২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হলেও মানবিক অনুষদভুক্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘ইতিহাস ও সভ্যতা’ ডিসিপ্লিনে ভয়াবহ আসন সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সপ্তম মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও দেখা যাচ্ছে, বিভাগটির মোট আসনের প্রায় ৬০ শতাংশই এখনও শূন্য। ক্লাস শুরু হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনে এই নজিরবিহীন আসন সংকটের পেছনে বেশ কিছু আর্থ-সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ সক্রিয় রয়েছে। বর্তমান চাকরির বাজারে মৌলিক বিষয়ের চেয়ে পেশাদারী ও প্রযুক্তিগত বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান ঝোঁক এই অনীহার অন্যতম প্রধান কারণ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের ধারণা—বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে ইতিহাস বিষয়টি অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়া, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত দেশের শীর্ষ চার স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি, রাবি, জাবি, চবি) এবং ঢাকাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষার মোহের কারণে মেধাতালিকার সামনের সারির শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত মাইগ্রেশন করে চলে যাচ্ছে। ফলে নিচের দিকে বড় ধরণের শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। নিজস্ব পদ্ধতিতে দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম শুরু করলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেশাদারী বিষয়ের প্রতি অগ্রাধিকার এবং ভৌগোলিক দূরত্বের প্রভাব এই শূন্যতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত দৈনিক উত্তরের নিউজ পত্রিকা কে বলেন,"একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাচ ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন। দ্রুত এই শূন্যতা পূরণ করা না হলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে।"
চলতি বছর অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক আগে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করলেও মাত্র ৪০% শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস শুরু করতে হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা এবং আসন পূর্ণ না হওয়ায় একাডেমিক গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। সময়মতো এই আসনগুলো পূরণ করা না গেলে ভবিষ্যতে দীর্ঘ সেশন জটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হলেও মানবিক অনুষদভুক্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘ইতিহাস ও সভ্যতা’ ডিসিপ্লিনে ভয়াবহ আসন সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সপ্তম মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও দেখা যাচ্ছে, বিভাগটির মোট আসনের প্রায় ৬০ শতাংশই এখনও শূন্য। ক্লাস শুরু হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনে এই নজিরবিহীন আসন সংকটের পেছনে বেশ কিছু আর্থ-সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ সক্রিয় রয়েছে। বর্তমান চাকরির বাজারে মৌলিক বিষয়ের চেয়ে পেশাদারী ও প্রযুক্তিগত বিষয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান ঝোঁক এই অনীহার অন্যতম প্রধান কারণ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের ধারণা—বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে ইতিহাস বিষয়টি অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়া, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত দেশের শীর্ষ চার স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি, রাবি, জাবি, চবি) এবং ঢাকাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষার মোহের কারণে মেধাতালিকার সামনের সারির শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত মাইগ্রেশন করে চলে যাচ্ছে। ফলে নিচের দিকে বড় ধরণের শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। নিজস্ব পদ্ধতিতে দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম শুরু করলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেশাদারী বিষয়ের প্রতি অগ্রাধিকার এবং ভৌগোলিক দূরত্বের প্রভাব এই শূন্যতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত দৈনিক উত্তরের নিউজ পত্রিকা কে বলেন,"একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাচ ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন। দ্রুত এই শূন্যতা পূরণ করা না হলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে।"
চলতি বছর অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক আগে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করলেও মাত্র ৪০% শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস শুরু করতে হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা এবং আসন পূর্ণ না হওয়ায় একাডেমিক গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। সময়মতো এই আসনগুলো পূরণ করা না গেলে ভবিষ্যতে দীর্ঘ সেশন জটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন