযোগ তুলে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন