মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি চালু করা হবে না এবং অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শুক্রবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় তাঁর নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। “সরকার শপথ নেওয়ার পর কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। বর্তমানে রমজান মাস চলছে। এলাকার মানুষের চাহিদা ও শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় আমরা কাজ করছি। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবাইকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে,” বলেন তিনি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, “আগে কী হয়েছে, তা শুনতে চাই না। এখন থেকে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এক ছটাক বালু-পাথরও এদিক-সেদিক হবে না। কোথায়, কীভাবে কার্যক্রম চলবে—সেটি মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।”
তিনি জানান, অবৈধ উত্তোলন বন্ধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে বিজিবির একটি প্লাটুনও মোতায়েন থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য আলাদা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে ঘটনাস্থলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ কার্যক্রম চলবে—এমনটি সহ্য করা হবে না। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গভীর রাতে অবৈধ কর্মকাণ্ড হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দেশব্যাপী কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। এজন্য তরুণদের দক্ষ শ্রমিকে পরিণত করতে হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।”
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া শ্রমিকদের কল্যাণে কোম্পানীগঞ্জে একটি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, গোয়াইনঘাট সার্কেলের এএসপি মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মন্নান, সাবেক সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন, সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক আলী আকবরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা,স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি চালু করা হবে না এবং অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শুক্রবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় তাঁর নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। “সরকার শপথ নেওয়ার পর কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে। বর্তমানে রমজান মাস চলছে। এলাকার মানুষের চাহিদা ও শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় আমরা কাজ করছি। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবাইকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে,” বলেন তিনি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, “আগে কী হয়েছে, তা শুনতে চাই না। এখন থেকে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এক ছটাক বালু-পাথরও এদিক-সেদিক হবে না। কোথায়, কীভাবে কার্যক্রম চলবে—সেটি মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।”
তিনি জানান, অবৈধ উত্তোলন বন্ধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে বিজিবির একটি প্লাটুনও মোতায়েন থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য আলাদা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে ঘটনাস্থলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ কার্যক্রম চলবে—এমনটি সহ্য করা হবে না। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গভীর রাতে অবৈধ কর্মকাণ্ড হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দেশব্যাপী কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। এজন্য তরুণদের দক্ষ শ্রমিকে পরিণত করতে হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।”
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া শ্রমিকদের কল্যাণে কোম্পানীগঞ্জে একটি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, গোয়াইনঘাট সার্কেলের এএসপি মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মন্নান, সাবেক সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন, সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক আলী আকবরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা,স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন