দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহে কলেজছাত্র ইকবাল হত্যায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ২ জনের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহে কলেজছাত্র ইকবাল হত্যায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ২ জনের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্র শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল (১৯) হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত| একই সঙ্গে মামলার অন্য দুই নারী আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে| 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন তাঁর আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন তিনি।  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী, মোহাম্মদ আলী, মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু, শামছুল হক, আসিফ রানা নাঈম, মো. আব্দুল হেলিম ও মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু|

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে| এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের তথ্য গোপন ও সহযোগিতার দায়ে মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে  আরও এক বছরের অতিরিক্ত সাজার রায় দিয়েছেন। 

নিহত শাহীনুর আলম ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে তারাকান্দার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে যান ইকবাল| এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ৫ জুন গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পরদিন ৬ জুন ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে প্রতিবেশী আসিফ রানা নাঈমসহ অন্যদের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মো. রফিকুল ইসলাম মামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে সুপরিকল্পিতভাবে ইকবালকে হত্যার পর লাশ গুম করতে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল| মানুষের সন্দেহ এড়াতে এবং লাশের গন্ধ আড়াল করতে আসামিরা মরদেহের ওপর মরা শিয়াল ও গোবর ফেলে সেখানে গাছ লাগিয়ে দিয়েছিল।আদালত ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং দীর্ঘ যুক্তি-তর্ক শেষে এই ˆপৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় আসামিদের এই কঠোর দণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী|

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ইকবালের বড় ভাই সেলিম মিয়া  এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমার ভাইকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল যা কল্পনা করাও কঠিন| আমরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়ে সন্তুষ্ট| আমাদের এখন একমাত্র দাবি, উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত যেন আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়| এদিকে রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ¯^জনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে| অন্যদিকে ইকবালের সহপাঠী ও এলাকাবাসী এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে ¯স্বাগত জানিয়েছেন|

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ময়মনসিংহে কলেজছাত্র ইকবাল হত্যায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ২ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্র শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল (১৯) হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত| একই সঙ্গে মামলার অন্য দুই নারী আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে| 


মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন তাঁর আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন তিনি।  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী, মোহাম্মদ আলী, মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু, শামছুল হক, আসিফ রানা নাঈম, মো. আব্দুল হেলিম ও মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু|


মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে| এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের তথ্য গোপন ও সহযোগিতার দায়ে মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে  আরও এক বছরের অতিরিক্ত সাজার রায় দিয়েছেন। 


নিহত শাহীনুর আলম ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে তারাকান্দার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে যান ইকবাল| এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ৫ জুন গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পরদিন ৬ জুন ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে প্রতিবেশী আসিফ রানা নাঈমসহ অন্যদের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মো. রফিকুল ইসলাম মামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে সুপরিকল্পিতভাবে ইকবালকে হত্যার পর লাশ গুম করতে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল| মানুষের সন্দেহ এড়াতে এবং লাশের গন্ধ আড়াল করতে আসামিরা মরদেহের ওপর মরা শিয়াল ও গোবর ফেলে সেখানে গাছ লাগিয়ে দিয়েছিল।আদালত ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং দীর্ঘ যুক্তি-তর্ক শেষে এই ˆপৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় আসামিদের এই কঠোর দণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী|


আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ইকবালের বড় ভাই সেলিম মিয়া  এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমার ভাইকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল যা কল্পনা করাও কঠিন| আমরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়ে সন্তুষ্ট| আমাদের এখন একমাত্র দাবি, উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত যেন আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়| এদিকে রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ¯^জনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে| অন্যদিকে ইকবালের সহপাঠী ও এলাকাবাসী এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে ¯স্বাগত জানিয়েছেন|


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ