মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ভারতের রাজস্থান থেকে আমদানি করা শিল পাথর দিয়ে পাটা তৈরির একটি কারখানায় দিনের পরিবর্তে রাতে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের দানিয়াপাড়া বাশতলা শ্মশান ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে পাটা তৈরি ও বিক্রির কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে পাটা তৈরির কারখানা। সেখানে পাথর কেটে ও ঘষামাজা করে পাটা বানানোর কাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পরিবর্তে মূলত রাতের বেলাতেই এখানে কাজ করা হয়। এতে প্রশাসনের নজর এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। কারখানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতেই পাটা তৈরি ও বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করলেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া গেলেও বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার কথা রয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের National Board of Revenue বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য Taxpayer Identification Number Bangladesh (টিআইএন) থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া বড় পরিসরের ব্যবসার ক্ষেত্রে Value Added Tax (ভ্যাট) নিবন্ধন বা বিআইএন নম্বরও আবশ্যক। তবে সংশ্লিষ্ট কারখানায় এসব কাগজপত্রের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নামসহ সাইনবোর্ড থাকা বাধ্যতামূলক হলেও কারখানাটিতে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। অথচ বড় পরিসরে পাটা তৈরির জন্য মেশিন বসিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া ব্যবহৃত পাথর বৈধভাবে ক্রয় করা হয়েছে কি না, তার প্রমাণ হিসেবে ক্রয় রসিদ, চালান বা ইনভয়েস রয়েছে কি না সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইন অনুযায়ী বড় আকারে কারখানা স্থাপন করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান, পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কারখানায় এসব নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দানিয়াপাড়া গ্রামের আক্তার হোসেন (সাবেক ইউপি সদস্য), তার ছেলে ও ভাগনে এই অনুমতিহীন ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় সাংবাদিকরা কারখানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের বেলায় তিনজন কর্মচারী দিয়ে নিয়মিত পাটা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কারাখানাটির মালিক সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন প্রতিবেদককে চায়ের নিমন্ত্রণ করে সিরাজদিখান বাজারস্থ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন একটি দোকান নিয়ে বসান। এসময় তিনি প্রতিবেদকে ম্যানেজের জন্য কথোপকথন চালিয়ে যান এবং পাশাপাশি কথোপকথনের ভিডিও ধারণ চেষ্টা করান।
স্থানীয় সাংবাদিকরা এমন আচরণকে চোরের উপর বাচপারি হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষকে বিষয়টি অবগত করার স্বার্থে ফোন করা হলে শুক্রবার ছুটি দিন হওয়া তার সাড়া পাওয়া সম্ভব হয় নি।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ভারতের রাজস্থান থেকে আমদানি করা শিল পাথর দিয়ে পাটা তৈরির একটি কারখানায় দিনের পরিবর্তে রাতে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের দানিয়াপাড়া বাশতলা শ্মশান ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে পাটা তৈরি ও বিক্রির কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে পাটা তৈরির কারখানা। সেখানে পাথর কেটে ও ঘষামাজা করে পাটা বানানোর কাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পরিবর্তে মূলত রাতের বেলাতেই এখানে কাজ করা হয়। এতে প্রশাসনের নজর এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। কারখানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেবল একটি ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতেই পাটা তৈরি ও বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করলেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া গেলেও বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার কথা রয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের National Board of Revenue বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য Taxpayer Identification Number Bangladesh (টিআইএন) থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া বড় পরিসরের ব্যবসার ক্ষেত্রে Value Added Tax (ভ্যাট) নিবন্ধন বা বিআইএন নম্বরও আবশ্যক। তবে সংশ্লিষ্ট কারখানায় এসব কাগজপত্রের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নামসহ সাইনবোর্ড থাকা বাধ্যতামূলক হলেও কারখানাটিতে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। অথচ বড় পরিসরে পাটা তৈরির জন্য মেশিন বসিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া ব্যবহৃত পাথর বৈধভাবে ক্রয় করা হয়েছে কি না, তার প্রমাণ হিসেবে ক্রয় রসিদ, চালান বা ইনভয়েস রয়েছে কি না সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আইন অনুযায়ী বড় আকারে কারখানা স্থাপন করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান, পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কারখানায় এসব নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দানিয়াপাড়া গ্রামের আক্তার হোসেন (সাবেক ইউপি সদস্য), তার ছেলে ও ভাগনে এই অনুমতিহীন ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় সাংবাদিকরা কারখানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাতের বেলায় তিনজন কর্মচারী দিয়ে নিয়মিত পাটা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কারাখানাটির মালিক সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন প্রতিবেদককে চায়ের নিমন্ত্রণ করে সিরাজদিখান বাজারস্থ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন একটি দোকান নিয়ে বসান। এসময় তিনি প্রতিবেদকে ম্যানেজের জন্য কথোপকথন চালিয়ে যান এবং পাশাপাশি কথোপকথনের ভিডিও ধারণ চেষ্টা করান।
স্থানীয় সাংবাদিকরা এমন আচরণকে চোরের উপর বাচপারি হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষকে বিষয়টি অবগত করার স্বার্থে ফোন করা হলে শুক্রবার ছুটি দিন হওয়া তার সাড়া পাওয়া সম্ভব হয় নি।

আপনার মতামত লিখুন