যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে লালমনিরহাটে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এই প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে উপস্থিত খতীবের বিশেষ বয়ান ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) শুভেচ্ছা বক্তব্য উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে এক আবেগঘন এবং উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি ও খুতবা পাঠ করেন হাফেজ মাওলানা মুফতি তাওহিদুল ইসলাম নুরী। নামাজপূর্ব ও নামাজ-পরবর্তী বয়ানে তিনি ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা ও ত্যাগের মহিমা তুলে ধরেন।
খতীব তাঁর বয়ানে বলেন: "কোরবানি শুধু পশু জবেহ করার নাম নয়, কোরবানি হলো নিজের ভেতরের অহংকার, হিংসা ও পশুবৃত্তিকে বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যম। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর সেই মহান ত্যাগের আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমাদের সমাজ থেকে অন্যায় ও বৈষম্য দূর করতে হবে। ঈদের এই আনন্দ যেন কেবল ধনীক শ্রেণীর মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে, আমাদের আশেপাশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খোঁজ নেওয়া এবং কোরবানির গোশত সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা আমাদের ধর্মীয় দায়িত্ব।
বয়ানের পর তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশেষ করে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
নামাজ ও মোনাজাত শেষে ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি)। তিনি জেলার সর্বস্তরের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন জেলা গড়ার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন: "আমি লালমনিরহাটের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণকে পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ঈদ আমাদের মাঝে শান্তি, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে আসে। প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে আছে।
কোরবানি সম্পন্ন করার পাশাপাশি আমাদের পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, যত্রতত্র কোরবানির বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন এবং দ্রুত রক্ত ও আবর্জনা পরিষ্কারে পৌরসভা ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। আসুন, সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও শান্তিময় লালমনিরহাট গড়ে তুলি। ঈদ মোবারক!
নামাজ শেষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পৌর প্রশাসকসহ উপস্থিত অতিথিগণ সাধারণ মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। মুসল্লিরাও একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন। মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় সাধারণ জনগণের সাথে কথা বললে তারা জানান, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, চমৎকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও খতীবের বয়ানে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন উপস্থিত সকলে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে লালমনিরহাটে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এই প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে উপস্থিত খতীবের বিশেষ বয়ান ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) শুভেচ্ছা বক্তব্য উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে এক আবেগঘন এবং উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি ও খুতবা পাঠ করেন হাফেজ মাওলানা মুফতি তাওহিদুল ইসলাম নুরী। নামাজপূর্ব ও নামাজ-পরবর্তী বয়ানে তিনি ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা ও ত্যাগের মহিমা তুলে ধরেন।
খতীব তাঁর বয়ানে বলেন: "কোরবানি শুধু পশু জবেহ করার নাম নয়, কোরবানি হলো নিজের ভেতরের অহংকার, হিংসা ও পশুবৃত্তিকে বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যম। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর সেই মহান ত্যাগের আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমাদের সমাজ থেকে অন্যায় ও বৈষম্য দূর করতে হবে। ঈদের এই আনন্দ যেন কেবল ধনীক শ্রেণীর মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে, আমাদের আশেপাশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খোঁজ নেওয়া এবং কোরবানির গোশত সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা আমাদের ধর্মীয় দায়িত্ব।
বয়ানের পর তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশেষ করে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
নামাজ ও মোনাজাত শেষে ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি)। তিনি জেলার সর্বস্তরের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন জেলা গড়ার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন: "আমি লালমনিরহাটের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণকে পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ঈদ আমাদের মাঝে শান্তি, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে আসে। প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে আছে।
কোরবানি সম্পন্ন করার পাশাপাশি আমাদের পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, যত্রতত্র কোরবানির বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন এবং দ্রুত রক্ত ও আবর্জনা পরিষ্কারে পৌরসভা ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। আসুন, সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও শান্তিময় লালমনিরহাট গড়ে তুলি। ঈদ মোবারক!
নামাজ শেষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পৌর প্রশাসকসহ উপস্থিত অতিথিগণ সাধারণ মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। মুসল্লিরাও একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন। মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় সাধারণ জনগণের সাথে কথা বললে তারা জানান, সুশৃঙ্খল পরিবেশ, চমৎকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও খতীবের বয়ানে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন উপস্থিত সকলে।

আপনার মতামত লিখুন