দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জিম্মি করে টাকা আদায়ের কারখানা বিএমডিএ'র সাপাহার জোন

জিম্মি করে টাকা আদায়ের কারখানা বিএমডিএ'র সাপাহার জোন

 বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলা জোন শুধু দুর্নীতির আখড়া নয়, জিম্মি করে টাকা আদায়ের কারখানা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে জড়িত মুলহোতা পরিদর্শক আব্দুর রব, উপ-সহকারী প্রকৌশলী খোশ মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর শ্রী রাখি রানী। তাদের সাথে নতুন করে জড়িয়েছেন ধামুইরহাট জোনের সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অন্নাদুজ্জামান। মো. অন্নাদুজ্জামান সাপাহার ও পোরশা জোনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি গত  ১০ বছরের অধিক সময় সরকারি বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য বিল পরিশোধ করেন না। অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়ে পরিদর্শক আব্দুর রবের সকল অপকর্মে সাথী হয়ে উঠেছেন। 

২০২৫ সালের ৩ জুন গণকূপ পূনখননের জন্য সরকারি রশিদের মাধ্যমে ১ লাখ জমা নেন সাপাহার জোনের পরির্দশক আব্দুর রব। এই গণকূপটি স্থাপনের জন্য তার পছন্দের লোকের কাছেও টাকা নেন তিনি। টাকা জমাদানকারী অপারেটর উপজেলার রায়পুর গ্রামের মো. আফতাব উদ্দিনের ছেলে মো. নুরুন্নবী।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ চান আব্দুর রব। তাকে দিতে না পারায় ছিনিমিনি শুরু করেন তিনি। গত বছর সবার ফসল মরে গেছে তার কারণে। এই অভিযোগটি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নওগাঁ রিজিয়ন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শাহ মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য একটি চিঠি ইস্যু করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে না গিয়ে সাপাহার জোন অফিসে শুনানী করেন। এরপরই আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই ভয়ঙ্কর পরির্দশক। এখন তিনি সেই গণকূপটি আমাকে বা আমাদের কমিটিকে না জানিয়ে আবার তার পছন্দের মানুষকে দিয়ে দিতে মরিয়া হয়েছেন। তিনি মধ্যরাতে ঠিকাদারকে দিয়ে পাইপ আনিয়েছেন। 

একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, তারা নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেন না। শুনেছি, আগের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম মারা যান এই তিন জনের জিম্মির কারণে। প্রয়াত কর্মকর্তা মৃত্যু আগে বলেছিলেন, তাদের কারণে স্ট্রোক হয়েছে আমার। এই নিয়ে রাজশাহীতে মোহনপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী জি, এফ, এম, হাসনুল ইসলাম ও শাহ মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম সবার সামনেই আব্দুর রবকে বকা দেন মৃত লাশের কাছে দাঁড়িয়ে। একই সাথে ভালো হওয়ার জন্য সর্তক করেন। 

প্রধান কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়ন ও নির্মাণ-ডিজাইন অনুবিভাগ) ড. মো: আবুল কাসেম সকল স্টাফদের নিয়ে করা মিটিং-এ তাদের তিন জনকে ভালো হওয়ার জন্য সর্তক করেন। 

তিনি জানান, সাপাহার জোনের সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম তোমাদের (পরিদর্শক আব্দুর রব, উপ-সহকারী প্রকৌশলী খোশ মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর শ্রী রাখি রানী) নাম মারা যাওয়ার আগে বলে গেছেন। অনেক দিন থেকে আপনারা এখানে (সাপাহার জোনে) রয়েছেন।

উল্লেখ্য, অভিযুক্তরা কেউ কথা বলতে চান না। তবে স্থানীয় সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে চেষ্টা করেন আব্দুর রব।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


জিম্মি করে টাকা আদায়ের কারখানা বিএমডিএ'র সাপাহার জোন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

 বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলা জোন শুধু দুর্নীতির আখড়া নয়, জিম্মি করে টাকা আদায়ের কারখানা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এতে জড়িত মুলহোতা পরিদর্শক আব্দুর রব, উপ-সহকারী প্রকৌশলী খোশ মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর শ্রী রাখি রানী। তাদের সাথে নতুন করে জড়িয়েছেন ধামুইরহাট জোনের সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. অন্নাদুজ্জামান। মো. অন্নাদুজ্জামান সাপাহার ও পোরশা জোনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।


তিনি গত  ১০ বছরের অধিক সময় সরকারি বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য বিল পরিশোধ করেন না। অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়ে পরিদর্শক আব্দুর রবের সকল অপকর্মে সাথী হয়ে উঠেছেন। 


২০২৫ সালের ৩ জুন গণকূপ পূনখননের জন্য সরকারি রশিদের মাধ্যমে ১ লাখ জমা নেন সাপাহার জোনের পরির্দশক আব্দুর রব। এই গণকূপটি স্থাপনের জন্য তার পছন্দের লোকের কাছেও টাকা নেন তিনি। টাকা জমাদানকারী অপারেটর উপজেলার রায়পুর গ্রামের মো. আফতাব উদ্দিনের ছেলে মো. নুরুন্নবী।


তিনি বলেন, আমাদের কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ চান আব্দুর রব। তাকে দিতে না পারায় ছিনিমিনি শুরু করেন তিনি। গত বছর সবার ফসল মরে গেছে তার কারণে। এই অভিযোগটি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নওগাঁ রিজিয়ন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শাহ মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য একটি চিঠি ইস্যু করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে না গিয়ে সাপাহার জোন অফিসে শুনানী করেন। এরপরই আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই ভয়ঙ্কর পরির্দশক। এখন তিনি সেই গণকূপটি আমাকে বা আমাদের কমিটিকে না জানিয়ে আবার তার পছন্দের মানুষকে দিয়ে দিতে মরিয়া হয়েছেন। তিনি মধ্যরাতে ঠিকাদারকে দিয়ে পাইপ আনিয়েছেন। 



একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, তারা নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেন না। শুনেছি, আগের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম মারা যান এই তিন জনের জিম্মির কারণে। প্রয়াত কর্মকর্তা মৃত্যু আগে বলেছিলেন, তাদের কারণে স্ট্রোক হয়েছে আমার। এই নিয়ে রাজশাহীতে মোহনপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী জি, এফ, এম, হাসনুল ইসলাম ও শাহ মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম সবার সামনেই আব্দুর রবকে বকা দেন মৃত লাশের কাছে দাঁড়িয়ে। একই সাথে ভালো হওয়ার জন্য সর্তক করেন। 


প্রধান কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়ন ও নির্মাণ-ডিজাইন অনুবিভাগ) ড. মো: আবুল কাসেম সকল স্টাফদের নিয়ে করা মিটিং-এ তাদের তিন জনকে ভালো হওয়ার জন্য সর্তক করেন। 


তিনি জানান, সাপাহার জোনের সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম তোমাদের (পরিদর্শক আব্দুর রব, উপ-সহকারী প্রকৌশলী খোশ মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর শ্রী রাখি রানী) নাম মারা যাওয়ার আগে বলে গেছেন। অনেক দিন থেকে আপনারা এখানে (সাপাহার জোনে) রয়েছেন।


উল্লেখ্য, অভিযুক্তরা কেউ কথা বলতে চান না। তবে স্থানীয় সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে চেষ্টা করেন আব্দুর রব।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ