দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংসদে আপসহীন থাকবে জামায়াত

জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংসদে আপসহীন থাকবে জামায়াত

বোয়ালমারীতে জ্বালানি সংকট নিরসনে উদ্যোগ: নিয়মিত সরবরাহের আশ্বাস দিলেন ডা. ইলিয়াস মোল্লা

বোয়ালমারীতে জ্বালানি সংকট নিরসনে উদ্যোগ: নিয়মিত সরবরাহের আশ্বাস দিলেন ডা. ইলিয়াস মোল্লা

প্রফেসর নায়লা ইসলাম সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন

প্রফেসর নায়লা ইসলাম সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ফোরাতুন নাহার প্যারিস

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ফোরাতুন নাহার প্যারিস

তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উলাশির জিয়ার খাল পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, খাল খননে নতুন গতি

তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উলাশির জিয়ার খাল পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, খাল খননে নতুন গতি

আগামী পৌরসভা নির্বাচনে লালমনিরহাটে ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় শফিকুল ইসলাম

আগামী পৌরসভা নির্বাচনে লালমনিরহাটে ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় শফিকুল ইসলাম

ভূরুঙ্গামারীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি আনোয়ারুল ইসলামের মতবিনিময়

ভূরুঙ্গামারীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি আনোয়ারুল ইসলামের মতবিনিময়

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

​হারেনি আদর্শ, হেরেছি আমরা।

​হারেনি আদর্শ, হেরেছি আমরা।

লেখক শফিকুল বারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী এই নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তবে এই ডামাডোলের মাঝেও একটি প্রশ্ন কোটি হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে—মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম এবং মাওলানা মামুনুল হক্ব কি তবে হেরে গেলেন? বাহ্যিক নির্বাচনী ফলাফলে তাঁদের আসন সংখ্যা যা-ই বলুক না কেন, আদর্শের মানদণ্ডে বিচার করলে দেখা যায়, তাঁরা হারেননি; বরং আমরা তাঁদের যোগ্য মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছি।

​নির্বাচনের ফলাফল ও বাস্তবতা

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার মূল লড়াই হয়েছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মধ্যে। নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে,

​বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহন করতে যাচ্ছে (প্রাক্কলিত আসন ২১৪)

​১১ দলীয় ঐক্য (জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামী দল): প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে (প্রাক্কলিত আসন ৭৭)।

​মাওলানা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসন থেকে 'রিকশা' প্রতীকে লড়াই করে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারা দেশে উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও আসন সংখ্যায় তার প্রতিফলন ঘটেনি।

 

​তাঁরা হারেননি, কেন বলছি?

​ইসলামী রাজনীতির এই দুই মহীরুহ নির্বাচনী অংকে পিছিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তাঁদের নৈতিক বিজয় সুনিশ্চিত,

​ভোটের রাজনীতি বনাম আদর্শের রাজনীতি: তাঁরা আপসহীনভাবে ইনসাফ ও খিলাফত ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলে গেছেন। সস্তা জনপ্রিয়তার চেয়ে তাঁরা সত্য প্রচারকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

​বিপ্লবের সিপাহসালার: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে দীর্ঘ সংগ্রামের পথে তাঁরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কোনো সংসদীয় পদ পদবী তার চেয়ে বড় নয়।

​মানুষের ভালোবাসা: নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমানসে যে আক্ষেপ দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁদের আসন অনেক উপরে।

​পরাজয়টা আমাদের সমষ্টিগত

​নির্বাচনী পরিসংখ্যানের আড়ালে আমাদের কিছু বিচ্যুতি ধরা পড়েছে:

​সচেতনতার অভাব: আমরা আবেগ দিয়ে বিচার করেছি, কিন্তু ব্যালট বক্সে নিজেদের আদর্শিক নেতাদের নিশ্চিত করতে পারিনি।

​বিভক্তি: আলেমদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত থাকা এবং একক প্লাটফর্মে আসতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে এবারের নির্বাচনেও।

​বিবেকের প্রশ্ন: একজন নির্ভীক আলেম যখন সংসদে যাওয়ার সুযোগ হারান, তখন সংসদে হক কথা বলার মতো সাহসী কণ্ঠস্বর কমে যায়। এটি জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

​"ভোটের সংখ্যা দিয়ে সত্য-মিথ্যার বিচার হয় না। আম্বিয়াদের উত্তরসূরিরা হারেন না, তাঁরা কেবল পরীক্ষা দেন। আমরাই তাঁদের যোগ্য সাথী হতে পারিনি।"

​মুফতি ফয়জুল করীম ও মাওলানা মামুনুল হক্বরা সাময়িক রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় হারিয়ে যাওয়ার নাম নয়। তাঁরা নক্ষত্রের মতো, অন্ধকার যত ঘনীভূত হবে, তাঁদের প্রয়োজন তত বাড়বে। ত্রয়োদশ নির্বাচনের এই ফলাফল আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা—যদি আমরা আমাদের আদর্শবান রাহবারদের মূল্যায়ন করতে না শিখি, তবে আগামীর দিনগুলোতে সঠিক নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


​হারেনি আদর্শ, হেরেছি আমরা।

প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image



লেখক শফিকুল বারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী এই নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তবে এই ডামাডোলের মাঝেও একটি প্রশ্ন কোটি হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে—মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম এবং মাওলানা মামুনুল হক্ব কি তবে হেরে গেলেন? বাহ্যিক নির্বাচনী ফলাফলে তাঁদের আসন সংখ্যা যা-ই বলুক না কেন, আদর্শের মানদণ্ডে বিচার করলে দেখা যায়, তাঁরা হারেননি; বরং আমরা তাঁদের যোগ্য মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছি।


​নির্বাচনের ফলাফল ও বাস্তবতা

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার মূল লড়াই হয়েছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মধ্যে। নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে,

​বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহন করতে যাচ্ছে (প্রাক্কলিত আসন ২১৪)

​১১ দলীয় ঐক্য (জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামী দল): প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে (প্রাক্কলিত আসন ৭৭)।

​মাওলানা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসন থেকে 'রিকশা' প্রতীকে লড়াই করে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারা দেশে উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও আসন সংখ্যায় তার প্রতিফলন ঘটেনি।

 

​তাঁরা হারেননি, কেন বলছি?

​ইসলামী রাজনীতির এই দুই মহীরুহ নির্বাচনী অংকে পিছিয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু তাঁদের নৈতিক বিজয় সুনিশ্চিত,

​ভোটের রাজনীতি বনাম আদর্শের রাজনীতি: তাঁরা আপসহীনভাবে ইনসাফ ও খিলাফত ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলে গেছেন। সস্তা জনপ্রিয়তার চেয়ে তাঁরা সত্য প্রচারকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

​বিপ্লবের সিপাহসালার: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে দীর্ঘ সংগ্রামের পথে তাঁরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কোনো সংসদীয় পদ পদবী তার চেয়ে বড় নয়।

​মানুষের ভালোবাসা: নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমানসে যে আক্ষেপ দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁদের আসন অনেক উপরে।

​পরাজয়টা আমাদের সমষ্টিগত

​নির্বাচনী পরিসংখ্যানের আড়ালে আমাদের কিছু বিচ্যুতি ধরা পড়েছে:

​সচেতনতার অভাব: আমরা আবেগ দিয়ে বিচার করেছি, কিন্তু ব্যালট বক্সে নিজেদের আদর্শিক নেতাদের নিশ্চিত করতে পারিনি।

​বিভক্তি: আলেমদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত থাকা এবং একক প্লাটফর্মে আসতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে এবারের নির্বাচনেও।


​বিবেকের প্রশ্ন: একজন নির্ভীক আলেম যখন সংসদে যাওয়ার সুযোগ হারান, তখন সংসদে হক কথা বলার মতো সাহসী কণ্ঠস্বর কমে যায়। এটি জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

​"ভোটের সংখ্যা দিয়ে সত্য-মিথ্যার বিচার হয় না। আম্বিয়াদের উত্তরসূরিরা হারেন না, তাঁরা কেবল পরীক্ষা দেন। আমরাই তাঁদের যোগ্য সাথী হতে পারিনি।"


​মুফতি ফয়জুল করীম ও মাওলানা মামুনুল হক্বরা সাময়িক রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় হারিয়ে যাওয়ার নাম নয়। তাঁরা নক্ষত্রের মতো, অন্ধকার যত ঘনীভূত হবে, তাঁদের প্রয়োজন তত বাড়বে। ত্রয়োদশ নির্বাচনের এই ফলাফল আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা—যদি আমরা আমাদের আদর্শবান রাহবারদের মূল্যায়ন করতে না শিখি, তবে আগামীর দিনগুলোতে সঠিক নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ