দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

সীসা দূষণ সচেতনতা কার্যক্রমে শিশু ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

সীসা দূষণ সচেতনতা কার্যক্রমে শিশু ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

খুলনার লবণচরা সোসাইটি অব সোশ্যাল রিফর্ম (এসএসআর) স্কুল এলাকায় সীসা দূষণ প্রতিকার ও সচেতনতা কার্যক্রমে শিশু, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রায় তিনশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অবৈধ সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি গলানোর কার্যক্রমে মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়া এসএসআর স্কুলের পরিবেশ পুনর্গঠনে ৯৩৩ ঘনমিটার দূষিত মাটি, ১২০ ঘনমিটার কংক্রিট–ইটের ধ্বংসাবশেষ, ২১ ঘনমিটার উদ্ভিজ্জ বর্জ্যসহ ভাঙা ব্যাটারির ৮৮টি আবরণ অপসারণ করা হয়। পরে এসব জায়গা পরিষ্কার মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে সংগ্রহ করা মাটি, জল ও ধূলিকণার নমুনায় আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি সীসা পাওয়া যায়, যা শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি করেছিল।

বিশ্বব্যাপী সীসা দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। আনুমানিক ৩৬ মিলিয়ন শিশুর (৬০ শতাংশ) রক্তে সীসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার ওপরে। ভোগ্যপণ্যে সীসার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ব্যবহৃত সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অপরিকল্পিত রিসাইক্লিংই এই দূষণের প্রধান দুই উৎস। পিওর আর্থের টিএসআইপি প্রোগ্রাম ইতোমধ্যে দেশব্যাপী প্রায় ৩০০টি বিষাক্ত স্থান শনাক্ত করেছে।

সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সীসা দূষণমুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সকলের সচেতনতা জরুরি, শুধুমাত্র সরকারের একক প্রচেষ্টায় দূষণ রোধ সম্ভব নয়। সীসার সংস্পর্শে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি, বুদ্ধিমত্তা হ্রাস, আচরণগত সমস্যা, কিডনি ও হৃদরোগসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়।

‘শেয়ারিং লেড রেমেডিয়েশন আউটকামস: এঙ্গেজিং কমিউনিটিজ অ্যান্ড স্টেকহোল্ডারস ফর এ লেড-ফ্রি ফিউচার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে এসএসআর স্কুলের অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান, পিওর আর্থের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. গর্ডন কে. বিনখোর্স্ট, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট তানভীর হায়দার, স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী প্রধান মো. জোবায়ের হোসেন বক্তৃতা করেন।

কি-নোট পেপার উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল ইসলাম ও পিওর আর্থের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আফতাব উজ জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিওর আর্থের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস।

এসএসআর স্কুল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পিওর আর্থ (Pure Earth) বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ফরাসি সরকারের ফ্রেঞ্চ ফ্যাসিলিটি ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট (FFEM) এর অর্থায়নে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ফর দ্য রিডাকশন অব লেড কন্টামিনেশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


সীসা দূষণ সচেতনতা কার্যক্রমে শিশু ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

প্রকাশের তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image



খুলনার লবণচরা সোসাইটি অব সোশ্যাল রিফর্ম (এসএসআর) স্কুল এলাকায় সীসা দূষণ প্রতিকার ও সচেতনতা কার্যক্রমে শিশু, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রায় তিনশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অবৈধ সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি গলানোর কার্যক্রমে মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়া এসএসআর স্কুলের পরিবেশ পুনর্গঠনে ৯৩৩ ঘনমিটার দূষিত মাটি, ১২০ ঘনমিটার কংক্রিট–ইটের ধ্বংসাবশেষ, ২১ ঘনমিটার উদ্ভিজ্জ বর্জ্যসহ ভাঙা ব্যাটারির ৮৮টি আবরণ অপসারণ করা হয়। পরে এসব জায়গা পরিষ্কার মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে সংগ্রহ করা মাটি, জল ও ধূলিকণার নমুনায় আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক বেশি সীসা পাওয়া যায়, যা শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি করেছিল।


বিশ্বব্যাপী সীসা দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। আনুমানিক ৩৬ মিলিয়ন শিশুর (৬০ শতাংশ) রক্তে সীসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার ওপরে। ভোগ্যপণ্যে সীসার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ব্যবহৃত সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অপরিকল্পিত রিসাইক্লিংই এই দূষণের প্রধান দুই উৎস। পিওর আর্থের টিএসআইপি প্রোগ্রাম ইতোমধ্যে দেশব্যাপী প্রায় ৩০০টি বিষাক্ত স্থান শনাক্ত করেছে।


সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সীসা দূষণমুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সকলের সচেতনতা জরুরি, শুধুমাত্র সরকারের একক প্রচেষ্টায় দূষণ রোধ সম্ভব নয়। সীসার সংস্পর্শে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি, বুদ্ধিমত্তা হ্রাস, আচরণগত সমস্যা, কিডনি ও হৃদরোগসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়।


‘শেয়ারিং লেড রেমেডিয়েশন আউটকামস: এঙ্গেজিং কমিউনিটিজ অ্যান্ড স্টেকহোল্ডারস ফর এ লেড-ফ্রি ফিউচার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে এসএসআর স্কুলের অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান, পিওর আর্থের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. গর্ডন কে. বিনখোর্স্ট, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট তানভীর হায়দার, স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী প্রধান মো. জোবায়ের হোসেন বক্তৃতা করেন।


কি-নোট পেপার উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল ইসলাম ও পিওর আর্থের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আফতাব উজ জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিওর আর্থের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস।


এসএসআর স্কুল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পিওর আর্থ (Pure Earth) বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ফরাসি সরকারের ফ্রেঞ্চ ফ্যাসিলিটি ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট (FFEM) এর অর্থায়নে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ফর দ্য রিডাকশন অব লেড কন্টামিনেশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ