দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাড়েয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার রায়ের বাড়িতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে পুলিশ দেন।
এ ঘটনায় রাতেই সন্তোষ কুমার রায় (৪০) বাদী হয়ে বোচাগঞ্জ থানায় দুজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে আটক দুজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার এনসিপি নেতার নাম এম এ তাফসীর (৩৩)। তিনি এনসিপির জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব ও বোচাগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী। তাঁর বাড়ি উপজেলার ধনতলা (কলেজ রোড) গ্রামে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম এ তাফসীর দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র নিলেও জমা দেননি। গ্রেপ্তার অন্যজন হলেন উপজেলার মঞ্জুরুল আলম (৩৬)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বোচাগঞ্জের বাড়েয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার রায় ও তাঁর ভাই পরিমল চন্দ্র রায় একই বাড়িতে থাকেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতের খাবার শেষে তাঁরা ঘুমাতে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামি মঞ্জুরুল আলমসহ কয়েকজন লোহার পাইপ, স্টিলের লাঠি হাতে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে পরিমলকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় সন্তোষ ঘর থেকে বেরিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা ‘প্রশাসনের লোক’ বলে পরিচয় দেন।
পরিমলকে বাড়িতে না পেয়ে আসামিদের একজন পরিমলের স্ত্রী স্মৃতি রানীর গলা চেপে ধরে বলেন, ‘তোর স্বামীকে বের করে দে, না হলে তোর ট্রাঙ্কের চাবি দে।’ চাবি না পেলে সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তখন সন্তোষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও হাতেনাতে আটক হন মঞ্জুরুল আলম। তখন স্থানীয় লোকজনকে মঞ্জুরুল বলেন যে এনসিপি নেতা তাফসীরের হুকুমেই তিনি পরিমলের বাড়িতে এসেছেন। পরে তাফসীর ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, গতকাল দিবাগত রাতে একটি বাড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হন ওই দুই ব্যক্তি। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এ বিষয়ে এনসিপির জেলার আহ্বায়ক মো. শামসুল মুক্তাদির বলেন, ‘তাফসীর জেলা কমিটিতে থাকলেও তিনি মূলত বোচাগঞ্জ উপজেলাতেই কাজ করেন। সকালে জানতে পেরেছি যে তাঁকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনও নাকি সাক্ষ্য দিয়েছেন। পুলিশ যেহেতু তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে, সে ক্ষেত্রে পুলিশ তাদের মতো তদন্ত কার্যক্রম করবে। দলীয়ভাবেও বিষয়টি তদন্ত করা হবে। প্রমাণিত হলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাড়েয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার রায়ের বাড়িতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করে পুলিশ দেন।
এ ঘটনায় রাতেই সন্তোষ কুমার রায় (৪০) বাদী হয়ে বোচাগঞ্জ থানায় দুজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে আটক দুজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তার এনসিপি নেতার নাম এম এ তাফসীর (৩৩)। তিনি এনসিপির জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব ও বোচাগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী। তাঁর বাড়ি উপজেলার ধনতলা (কলেজ রোড) গ্রামে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম এ তাফসীর দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র নিলেও জমা দেননি। গ্রেপ্তার অন্যজন হলেন উপজেলার মঞ্জুরুল আলম (৩৬)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বোচাগঞ্জের বাড়েয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার রায় ও তাঁর ভাই পরিমল চন্দ্র রায় একই বাড়িতে থাকেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতের খাবার শেষে তাঁরা ঘুমাতে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামি মঞ্জুরুল আলমসহ কয়েকজন লোহার পাইপ, স্টিলের লাঠি হাতে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে পরিমলকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় সন্তোষ ঘর থেকে বেরিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা ‘প্রশাসনের লোক’ বলে পরিচয় দেন।
পরিমলকে বাড়িতে না পেয়ে আসামিদের একজন পরিমলের স্ত্রী স্মৃতি রানীর গলা চেপে ধরে বলেন, ‘তোর স্বামীকে বের করে দে, না হলে তোর ট্রাঙ্কের চাবি দে।’ চাবি না পেলে সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তখন সন্তোষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও হাতেনাতে আটক হন মঞ্জুরুল আলম। তখন স্থানীয় লোকজনকে মঞ্জুরুল বলেন যে এনসিপি নেতা তাফসীরের হুকুমেই তিনি পরিমলের বাড়িতে এসেছেন। পরে তাফসীর ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, গতকাল দিবাগত রাতে একটি বাড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হন ওই দুই ব্যক্তি। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এ বিষয়ে এনসিপির জেলার আহ্বায়ক মো. শামসুল মুক্তাদির বলেন, ‘তাফসীর জেলা কমিটিতে থাকলেও তিনি মূলত বোচাগঞ্জ উপজেলাতেই কাজ করেন। সকালে জানতে পেরেছি যে তাঁকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনও নাকি সাক্ষ্য দিয়েছেন। পুলিশ যেহেতু তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে, সে ক্ষেত্রে পুলিশ তাদের মতো তদন্ত কার্যক্রম করবে। দলীয়ভাবেও বিষয়টি তদন্ত করা হবে। প্রমাণিত হলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন