সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণ করে স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষার দাবিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘এসডিএফ কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’।
রোববার (১০ মে) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এসডিএফ প্রধান কার্যালয়ের যুব ও কর্মসংস্থান বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার ফৌজিয়া তৌহিদ।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংস্থার এইচআর পলিসি লঙ্ঘন করেছেন। তিনি ৬০ বছর বয়সী সাবেক এনবিআর নিরীক্ষক নুরুল আমিনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। বর্তমানে তার বয়স ৬২ বছর পার হলেও বেআইনিভাবে তাকে পদে বহাল রেখে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে, যা সংস্থার নীতিমালা ও ভবিষ্য তহবিল বিধির পরিপন্থী।
চলমান আরইএলআই (RELI) প্রকল্পের আওতায় ৩,২০০টি গ্রাম সমিতির জন্য ল্যাপটপ ক্রয়ে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাম সমিতিগুলোর নিজস্ব তদারকিতে ল্যাপটপ কেনার কথা থাকলেও, চেয়ারম্যান ও এমডি সিন্ডিকেট স্থানীয় দরপত্র বাতিল করে নিম্নমানের ল্যাপটপ সরবরাহ নিশ্চিত করেন। এর মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
যুব প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে ১ কোটি টাকা বেশি মূল্যে ‘ইউসেপ বাংলাদেশ’-কে কাজ দেওয়া হয়েছে, যেখানে চেয়ারম্যান নিজেই বোর্ড সদস্য হিসেবে যুক্ত। এছাড়া দক্ষ জনবলকে পরবর্তী প্রকল্পে পদায়ন করার দীর্ঘদিনের নিয়ম ভেঙে নতুন করে ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ পায়তারা চলছে। সম্প্রতি এসসিএমএফপি (SCMFP) প্রকল্পের ৩২০ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করায় বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১,২০০ কর্মকর্তার মধ্যে কর্মহীন হওয়ার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ‘বিশ্বব্যাংক’ চলমান আরইএলআই প্রকল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে অনীহা প্রকাশ করায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এসডিএফ-এর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং ১৮.৫০ লাখ দরিদ্র মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি বন্ধ করতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও এমডির দ্রুত অপসারণ জরুরি। তাদের স্থলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিয়োগ দিয়ে সংস্থার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এসডিএফ-এর পরিচালক (অপারেশন) মোঃ লুৎফর রহমান, আঞ্চলিক পরিচালক (কুমিল্লা) মীম জুলফিকার, জেনারেল ম্যানেজার (আইসিবি) এসএম তৌহিদুর রহমান, জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর ) মোঃ শহীদুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসডিএফ কর্মচারী ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ আব্দুল লতীফ।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণ করে স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষার দাবিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘এসডিএফ কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’।
রোববার (১০ মে) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এসডিএফ প্রধান কার্যালয়ের যুব ও কর্মসংস্থান বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার ফৌজিয়া তৌহিদ।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংস্থার এইচআর পলিসি লঙ্ঘন করেছেন। তিনি ৬০ বছর বয়সী সাবেক এনবিআর নিরীক্ষক নুরুল আমিনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। বর্তমানে তার বয়স ৬২ বছর পার হলেও বেআইনিভাবে তাকে পদে বহাল রেখে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে, যা সংস্থার নীতিমালা ও ভবিষ্য তহবিল বিধির পরিপন্থী।
চলমান আরইএলআই (RELI) প্রকল্পের আওতায় ৩,২০০টি গ্রাম সমিতির জন্য ল্যাপটপ ক্রয়ে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাম সমিতিগুলোর নিজস্ব তদারকিতে ল্যাপটপ কেনার কথা থাকলেও, চেয়ারম্যান ও এমডি সিন্ডিকেট স্থানীয় দরপত্র বাতিল করে নিম্নমানের ল্যাপটপ সরবরাহ নিশ্চিত করেন। এর মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
যুব প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে ১ কোটি টাকা বেশি মূল্যে ‘ইউসেপ বাংলাদেশ’-কে কাজ দেওয়া হয়েছে, যেখানে চেয়ারম্যান নিজেই বোর্ড সদস্য হিসেবে যুক্ত। এছাড়া দক্ষ জনবলকে পরবর্তী প্রকল্পে পদায়ন করার দীর্ঘদিনের নিয়ম ভেঙে নতুন করে ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ পায়তারা চলছে। সম্প্রতি এসসিএমএফপি (SCMFP) প্রকল্পের ৩২০ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করায় বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১,২০০ কর্মকর্তার মধ্যে কর্মহীন হওয়ার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ‘বিশ্বব্যাংক’ চলমান আরইএলআই প্রকল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে অনীহা প্রকাশ করায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এসডিএফ-এর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং ১৮.৫০ লাখ দরিদ্র মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি বন্ধ করতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও এমডির দ্রুত অপসারণ জরুরি। তাদের স্থলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিয়োগ দিয়ে সংস্থার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এসডিএফ-এর পরিচালক (অপারেশন) মোঃ লুৎফর রহমান, আঞ্চলিক পরিচালক (কুমিল্লা) মীম জুলফিকার, জেনারেল ম্যানেজার (আইসিবি) এসএম তৌহিদুর রহমান, জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর ) মোঃ শহীদুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসডিএফ কর্মচারী ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ আব্দুল লতীফ।

আপনার মতামত লিখুন