দৈনিক উত্তরের নিউজ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

খানসামায় রহস্যজনক অগ্নিসংযোগে গরু পুড়ে ছই

খানসামায় রহস্যজনক অগ্নিসংযোগে গরু পুড়ে ছই

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৈ পাড়ায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে গোয়ালঘরে থাকা দুইটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং কয়েকটি গবাদিপশু গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪ টার দিকে ছাতিয়ানগড় গ্রামের বাসিন্দা মৃত ভুপেন মাস্টারের ছেলে বিধান চন্দ্র রায়ের গোয়ালঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে গোয়ালঘরটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এ সময় গোয়ালঘরে থাকা গবাদিপশুগুলো আগুনে আটকা পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডে বিধান চন্দ্র রায়ের দুটি গরু পুড়ে মারা যায়। এসব গরুর আনুমানিক মূল্য স্থানীয়দের মতে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া তার ভাই রতন কুমার রায় এর একটি রামছাগল ও দুটি গরু এবং একই পরিবারের মৃত শরৎ চন্দ্র রায়ের ছেলে জগদীশ চন্দ্র এর দুটি গরু গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে আহত গরুগুলো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, গোয়ালঘরে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না এবং সেখানে আগুন ব্যবহারের কোনো সুযোগও ছিল না। ফলে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে দুর্বৃত্তদের দ্বারা অগ্নিসংযোগের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিধান চন্দ্র রায় বলেন,“ভোরের দিকে হঠাৎ আগুন দেখতে পাই। কিছু বোঝার আগেই গোয়ালঘরটি দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। চোখের সামনে আমার দুটি গরু আগুনে পুড়ে মারা যায়। গোয়ালঘরে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, মশার কয়েল বা আগুন ব্যবহারেরও কোনো সুযোগ নেই। তাহলে কীভাবে আগুন লাগলো—এটা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ রহস্য। যদি দুর্ঘটনা হতো, তাহলে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো কারণ পাওয়া যেত। কিন্তু এখানে তেমন কোনো কারণ নেই।”

এদিকে গুরুতর আহত গরুর মালিক রতন ও জগদীশ চন্দ্র বলেন, “আমাদের দুটি করে গরু আগুনে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। বাঁচবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। যদি তারা মারা যায়, আমরা আর্থিকভাবে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। আমরা মনে করি দুর্বৃত্তরাই পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ, কারো সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তবুও কেন আমাদের লক্ষ্যবস্তু করা হলো—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি একটি রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড। গোয়ালঘরে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই এবং সেখানে আগুন ব্যবহারের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি—এটি স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। দুর্বৃত্তদের দ্বারা অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খানসামায় রহস্যজনক অগ্নিসংযোগে গরু পুড়ে ছই

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের কৈ পাড়ায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে গোয়ালঘরে থাকা দুইটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং কয়েকটি গবাদিপশু গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪ টার দিকে ছাতিয়ানগড় গ্রামের বাসিন্দা মৃত ভুপেন মাস্টারের ছেলে বিধান চন্দ্র রায়ের গোয়ালঘরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে গোয়ালঘরটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এ সময় গোয়ালঘরে থাকা গবাদিপশুগুলো আগুনে আটকা পড়ে।


অগ্নিকাণ্ডে বিধান চন্দ্র রায়ের দুটি গরু পুড়ে মারা যায়। এসব গরুর আনুমানিক মূল্য স্থানীয়দের মতে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া তার ভাই রতন কুমার রায় এর একটি রামছাগল ও দুটি গরু এবং একই পরিবারের মৃত শরৎ চন্দ্র রায়ের ছেলে জগদীশ চন্দ্র এর দুটি গরু গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে আহত গরুগুলো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।


ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, গোয়ালঘরে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না এবং সেখানে আগুন ব্যবহারের কোনো সুযোগও ছিল না। ফলে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে দুর্বৃত্তদের দ্বারা অগ্নিসংযোগের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।


অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিধান চন্দ্র রায় বলেন,“ভোরের দিকে হঠাৎ আগুন দেখতে পাই। কিছু বোঝার আগেই গোয়ালঘরটি দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। চোখের সামনে আমার দুটি গরু আগুনে পুড়ে মারা যায়। গোয়ালঘরে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, মশার কয়েল বা আগুন ব্যবহারেরও কোনো সুযোগ নেই। তাহলে কীভাবে আগুন লাগলো—এটা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ রহস্য। যদি দুর্ঘটনা হতো, তাহলে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো কারণ পাওয়া যেত। কিন্তু এখানে তেমন কোনো কারণ নেই।”


এদিকে গুরুতর আহত গরুর মালিক রতন ও জগদীশ চন্দ্র বলেন, “আমাদের দুটি করে গরু আগুনে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। বাঁচবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। যদি তারা মারা যায়, আমরা আর্থিকভাবে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব। আমরা মনে করি দুর্বৃত্তরাই পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ, কারো সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তবুও কেন আমাদের লক্ষ্যবস্তু করা হলো—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”


স্থানীয় ইউপি সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি একটি রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড। গোয়ালঘরে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই এবং সেখানে আগুন ব্যবহারের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি—এটি স্বাভাবিক কোনো দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। দুর্বৃত্তদের দ্বারা অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।”


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ