দৈনিক উত্তরের নিউজ
আপডেট : সোমবার, ১১ মে ২০২৬

তারিখ=০৯/০৮/২০২৬ ইং  বন্দরের রাস্তার ফোরলেন কাজের উদ্ভোধন করলেন ডা. জাহিদ

তারিখ=০৯/০৮/২০২৬ ইং বন্দরের রাস্তার ফোরলেন কাজের উদ্ভোধন করলেন ডা. জাহিদ

ছাত্রদল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে ৩৫ বছরের সংগ্রাম—১৬ মামলার ঝড় পেরিয়ে এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেই শিক্ষক নেতা

ছাত্রদল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে ৩৫ বছরের সংগ্রাম—১৬ মামলার ঝড় পেরিয়ে এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেই শিক্ষক নেতা

মদনে ইজারার নামে চাঁদা আদায়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি

মদনে ইজারার নামে চাঁদা আদায়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি

ইউএনওকে জানানোর পরও ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহ  কাজীর ‘খসড়া বিয়ে’ বক্তব্যে বিতর্ক, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ইউএনওকে জানানোর পরও ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহ কাজীর ‘খসড়া বিয়ে’ বক্তব্যে বিতর্ক, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ক্রয় কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও রোপণ কিত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ক্রয় কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও রোপণ কিত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে

১১দফা দাবীতে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিপ্রদান

১১দফা দাবীতে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিপ্রদান

তিস্তার আকস্মিক বন্যায় ভেঙে গেল সড়ক, ভোগান্তিতে ২ হাজার পরিবার

তিস্তার আকস্মিক বন্যায় ভেঙে গেল সড়ক, ভোগান্তিতে ২ হাজার পরিবার

ছাতকে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছাতকে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অস্তিত্বহীন প্রভাষক দিয়ে সত্যায়ন: ফেঁসে যাচ্ছেন হোমিওপ্যাথিক কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ

অস্তিত্বহীন প্রভাষক দিয়ে সত্যায়ন: ফেঁসে যাচ্ছেন হোমিওপ্যাথিক কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ

দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ ডা. আশিক কুমার রায়ের বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতি, ভুয়া সত্যায়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার ছয় মাস আগেই এক ‘অস্তিত্বহীন’ প্রভাষককে দিয়ে সেসব কাগজপত্র সত্যায়ন করিয়েছেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে উত্তাপিত এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডা. আশিক কুমার রায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড থেকে (ডিএইচএমএস) সার্টিফিকেট অর্জন করেন ১২ মে ২০১০ তারিখে। অথচ তিনি সেই সার্টিফিকেটটি ৩১ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে দিনাজপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জনৈক মুতাঞ্জা আলীকে দিয়ে সত্যায়িত করান। অর্থাৎ মূল সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগেই সেটি সত্যায়িত করা হয়েছে!

ঘটনার তদন্তে দিনাজপুর সরকারি কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন ৩১/০৩/২০১৮ তারিখে দিসক/দিনাজ/২-২/৬৮৯ নং স্মারকে এক চিঠিতে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে, ওই কলেজে মুতাঞ্জা আলী নামে কোনো প্রভাষক কখনোই কর্মরত ছিলেন না। বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট পাওয়ার আগেই অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে দিয়ে তা সত্যায়ন করা ফৌজদারি অপরাধ ও জালিয়াতির শামিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, আশিক রায় ইতিপূর্বে ঠাকুরগাঁও হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে কোনো ছাড়পত্র বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক কলেজে যোগদান করেন। এর মাত্র কয়েক মাস পরেই ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি বেআইনিভাবে সহকারী অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতির আবেদন করেন। তদন্তকালে ঠাকুরগাঁও কলেজের নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথিপত্রও তিনি দেখাতে পারেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এই শিক্ষক দিনাজপুর ৩ আসনের সাবেক এমপি হুইপ ইকবালুর রহিমের প্রভাব খািটিয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অধ্যক্ষ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক ও উদ্ধত আচরণ করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানে ‘দ্বৈত শাসন’ কায়েমের অপচেষ্টা এবং শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের শিক্ষককে পদোন্নতি দিলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।

দুদক আয়োজিত গণশুনানিতে এসব অনিয়ম তুলে ধরলে প্রশাসনের টনক নড়ে। এরই প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-আলম সিদ্দিকী ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তার নিজ কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে তলব করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যক্ষ ডা. আশিক কুমার রায় কনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস.এম হাবিবুল হাসান এ প্রতিনিধিকে জানান, এ ব্যাপারে হোমিওপ্যাথি কাউন্সিল বোর্ড ঢাকায় (চিঠি) পাঠানো হয়েছে, ওখান থেকে চিঠি আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে আসীন থেকে যারা নগ্ন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের কেবল পদোন্নতি বন্ধ নয়, বরং দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


অস্তিত্বহীন প্রভাষক দিয়ে সত্যায়ন: ফেঁসে যাচ্ছেন হোমিওপ্যাথিক কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image




দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ ডা. আশিক কুমার রায়ের বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতি, ভুয়া সত্যায়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার ছয় মাস আগেই এক ‘অস্তিত্বহীন’ প্রভাষককে দিয়ে সেসব কাগজপত্র সত্যায়ন করিয়েছেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানিতে উত্তাপিত এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডা. আশিক কুমার রায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড থেকে (ডিএইচএমএস) সার্টিফিকেট অর্জন করেন ১২ মে ২০১০ তারিখে। অথচ তিনি সেই সার্টিফিকেটটি ৩১ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে দিনাজপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জনৈক মুতাঞ্জা আলীকে দিয়ে সত্যায়িত করান। অর্থাৎ মূল সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগেই সেটি সত্যায়িত করা হয়েছে!

ঘটনার তদন্তে দিনাজপুর সরকারি কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন ৩১/০৩/২০১৮ তারিখে দিসক/দিনাজ/২-২/৬৮৯ নং স্মারকে এক চিঠিতে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে, ওই কলেজে মুতাঞ্জা আলী নামে কোনো প্রভাষক কখনোই কর্মরত ছিলেন না। বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট পাওয়ার আগেই অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে দিয়ে তা সত্যায়ন করা ফৌজদারি অপরাধ ও জালিয়াতির শামিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, আশিক রায় ইতিপূর্বে ঠাকুরগাঁও হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে কোনো ছাড়পত্র বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক কলেজে যোগদান করেন। এর মাত্র কয়েক মাস পরেই ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি বেআইনিভাবে সহকারী অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতির আবেদন করেন। তদন্তকালে ঠাকুরগাঁও কলেজের নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথিপত্রও তিনি দেখাতে পারেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এই শিক্ষক দিনাজপুর ৩ আসনের সাবেক এমপি হুইপ ইকবালুর রহিমের প্রভাব খািটিয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অধ্যক্ষ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক ও উদ্ধত আচরণ করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানে ‘দ্বৈত শাসন’ কায়েমের অপচেষ্টা এবং শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের শিক্ষককে পদোন্নতি দিলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।

দুদক আয়োজিত গণশুনানিতে এসব অনিয়ম তুলে ধরলে প্রশাসনের টনক নড়ে। এরই প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-আলম সিদ্দিকী ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তার নিজ কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে তলব করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যক্ষ ডা. আশিক কুমার রায় কনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস.এম হাবিবুল হাসান এ প্রতিনিধিকে জানান, এ ব্যাপারে হোমিওপ্যাথি কাউন্সিল বোর্ড ঢাকায় (চিঠি) পাঠানো হয়েছে, ওখান থেকে চিঠি আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে আসীন থেকে যারা নগ্ন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের কেবল পদোন্নতি বন্ধ নয়, বরং দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।




দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ