সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের খামার ভিটায় টিলার ওপর গড়ে ওঠা,বাচ্চু নগর পিকনিক স্পটে' ঈদের দিন এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া "পর্যটকদের ওপর হামলা" সংক্রান্ত খবরটি সরেজমিনে তদন্তে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি স্থানীয়দের।
মূলত স্থানীয় কিছু উশৃঙ্খল যুবকের সাথে টিকেট কাউন্টার কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা থেকেই এই মারামারির সূত্রপাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেলে স্থানীয় খামার ভিটা গ্রামের নজরুল ইসলাম এর ছেলে নাঈম,সাকিব,তুহিন,ও ফয়জুল হকের ছেলে তুহা গং দলবল নিয়ে পিকনিক স্পটে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায়। টিকেট কাউন্টারে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা তাদের স্থানীয় হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করে জানান যে, বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের ভিড় বেশি হওয়ায় তাদের আগে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের জন্য সবসময়ই বিশেষ সুবিধা থাকে, তাই তাদের কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করা হয়।
কিন্তু নাঈম,সাকিব,ও তুহিনরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে টিকেট ছাড়াই তাৎক্ষণিক প্রবেশের জন্য হট্টগোল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে কাউন্টার ও পিকনিক স্পটের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
এলাকার প্রবীণ ও প্রত্যক্ষদর্শী আয়ূব আলী, মতিন মিয়া, শাওন মিয়া জানান,সামাজিক মাধ্যমে যা রটানো হচ্ছে তা মিথ্যা। যারা মারামারি করেছে তারা কেউ পর্যটক নয়, সবাই এই এলাকারই ছেলে। তারা মাঝেমধ্যেই স্থানীয় শক্তি দেখিয়ে পিকনিক স্পটে ঢুকে বিশৃঙ্খলা ও নানা অপকর্ম করার চেষ্টা করে। কর্তৃপক্ষ বাধা দিলেই তারা ঝগড়া বাধায়। ঈদের দিনও একই ঘটনা ঘটেছে।"
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
পিকনিক স্পটের মালিক বাচ্চু মেম্বার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"আমার এই পিকনিক স্পটে স্থানীয় লোকজন, চালক ও ভিআইপিদের জন্য পাস কার্ডের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু একটি বিশেষ মহল আমার এই প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। নারায়ণতলার খামার ভিটায় সারা দেশ থেকে পর্যটকরা আসেন, এতে আমাদের ইউনিয়নের সুনাম হয়। কিন্তু কিছু লোক এই সুনাম নষ্ট করতে পর্যটকের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদি কোনো পর্যটকের ওপর হামলা হয়ে থাকে, তবে আইন আমাকে শাস্তি দিলে আমি তা মেনে নেব। কিন্তু যারা হামলা করেছে তারা স্থানীয় বখাটে।
আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ করব—আপনারা সত্য ঘটনাটি তুলে ধরুন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হামলার বিচার চাই।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ জানান, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্যটকদের ওপর হামলার যে খবরটি ছড়িয়েছে তা সঠিক নয় তা রংঙ্গানো হয়েছে।
মূলত স্থানীয় কিছু ছেলের সাথে টিকেট কেনা ও প্রবেশ করা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়েছে। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিক পৌঁছাতে না পারলেও বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। আইনবহির্ভূত কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ওই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে অপপ্রচার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের খামার ভিটায় টিলার ওপর গড়ে ওঠা,বাচ্চু নগর পিকনিক স্পটে' ঈদের দিন এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া "পর্যটকদের ওপর হামলা" সংক্রান্ত খবরটি সরেজমিনে তদন্তে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি স্থানীয়দের।
মূলত স্থানীয় কিছু উশৃঙ্খল যুবকের সাথে টিকেট কাউন্টার কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা থেকেই এই মারামারির সূত্রপাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিকেলে স্থানীয় খামার ভিটা গ্রামের নজরুল ইসলাম এর ছেলে নাঈম,সাকিব,তুহিন,ও ফয়জুল হকের ছেলে তুহা গং দলবল নিয়ে পিকনিক স্পটে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায়। টিকেট কাউন্টারে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা তাদের স্থানীয় হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করে জানান যে, বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের ভিড় বেশি হওয়ায় তাদের আগে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের জন্য সবসময়ই বিশেষ সুবিধা থাকে, তাই তাদের কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করা হয়।
কিন্তু নাঈম,সাকিব,ও তুহিনরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে টিকেট ছাড়াই তাৎক্ষণিক প্রবেশের জন্য হট্টগোল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে কাউন্টার ও পিকনিক স্পটের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
এলাকার প্রবীণ ও প্রত্যক্ষদর্শী আয়ূব আলী, মতিন মিয়া, শাওন মিয়া জানান,সামাজিক মাধ্যমে যা রটানো হচ্ছে তা মিথ্যা। যারা মারামারি করেছে তারা কেউ পর্যটক নয়, সবাই এই এলাকারই ছেলে। তারা মাঝেমধ্যেই স্থানীয় শক্তি দেখিয়ে পিকনিক স্পটে ঢুকে বিশৃঙ্খলা ও নানা অপকর্ম করার চেষ্টা করে। কর্তৃপক্ষ বাধা দিলেই তারা ঝগড়া বাধায়। ঈদের দিনও একই ঘটনা ঘটেছে।"
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
পিকনিক স্পটের মালিক বাচ্চু মেম্বার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"আমার এই পিকনিক স্পটে স্থানীয় লোকজন, চালক ও ভিআইপিদের জন্য পাস কার্ডের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু একটি বিশেষ মহল আমার এই প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। নারায়ণতলার খামার ভিটায় সারা দেশ থেকে পর্যটকরা আসেন, এতে আমাদের ইউনিয়নের সুনাম হয়। কিন্তু কিছু লোক এই সুনাম নষ্ট করতে পর্যটকের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদি কোনো পর্যটকের ওপর হামলা হয়ে থাকে, তবে আইন আমাকে শাস্তি দিলে আমি তা মেনে নেব। কিন্তু যারা হামলা করেছে তারা স্থানীয় বখাটে।
আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ করব—আপনারা সত্য ঘটনাটি তুলে ধরুন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হামলার বিচার চাই।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ জানান, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্যটকদের ওপর হামলার যে খবরটি ছড়িয়েছে তা সঠিক নয় তা রংঙ্গানো হয়েছে।
মূলত স্থানীয় কিছু ছেলের সাথে টিকেট কেনা ও প্রবেশ করা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি হয়েছে। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিক পৌঁছাতে না পারলেও বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। আইনবহির্ভূত কোনো কাজ বরদাশত করা হবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ওই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে অপপ্রচার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন