ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ আইয়ুব আলী। একসময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের সাহসী মুখ হিসেবে পরিচিত এই নেতা আজ মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অথচ যে দল ও আদর্শের জন্য জীবনের মূল্যবান সময়, পরিবার এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করেছিলেন, আজ সেই দলের ক্ষমতায় থাকার সময়েও তার খোঁজখবর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইয়ুব আলীকে নিয়ে তার এক সাবেক জেলসঙ্গী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধার আবেগঘন একটি পোস্ট ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পোস্টটিতে আইয়ুবকে একজন আপসহীন ও ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় মাত্র ২৯ দিনের দুগ্ধপোষ্য সন্তান ও অসুস্থ স্ত্রীকে ঘরে রেখে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৫৯ দিন কারাবরণ করতে হয়েছিল তাকে।
শুধু কারাবরণই নয়, আন্দোলন-সংগ্রামের নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে বহুবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আইয়ুব। রুহিয়ায় এক রাজনৈতিক সংঘর্ষে ইট-পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরবর্তীতে সেই আঘাতজনিত জটিলতা থেকেই তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে বলে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া পোস্টে আক্ষেপ করে বলা হয়, দলের দুঃসময়ে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, ক্ষমতায় আসার পর তাদের অনেকেই আজ অবহেলার শিকার। পোস্টদাতা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আইয়ুবের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে যারা দলকে টিকিয়ে রাখতে জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো কি দলের নৈতিক দায়িত্ব নয়?
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা তাদের পক্ষে সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রতিটি দিন যেন আইয়ুব ও তার পরিবারের জন্য নতুন এক অনিশ্চয়তার নাম।
রুহিয়ার সাধারণ মানুষ, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—দলের এই পরীক্ষিত সৈনিকের জীবন বাঁচাতে সরকার ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে। কারণ রাজনীতির ইতিহাসে আইয়ুব আলীদের মতো ত্যাগী কর্মীরাই আন্দোলনের শক্ত ভিত গড়ে দেন। আর সেই মানুষগুলো যখন অসহায় হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতাও।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ আইয়ুব আলী। একসময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের সাহসী মুখ হিসেবে পরিচিত এই নেতা আজ মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অথচ যে দল ও আদর্শের জন্য জীবনের মূল্যবান সময়, পরিবার এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করেছিলেন, আজ সেই দলের ক্ষমতায় থাকার সময়েও তার খোঁজখবর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইয়ুব আলীকে নিয়ে তার এক সাবেক জেলসঙ্গী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধার আবেগঘন একটি পোস্ট ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পোস্টটিতে আইয়ুবকে একজন আপসহীন ও ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় মাত্র ২৯ দিনের দুগ্ধপোষ্য সন্তান ও অসুস্থ স্ত্রীকে ঘরে রেখে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৫৯ দিন কারাবরণ করতে হয়েছিল তাকে।
শুধু কারাবরণই নয়, আন্দোলন-সংগ্রামের নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে বহুবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আইয়ুব। রুহিয়ায় এক রাজনৈতিক সংঘর্ষে ইট-পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরবর্তীতে সেই আঘাতজনিত জটিলতা থেকেই তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে বলে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া পোস্টে আক্ষেপ করে বলা হয়, দলের দুঃসময়ে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, ক্ষমতায় আসার পর তাদের অনেকেই আজ অবহেলার শিকার। পোস্টদাতা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আইয়ুবের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে যারা দলকে টিকিয়ে রাখতে জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো কি দলের নৈতিক দায়িত্ব নয়?
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা তাদের পক্ষে সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রতিটি দিন যেন আইয়ুব ও তার পরিবারের জন্য নতুন এক অনিশ্চয়তার নাম।
রুহিয়ার সাধারণ মানুষ, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—দলের এই পরীক্ষিত সৈনিকের জীবন বাঁচাতে সরকার ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে। কারণ রাজনীতির ইতিহাসে আইয়ুব আলীদের মতো ত্যাগী কর্মীরাই আন্দোলনের শক্ত ভিত গড়ে দেন। আর সেই মানুষগুলো যখন অসহায় হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতাও।

আপনার মতামত লিখুন