পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বইছে এক ভিন্নধর্মী উৎসবের হাওয়া। ক্লাস, পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক জীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন ছন্দ। সাহ্রি থেকে ইফতার—সবটা জুড়েই মিশে আছে তারুণ্যের প্রাণচাঞ্চল্য আর ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন।
খুবি ক্যাম্পাসের রমজানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখা যায় ইফতারের সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ,কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এবং শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে গোল হয়ে বসে শত শত শিক্ষার্থী ইফতার করেন।এখানে কেবল একই হলের শিক্ষার্থীরাই নন, বরং সিনিয়র-জুনিয়র ও বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের বন্ধুরা মিলে ইফতার ভাগ করে নেন।
বাসার আরামদায়ক পরিবেশ মিস করলেও হলের ডাইনিং বা ক্যান্টিনে সাহ্রি শিক্ষার্থীদের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা। গভীর রাতে দল বেঁধে খেতে যাওয়া আর একে অপরকে ডেকে তোলা এখন নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষ করে যারা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, তাদের কাছে এই 'গ্রুপ সাহ্রি' জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সন্ধ্যায় ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো মারুফ বিল্লাহ'দৈনিক উত্তরে নিউজ'কে বলেন,"সবচেয়ে বেশি মিস করি মায়ের হাতের রান্না। সেই স্বাদটা শুধু খাবারের স্বাদ না, এর মধ্যে মিশে থাকে মায়ের ভালোবাসা, যত্ন আর মমতা।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইফতার করি ঠিকই, কিন্তু সেই তৃপ্তিটা আর পাই না। বারবার মনে হয় কিছু একটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।পরিবারের সাথে একসাথে বসে ইফতার করা, গল্প করা, হাসাহাসি করা এই মুহূর্তগুলোই বুঝিয়ে দেয় পরিবারের মূল্য কতটা। দূরে থেকে এখন আরও বেশি উপলব্ধি করছি, পরিবারের সঙ্গে ইফতার করা আসলে শুধু একটি সময় না, এটা একটা অনুভূতি, যেটা খুব গভীরভাবে মিস করছি।"
রমজানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম থেমে নেই। রোজা রেখেই শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে সময় কাটাচ্ছেন কিংবা ল্যাবে কাজ করছেন।তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে একাডেমি একাডেমিক কার্যক্রম কিছুটা শিথিল করেছেন। দিনের বেলা কিছুটা শান্ত থাকলেও আসরের পর থেকে ক্যাম্পাস আবার মুখর হয়ে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থীকে দেখা যায় কেন্দ্রীয় মসজিদে তারাবির নামাজে অংশগ্রহণ করতে, যা ক্যাম্পাসে এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে।
তবে এর বাইরেও "খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিনি কমিটি" ব্যতিক্রম একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন আসরের নামাজের পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল এবং সাব সেন্টার মসজিদে কোরআন শেখানো হয়।
এছাড়াও ছেলে এবং মেয়ে উভয় হলের মসজিদে পুরো রমজান মাস কুরআন শেখানোর কর্মসূচি এ সংগঠন গ্রহণ করেছেন।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বইছে এক ভিন্নধর্মী উৎসবের হাওয়া। ক্লাস, পরীক্ষা আর অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক জীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন ছন্দ। সাহ্রি থেকে ইফতার—সবটা জুড়েই মিশে আছে তারুণ্যের প্রাণচাঞ্চল্য আর ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন।
খুবি ক্যাম্পাসের রমজানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখা যায় ইফতারের সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ,কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এবং শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে গোল হয়ে বসে শত শত শিক্ষার্থী ইফতার করেন।এখানে কেবল একই হলের শিক্ষার্থীরাই নন, বরং সিনিয়র-জুনিয়র ও বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের বন্ধুরা মিলে ইফতার ভাগ করে নেন।
বাসার আরামদায়ক পরিবেশ মিস করলেও হলের ডাইনিং বা ক্যান্টিনে সাহ্রি শিক্ষার্থীদের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা। গভীর রাতে দল বেঁধে খেতে যাওয়া আর একে অপরকে ডেকে তোলা এখন নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষ করে যারা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, তাদের কাছে এই 'গ্রুপ সাহ্রি' জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সন্ধ্যায় ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো মারুফ বিল্লাহ'দৈনিক উত্তরে নিউজ'কে বলেন,"সবচেয়ে বেশি মিস করি মায়ের হাতের রান্না। সেই স্বাদটা শুধু খাবারের স্বাদ না, এর মধ্যে মিশে থাকে মায়ের ভালোবাসা, যত্ন আর মমতা।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইফতার করি ঠিকই, কিন্তু সেই তৃপ্তিটা আর পাই না। বারবার মনে হয় কিছু একটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।পরিবারের সাথে একসাথে বসে ইফতার করা, গল্প করা, হাসাহাসি করা এই মুহূর্তগুলোই বুঝিয়ে দেয় পরিবারের মূল্য কতটা। দূরে থেকে এখন আরও বেশি উপলব্ধি করছি, পরিবারের সঙ্গে ইফতার করা আসলে শুধু একটি সময় না, এটা একটা অনুভূতি, যেটা খুব গভীরভাবে মিস করছি।"
রমজানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম থেমে নেই। রোজা রেখেই শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে সময় কাটাচ্ছেন কিংবা ল্যাবে কাজ করছেন।তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে একাডেমি একাডেমিক কার্যক্রম কিছুটা শিথিল করেছেন। দিনের বেলা কিছুটা শান্ত থাকলেও আসরের পর থেকে ক্যাম্পাস আবার মুখর হয়ে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থীকে দেখা যায় কেন্দ্রীয় মসজিদে তারাবির নামাজে অংশগ্রহণ করতে, যা ক্যাম্পাসে এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে।
তবে এর বাইরেও "খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিনি কমিটি" ব্যতিক্রম একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন আসরের নামাজের পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল এবং সাব সেন্টার মসজিদে কোরআন শেখানো হয়।
এছাড়াও ছেলে এবং মেয়ে উভয় হলের মসজিদে পুরো রমজান মাস কুরআন শেখানোর কর্মসূচি এ সংগঠন গ্রহণ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন