দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আবেদন করলেও তথ্য নিয়ে তালবাহানা মদনের ইউএনও'র

আবেদন করলেও তথ্য নিয়ে তালবাহানা মদনের ইউএনও'র

তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেও তথ্য নিয়ে তালবাহানা করার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)বেদবতী মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে। 

প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করেছেন মোহন মিয়া নামে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী। তবে স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করছেন, তথ্য না দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি আড়াল করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। দায়িত্বশীলদের উচিত অবাদ তথ্য প্রবাহ করে সকল কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাস্তবায়ন করা। 

আবেদনের সূত্রে জানা গেছে, মোহন মিয়া গতবছর ২৪ডিসেম্বর ইউএনও'র কাছে ১৪৩০বঙ্গাব্দ উপজেলায় ইজারাকৃত ও খাস কালেকশন আদায় করা জলমহালের তালিকা ও কত টাকা আদায় করা হয় এর তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। নির্ধারিত সময়ে ইউএনও তথ্য অধিকার ২০ নং আইনের ৭ এর (ঙ) এবং (চ) ধারায় মোতাবেক তথ্য সরবরাহ করা যাবে না মর্ম একটি পত্র দেন। একই তারিখে ওই ব্যক্তি উপজেলা স্টাফ কোয়াটার কার নামে বরাদ্দ করা হয়েছে এবং কার কাছ থেকে কত টাকা ভাড়া বাবদ আদায় করা হয়েছে এর তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দেওয়া তথ্য মতে, ৭ এর (ঙ) উপধারায় কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন বিশেষ ব্যক্তি বা সংস্থাকে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করিতে পারে এইরূপ নিম্নোক্ত তথ্য এবং (চ) উপধারায় কোন তথ্য প্রকাশের ফলে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হইতে পারে বা অপরাধ বৃদ্ধি পাইতে পারে এইরূপ তথ্য। 

অথচ তথ্য অধিকার আইনের চাওয়া তথ্যগুলো ওই আইনের সাথে কোন সম্পর্কিত নয়। ২০ নং আইনের দ্বিতীয় অধ্যায় তথ্য অধিকার, তথ্য সংরক্ষণ, প্রকাশ ও প্রাপ্তি ৪ নং ধারায় কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকিবে এবং কোন নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাহাকে তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।

৫ এর (১) উপধারায় এই আইনের অধীন তথ্য অধিকার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ উহার যাবতীয় তথ্যের ক্যাটালগ এবং ইনডেক্স প্রস্তুত করিয়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিবে।

৬ এর (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য গোপন করিতে বা উহার সহজলভ্যতাকে সঙ্কুচিত করিতে পারিবে না।

মোহন মিয়া বলেন, তথ্য পাওয়া একজনের নাগরিক অধিকার। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে তথ্য চেয়েও পাওয়া যায় না।আজ নয় কাল, সকাল নয় বিকালে বলে তালবাহানা করছেন তিনি।তথ্য না দিয়ে তিনি কি আড়াল করতে চাচ্ছেন তা আমার জানা নেই। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, স্টাফ কোয়াটারের তথ্যের ব্যাপারে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে বলে দিয়েছি। জলমহালের তথ্যের বিষয়ে আবেনকারীকে পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। 

নেত্রকোনা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক আলপনা বেগম বলেন, রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত ও সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়াসহ কিছু তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু আবেদনকারী যে বিষয় গুলোর তথ্য চেয়েছেন এগুলো গোপন রাখার কিছু নেই। বরং এসব তথ্য প্রকাশ করলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। যে কোন তথ্য গোপন করার উদ্দেশ্য হল অনিয়ম দুর্নীতি আড়াল করা। 

জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান জানান, আপিলের কপি পাইনি। খুঁজ নিয়ে দেখছি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আবেদন করলেও তথ্য নিয়ে তালবাহানা মদনের ইউএনও'র

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেও তথ্য নিয়ে তালবাহানা করার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)বেদবতী মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে। 



প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করেছেন মোহন মিয়া নামে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী। তবে স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করছেন, তথ্য না দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি আড়াল করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। দায়িত্বশীলদের উচিত অবাদ তথ্য প্রবাহ করে সকল কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাস্তবায়ন করা। 


আবেদনের সূত্রে জানা গেছে, মোহন মিয়া গতবছর ২৪ডিসেম্বর ইউএনও'র কাছে ১৪৩০বঙ্গাব্দ উপজেলায় ইজারাকৃত ও খাস কালেকশন আদায় করা জলমহালের তালিকা ও কত টাকা আদায় করা হয় এর তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। নির্ধারিত সময়ে ইউএনও তথ্য অধিকার ২০ নং আইনের ৭ এর (ঙ) এবং (চ) ধারায় মোতাবেক তথ্য সরবরাহ করা যাবে না মর্ম একটি পত্র দেন। একই তারিখে ওই ব্যক্তি উপজেলা স্টাফ কোয়াটার কার নামে বরাদ্দ করা হয়েছে এবং কার কাছ থেকে কত টাকা ভাড়া বাবদ আদায় করা হয়েছে এর তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। 


উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দেওয়া তথ্য মতে, ৭ এর (ঙ) উপধারায় কোন তথ্য প্রকাশের ফলে কোন বিশেষ ব্যক্তি বা সংস্থাকে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত করিতে পারে এইরূপ নিম্নোক্ত তথ্য এবং (চ) উপধারায় কোন তথ্য প্রকাশের ফলে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হইতে পারে বা অপরাধ বৃদ্ধি পাইতে পারে এইরূপ তথ্য। 


অথচ তথ্য অধিকার আইনের চাওয়া তথ্যগুলো ওই আইনের সাথে কোন সম্পর্কিত নয়। ২০ নং আইনের দ্বিতীয় অধ্যায় তথ্য অধিকার, তথ্য সংরক্ষণ, প্রকাশ ও প্রাপ্তি ৪ নং ধারায় কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকিবে এবং কোন নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাহাকে তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।


৫ এর (১) উপধারায় এই আইনের অধীন তথ্য অধিকার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষ উহার যাবতীয় তথ্যের ক্যাটালগ এবং ইনডেক্স প্রস্তুত করিয়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিবে।


৬ এর (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষ কোন তথ্য গোপন করিতে বা উহার সহজলভ্যতাকে সঙ্কুচিত করিতে পারিবে না।


মোহন মিয়া বলেন, তথ্য পাওয়া একজনের নাগরিক অধিকার। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে তথ্য চেয়েও পাওয়া যায় না।আজ নয় কাল, সকাল নয় বিকালে বলে তালবাহানা করছেন তিনি।তথ্য না দিয়ে তিনি কি আড়াল করতে চাচ্ছেন তা আমার জানা নেই। 


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, স্টাফ কোয়াটারের তথ্যের ব্যাপারে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে বলে দিয়েছি। জলমহালের তথ্যের বিষয়ে আবেনকারীকে পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। 


নেত্রকোনা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক আলপনা বেগম বলেন, রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত ও সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়াসহ কিছু তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু আবেদনকারী যে বিষয় গুলোর তথ্য চেয়েছেন এগুলো গোপন রাখার কিছু নেই। বরং এসব তথ্য প্রকাশ করলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। যে কোন তথ্য গোপন করার উদ্দেশ্য হল অনিয়ম দুর্নীতি আড়াল করা। 


জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান জানান, আপিলের কপি পাইনি। খুঁজ নিয়ে দেখছি।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ