দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক কলেজছাত্রী ভাতিজি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামে প্রেমিক শাহিনুর রহমান শাহিনের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন ওই ছাত্রী। তিনি স্থানীয় একটি মহিলা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার প্রতিবেশী আবু সামার ছেলে শাহিনুর রহমান শাহিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি ওই ছাত্রীর। অভিযোগ অনুযায়ী, শাহিন নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি হঠাৎ করেই শাহিন যোগাযোগ বন্ধ করে অন্যত্র বিয়ে করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান বলেও জানা গেছে। পরে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে এসে তিনি আবারও শাহিনের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন।অনশনরত ওই ছাত্রী বলেন, “সে আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত; আমাদের সম্পর্কের প্রমাণও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সবকিছু অস্বীকার করে অন্য জায়গায় বিয়ে করেছে। আমি বিষ খেয়েছি; তবুও আমি সতীনের সংসার করব। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”মেয়ের বাবা বলেন, “আমার মেয়ে ওইখানে গেছে। ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে হবে, ওইখানেই খাবে। যেদিন ওই ছেলের বিয়ে হয়, সেদিন মেম্বার মানা করেছিলেন; তারপরও সে জোর করে বিয়ে করেছে।”
মেয়ের মা বলেন, “ওই ছেলে আমাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত। সে বলত, আমার মেয়ের মতো মেয়ে পেলে বিয়ে করত।”অন্যদিকে, শাহিনের পরিবার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। শাহিনের মা ছাফিনা বেগম বলেন, “ আমার ছেলে বিয়ে করেছে।আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র মেয়েটিকে ব্যবহার করছে। আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে।”
শাহিনের বোন আফরোজা আক্তার দাবি করেন, “কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমারা বাড়ি করছি
এত তাদের নজর থাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তারা জড়িয়েছে।”এ বিষয়ে শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, “তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না। আমাকে ফাঁসানো এবং সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মেয়েটি অসুস্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষকে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল; তবে তা মানা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর বাসেত সরদার জানান, “মেয়েটির সঙ্গে আমাদের কথা বলতে হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক কলেজছাত্রী ভাতিজি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামে প্রেমিক শাহিনুর রহমান শাহিনের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন ওই ছাত্রী। তিনি স্থানীয় একটি মহিলা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার প্রতিবেশী আবু সামার ছেলে শাহিনুর রহমান শাহিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি ওই ছাত্রীর। অভিযোগ অনুযায়ী, শাহিন নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি হঠাৎ করেই শাহিন যোগাযোগ বন্ধ করে অন্যত্র বিয়ে করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান বলেও জানা গেছে। পরে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে এসে তিনি আবারও শাহিনের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন।অনশনরত ওই ছাত্রী বলেন, “সে আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত; আমাদের সম্পর্কের প্রমাণও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সবকিছু অস্বীকার করে অন্য জায়গায় বিয়ে করেছে। আমি বিষ খেয়েছি; তবুও আমি সতীনের সংসার করব। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”মেয়ের বাবা বলেন, “আমার মেয়ে ওইখানে গেছে। ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে হবে, ওইখানেই খাবে। যেদিন ওই ছেলের বিয়ে হয়, সেদিন মেম্বার মানা করেছিলেন; তারপরও সে জোর করে বিয়ে করেছে।”
মেয়ের মা বলেন, “ওই ছেলে আমাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত। সে বলত, আমার মেয়ের মতো মেয়ে পেলে বিয়ে করত।”অন্যদিকে, শাহিনের পরিবার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। শাহিনের মা ছাফিনা বেগম বলেন, “ আমার ছেলে বিয়ে করেছে।আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র মেয়েটিকে ব্যবহার করছে। আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে।”
শাহিনের বোন আফরোজা আক্তার দাবি করেন, “কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমারা বাড়ি করছি
এত তাদের নজর থাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তারা জড়িয়েছে।”এ বিষয়ে শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, “তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না। আমাকে ফাঁসানো এবং সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “মেয়েটি অসুস্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষকে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল; তবে তা মানা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর বাসেত সরদার জানান, “মেয়েটির সঙ্গে আমাদের কথা বলতে হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন