ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা। আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ সামনে রেখে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা গণসংযোগ, পথসভা, জনসভা ও বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এ আসনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।
এ আসনের উপনির্বাচনে পাঁচটি দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
প্রথমে বিএনপির দুই নেতা মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ফলে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফয়সল আমীন।
নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ইপিজেড নির্মান, বিমান বন্দর পুন: চালু, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কৃষকদের খোলা বাজারে সার সরবরাহসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং উন্নয়ন বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।
গত কয়েক দিনে দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও এসেছে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার ভোটারদের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।=
স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচিত প্রতিনিধি যেন এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কার্যকর ভূমিকা রাখেন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সহজে পাশে দাঁড়ান। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, পরিকল্পনা ও জবাবদিহির বিষয়টিও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।
নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার নন—এমন ব্যক্তিদের অবস্থানে বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হবে। এরপর ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না।
সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি এবং ভোটের পরিবেশ ঘিরে আলোচনা বাড়ছে। মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ ভোটারের এই আসনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পরবর্তী সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা। আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ সামনে রেখে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা গণসংযোগ, পথসভা, জনসভা ও বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এ আসনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।
এ আসনের উপনির্বাচনে পাঁচটি দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
প্রথমে বিএনপির দুই নেতা মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ফলে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফয়সল আমীন।
নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ইপিজেড নির্মান, বিমান বন্দর পুন: চালু, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কৃষকদের খোলা বাজারে সার সরবরাহসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং উন্নয়ন বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।
গত কয়েক দিনে দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও এসেছে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকার ভোটারদের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।=
স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচিত প্রতিনিধি যেন এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কার্যকর ভূমিকা রাখেন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সহজে পাশে দাঁড়ান। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, পরিকল্পনা ও জবাবদিহির বিষয়টিও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।
নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার নন—এমন ব্যক্তিদের অবস্থানে বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হবে। এরপর ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না।
সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি এবং ভোটের পরিবেশ ঘিরে আলোচনা বাড়ছে। মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ ভোটারের এই আসনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পরবর্তী সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব।

আপনার মতামত লিখুন