দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

তারিখ=০৯/০৮/২০২৬ ইং  বন্দরের রাস্তার ফোরলেন কাজের উদ্ভোধন করলেন ডা. জাহিদ

তারিখ=০৯/০৮/২০২৬ ইং বন্দরের রাস্তার ফোরলেন কাজের উদ্ভোধন করলেন ডা. জাহিদ

ছাত্রদল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে ৩৫ বছরের সংগ্রাম—১৬ মামলার ঝড় পেরিয়ে এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেই শিক্ষক নেতা

ছাত্রদল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে ৩৫ বছরের সংগ্রাম—১৬ মামলার ঝড় পেরিয়ে এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেই শিক্ষক নেতা

মদনে ইজারার নামে চাঁদা আদায়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি

মদনে ইজারার নামে চাঁদা আদায়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি

ইউএনওকে জানানোর পরও ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহ  কাজীর ‘খসড়া বিয়ে’ বক্তব্যে বিতর্ক, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ইউএনওকে জানানোর পরও ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহ কাজীর ‘খসড়া বিয়ে’ বক্তব্যে বিতর্ক, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ক্রয় কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও রোপণ কিত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ক্রয় কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও রোপণ কিত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে

১১দফা দাবীতে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিপ্রদান

১১দফা দাবীতে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিপ্রদান

তিস্তার আকস্মিক বন্যায় ভেঙে গেল সড়ক, ভোগান্তিতে ২ হাজার পরিবার

তিস্তার আকস্মিক বন্যায় ভেঙে গেল সড়ক, ভোগান্তিতে ২ হাজার পরিবার

ছাতকে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছাতকে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সুনামগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকের রাজত্ব: টিআই-এর চ্যালেঞ্জ বনাম বাস্তব চিত্র।

সুনামগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকের রাজত্ব: টিআই-এর চ্যালেঞ্জ বনাম বাস্তব চিত্র।

​সুনামগঞ্জ পৌর শহরে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক ও অটো রিক্সার দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। যত্রতত্র পার্কিং আর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে শহর এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন রাস্তায় চলাচল করলেও ট্রাফিক বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা। এমনকি লাইসেন্সবিহীন গাড়ির অস্তিত্ব নিয়ে খোদ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) গণমাধ্যমকর্মীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এখন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

​কাগজে কলমে শ’য়ে, রাস্তায় হাজারে

​পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহরে চলাচলের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ মোট ১২০০টি ইজিবাইক এবং ১হাজার অটো রিক্সাকে নম্বর প্লেট বা লাইসেন্স প্রদান করেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরে বর্তমানে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ হাজার ইজিবাইক ও অটো রিক্সা অবাধে চলাচল করছে। এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ যানের কারণে শহরের আলফাত স্কয়ার, ট্রাফিক পয়েন্ট ও ডিএস রোডসহ প্রধান সড়কগুলোতে সারাদিনই স্থবিরতা বিরাজ করে।

​টিআই-এর চ্যালেঞ্জ ও সাংবাদিকের 'পুরস্কার'

​সম্প্রতি শহরের এই যানজট পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু হানিফের কাছে জানতে চান স্থানীয় পত্রিকা ‘সুনামগঞ্জের খবর’ ও ‘যমুনা টেলিভিশন’-এর সাংবাদিকরা। লাইসেন্সবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান না থাকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে টিআই আবু হানিফ তা অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দাবি করেন— “এই শহরে একটিও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চলে না।” তিনি আরও বলেন, যদি কেউ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি দেখাতে পারে, তবে তাকে তিনি পুরস্কৃত করবেন।

​ক্যামেরায় ধরা পড়লো থলের বিড়াল

​টিআই-এর এমন আত্মবিশ্বাসী চ্যালেঞ্জের পর অনুসন্ধানে নামেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা। ক্যামেরা নিয়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে দেখা যায়, শত শত ইজিবাইক ও অটো রিক্সার কোনো বৈধ কাগজপত্র বা নম্বর প্লেট নেই। অনেক গাড়িতে ভুয়া নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার অনেকগুলোতে কোনো নম্বরই নেই। সাংবাদিকদের ক্যামেরায় যখন একের পর এক লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ধরা পড়ছিল, তখন টিআই-এর সেই ‘পুরস্কার’ দেওয়ার দাবিটি শহরজুড়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।

​জনমনে প্রশ্ন: নেপথ্যে কি অন্য কিছু?

​প্রকাশ্য দিবালোকে হাজার হাজার অবৈধ গাড়ি ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে চলাচল করলেও টিআই কেন তা অস্বীকার করলেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহলের দাবি, এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ যান চলাচলের পেছনে ট্রাফিক বিভাগের কোনো 'যোগসাজশ' বা মাসোহারা আদায়ের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

​শহরবাসী এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন, সত্য সামনে আসার পর ট্রাফিক বিভাগ কি তাদের ভুল স্বীকার করে অবৈধ যানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, নাকি ‘পুরস্কার’ দেওয়ার নামে বিষয়টি এড়িয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


সুনামগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকের রাজত্ব: টিআই-এর চ্যালেঞ্জ বনাম বাস্তব চিত্র।

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image



​সুনামগঞ্জ পৌর শহরে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক ও অটো রিক্সার দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। যত্রতত্র পার্কিং আর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে শহর এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন রাস্তায় চলাচল করলেও ট্রাফিক বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা। এমনকি লাইসেন্সবিহীন গাড়ির অস্তিত্ব নিয়ে খোদ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) গণমাধ্যমকর্মীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এখন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।


​কাগজে কলমে শ’য়ে, রাস্তায় হাজারে

​পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহরে চলাচলের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ মোট ১২০০টি ইজিবাইক এবং ১হাজার অটো রিক্সাকে নম্বর প্লেট বা লাইসেন্স প্রদান করেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরে বর্তমানে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ হাজার ইজিবাইক ও অটো রিক্সা অবাধে চলাচল করছে। এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ যানের কারণে শহরের আলফাত স্কয়ার, ট্রাফিক পয়েন্ট ও ডিএস রোডসহ প্রধান সড়কগুলোতে সারাদিনই স্থবিরতা বিরাজ করে।


​টিআই-এর চ্যালেঞ্জ ও সাংবাদিকের 'পুরস্কার'

​সম্প্রতি শহরের এই যানজট পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু হানিফের কাছে জানতে চান স্থানীয় পত্রিকা ‘সুনামগঞ্জের খবর’ ও ‘যমুনা টেলিভিশন’-এর সাংবাদিকরা। লাইসেন্সবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান না থাকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে টিআই আবু হানিফ তা অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দাবি করেন— “এই শহরে একটিও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চলে না।” তিনি আরও বলেন, যদি কেউ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি দেখাতে পারে, তবে তাকে তিনি পুরস্কৃত করবেন।

​ক্যামেরায় ধরা পড়লো থলের বিড়াল

​টিআই-এর এমন আত্মবিশ্বাসী চ্যালেঞ্জের পর অনুসন্ধানে নামেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা। ক্যামেরা নিয়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে দেখা যায়, শত শত ইজিবাইক ও অটো রিক্সার কোনো বৈধ কাগজপত্র বা নম্বর প্লেট নেই। অনেক গাড়িতে ভুয়া নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার অনেকগুলোতে কোনো নম্বরই নেই। সাংবাদিকদের ক্যামেরায় যখন একের পর এক লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ধরা পড়ছিল, তখন টিআই-এর সেই ‘পুরস্কার’ দেওয়ার দাবিটি শহরজুড়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।

​জনমনে প্রশ্ন: নেপথ্যে কি অন্য কিছু?

​প্রকাশ্য দিবালোকে হাজার হাজার অবৈধ গাড়ি ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে চলাচল করলেও টিআই কেন তা অস্বীকার করলেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহলের দাবি, এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ যান চলাচলের পেছনে ট্রাফিক বিভাগের কোনো 'যোগসাজশ' বা মাসোহারা আদায়ের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

​শহরবাসী এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন, সত্য সামনে আসার পর ট্রাফিক বিভাগ কি তাদের ভুল স্বীকার করে অবৈধ যানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, নাকি ‘পুরস্কার’ দেওয়ার নামে বিষয়টি এড়িয়ে যাবে।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ