দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

৭ বছরের জায়ান হত্যায় রশির সূত্রে ইউনুচ মোল্যা গ্রেপ্তার

৭ বছরের জায়ান হত্যায় রশির সূত্রে  ইউনুচ মোল্যা গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সাত বছরের শিশু জায়ান রহমান হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ইউনুচ মোল্যা (৪৫) নামের প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঝুলন্ত মরদেহে ব্যবহৃত রশির সূত্র ধরেই সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তার ইউনুচ মোল্যা আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন মোল্যার ছেলে।

ঘটনার বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে গ্রীস প্রবাসী পলাশ মোল্যার সাত বছর বয়সী ছেলে জায়ান রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই শিশুটির মা সিনথিয়া বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রশি থেকেই আসল সূত্র

মামলার তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে শিশুটির ঝুলন্ত অবস্থায় ব্যবহৃত রশিটি।

পুলিশ রশিটির আলামত ধরে স্থানীয় বাজারে অনুসন্ধান চালায় এবং পার্শ্ববর্তী টাবনী বাজারের একটি মুদি দোকান থেকে রশিটি ক্রয়ের তথ্য পায়।

তদন্তে জানা যায়—

ঘটনার ১০–১৫ দিন আগে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যা মফিজ খানের দোকান থেকে একটি রশি কিনেছিলেন, যার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া রশিটির মিল রয়েছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউনুচ মোল্যা রশি কেনার তথ্য অস্বীকার করেন। পুলিশ দাবি করেছে—

এই অস্বীকারই তাদের সন্দেহ আরও দৃঢ় করেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজন বিশ্বাস বলেন—

“হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হবে।”

থানা পুলিশের বক্তব্য

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম বলেন—

“ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং রশি কেনার বিষয়ে মিথ্যা বলার কারণে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

এদিকে শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রকৃত হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


৭ বছরের জায়ান হত্যায় রশির সূত্রে ইউনুচ মোল্যা গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫

featured Image



ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সাত বছরের শিশু জায়ান রহমান হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ইউনুচ মোল্যা (৪৫) নামের প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঝুলন্ত মরদেহে ব্যবহৃত রশির সূত্র ধরেই সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে সোমবার নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তার ইউনুচ মোল্যা আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন মোল্যার ছেলে।

ঘটনার বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে গ্রীস প্রবাসী পলাশ মোল্যার সাত বছর বয়সী ছেলে জায়ান রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই শিশুটির মা সিনথিয়া বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রশি থেকেই আসল সূত্র

মামলার তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে শিশুটির ঝুলন্ত অবস্থায় ব্যবহৃত রশিটি।

পুলিশ রশিটির আলামত ধরে স্থানীয় বাজারে অনুসন্ধান চালায় এবং পার্শ্ববর্তী টাবনী বাজারের একটি মুদি দোকান থেকে রশিটি ক্রয়ের তথ্য পায়।

তদন্তে জানা যায়—

ঘটনার ১০–১৫ দিন আগে প্রতিবেশী ইউনুচ মোল্যা মফিজ খানের দোকান থেকে একটি রশি কিনেছিলেন, যার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া রশিটির মিল রয়েছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউনুচ মোল্যা রশি কেনার তথ্য অস্বীকার করেন। পুলিশ দাবি করেছে—

এই অস্বীকারই তাদের সন্দেহ আরও দৃঢ় করেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজন বিশ্বাস বলেন—

“হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হবে।”

থানা পুলিশের বক্তব্য

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম বলেন—

“ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং রশি কেনার বিষয়ে মিথ্যা বলার কারণে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

এদিকে শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রকৃত হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ