আন্দোলনের ফসল উপাচার্য, কিন্তু লক্ষ্য কি অর্জিত? ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক মাসব্যাপী আন্দোলনের মুখে জবি শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। একে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, দেড় বছর পর শিক্ষার্থীদের মনে এখন হতাশা। যদিও প্রশাসন গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি থেকে বের হওয়া এবং 'জকসু' বাস্তবায়নের মতো কিছু সাফল্য দেখিয়েছে, তবে শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের প্রধান দাবিগুলো এখনো কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ।
কোষাধ্যক্ষের দায় নিয়ে প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান অংশীদার হলেন কোষাধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, 'যমুনা আন্দোলন'-এর মাধ্যমে আদায় করা আবাসন বৃত্তি এক বছর আগে সরকার অনুমোদন দিলেও তা এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। বৃত্তির জন্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে এই দীর্ঘসূত্রতাকে কোষাধ্যক্ষ দপ্তরের চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা প্রশ্ন তুলছেন—প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে থেকে এই দায় কি তিনি এড়াতে পারেন?
দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও আবাসন সংকট নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই , কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি বা কাজের রোডম্যাপ প্রকাশ না করায় ক্ষোভ বাড়ছে। আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বৃত্তির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঢাকার ব্যয়বহুল জীবনযাত্রায় পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৩য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, "আমরা আমাদের শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য চেয়েছিলাম এই আশায় যে তারা আমাদের সমস্যাগুলো বুঝবেন। কিন্তু দেড় বছরেও আবাসন বৃত্তির টাকা না পাওয়া এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্থবিরতা প্রমাণ করে বর্তমান প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় উপাচার্য যেমন এড়াতে পারেন না, তেমনি কোষাধ্যক্ষও তার প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে দায়মুক্ত নন।"
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, "কোষাধ্যক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। আমি মনে করি বিগত উপাচার্যের মতো তিনিও ব্যর্থ। বিগত প্রশাসন শুধু ফাইল চালাচালি করেই কালক্ষেপণ করেছে।"
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, "বিগত প্রশাসনের সকল কার্যক্রমে তিনি (কোষাধ্যক্ষ) নীরব ছিলেন, তার মানে তার উপরও কিছুটা দায় বর্তায়। তিনি কখনোই এটি এড়িয়ে যেতে পারেন না।"
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ক্যাম্পাসে আবারও বড় ধরনের অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিগত প্রশাসনের অংশীদার হিসেবে এই ব্যর্থতার দায়ভার আপনার ওপরও বর্তায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, "বর্তমান প্রশাসনকে এত অল্প সময়ে ব্যর্থ বলা যাবে না। আবাসন বৃত্তি নিয়ে আমরা ইউজিসিতে ফাইল নিয়ে অনেকবার মিটিং করেছি। শিক্ষার্থীরা যাতে দ্রুততম সময়ে বৃত্তির অর্থ পায়, সেজন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এখানে দাপ্তরিক গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই।"কাজের অগ্রগতি বিষয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিগত সরকারের সময়ে বাতিল হওয়া ২য় ক্যাম্পাসের ১ম পর্যায়ের কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া ২য় ক্যাম্পাসের আরডিপিপি অনুমোদন ও ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি, গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, নতুন দুইটি হল নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা, ফুডকোর্ট চালু, লাইব্রেরিতে এসি স্থাপন, ছাত্র আবাসন ও বৃত্তির জন্য ৩০ কোটি টাকার চিঠি এবং অডিটোরিয়াম আধুনিকায়নসহ শিক্ষার্থীদের থিসিস বৃত্তির মতো বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
আন্দোলনের ফসল উপাচার্য, কিন্তু লক্ষ্য কি অর্জিত? ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক মাসব্যাপী আন্দোলনের মুখে জবি শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। একে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, দেড় বছর পর শিক্ষার্থীদের মনে এখন হতাশা। যদিও প্রশাসন গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি থেকে বের হওয়া এবং 'জকসু' বাস্তবায়নের মতো কিছু সাফল্য দেখিয়েছে, তবে শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের প্রধান দাবিগুলো এখনো কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ।
কোষাধ্যক্ষের দায় নিয়ে প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান অংশীদার হলেন কোষাধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, 'যমুনা আন্দোলন'-এর মাধ্যমে আদায় করা আবাসন বৃত্তি এক বছর আগে সরকার অনুমোদন দিলেও তা এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। বৃত্তির জন্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে এই দীর্ঘসূত্রতাকে কোষাধ্যক্ষ দপ্তরের চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা প্রশ্ন তুলছেন—প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে থেকে এই দায় কি তিনি এড়াতে পারেন?
দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও আবাসন সংকট নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই , কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি বা কাজের রোডম্যাপ প্রকাশ না করায় ক্ষোভ বাড়ছে। আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বৃত্তির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঢাকার ব্যয়বহুল জীবনযাত্রায় পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৩য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, "আমরা আমাদের শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য চেয়েছিলাম এই আশায় যে তারা আমাদের সমস্যাগুলো বুঝবেন। কিন্তু দেড় বছরেও আবাসন বৃত্তির টাকা না পাওয়া এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্থবিরতা প্রমাণ করে বর্তমান প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় উপাচার্য যেমন এড়াতে পারেন না, তেমনি কোষাধ্যক্ষও তার প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে দায়মুক্ত নন।"
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, "কোষাধ্যক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। আমি মনে করি বিগত উপাচার্যের মতো তিনিও ব্যর্থ। বিগত প্রশাসন শুধু ফাইল চালাচালি করেই কালক্ষেপণ করেছে।"
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, "বিগত প্রশাসনের সকল কার্যক্রমে তিনি (কোষাধ্যক্ষ) নীরব ছিলেন, তার মানে তার উপরও কিছুটা দায় বর্তায়। তিনি কখনোই এটি এড়িয়ে যেতে পারেন না।"
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ক্যাম্পাসে আবারও বড় ধরনের অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিগত প্রশাসনের অংশীদার হিসেবে এই ব্যর্থতার দায়ভার আপনার ওপরও বর্তায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, "বর্তমান প্রশাসনকে এত অল্প সময়ে ব্যর্থ বলা যাবে না। আবাসন বৃত্তি নিয়ে আমরা ইউজিসিতে ফাইল নিয়ে অনেকবার মিটিং করেছি। শিক্ষার্থীরা যাতে দ্রুততম সময়ে বৃত্তির অর্থ পায়, সেজন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এখানে দাপ্তরিক গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই।"কাজের অগ্রগতি বিষয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিগত সরকারের সময়ে বাতিল হওয়া ২য় ক্যাম্পাসের ১ম পর্যায়ের কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া ২য় ক্যাম্পাসের আরডিপিপি অনুমোদন ও ২০২৬ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি, গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, নতুন দুইটি হল নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা, ফুডকোর্ট চালু, লাইব্রেরিতে এসি স্থাপন, ছাত্র আবাসন ও বৃত্তির জন্য ৩০ কোটি টাকার চিঠি এবং অডিটোরিয়াম আধুনিকায়নসহ শিক্ষার্থীদের থিসিস বৃত্তির মতো বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন