যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হতাশাজনক হারের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে মিশ্র বার্তা দিচ্ছেন। একদিকে তিনি ইরানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার যুদ্ধ অবসানের ইঙ্গিতও দিচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইরানের বাকি অংশও ‘ধ্বংস’ করতে হতে পারে। তবে পরদিনই তিনি আবার দাবি করেন, আমরা ইরানের সঙ্গে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের করা বেশ কিছু দাবি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে ট্রাম্প এখন একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতেও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে সামরিক হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এসব হামলা করেছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে যে, তারা কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি আবারও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাবে? মনে হচ্ছে, তেহরান এ ধরনের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ করছে, যা তেজস্ক্রিয়তা থেকে থাইরয়েড গ্রন্থিকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করা যায় না, তিনি এই অপরাধ করতেও পারেন। এ ছাড়া একটি মার্কিন পরমাণু হামলা নিয়ে তেহরান গভীরভাবে চিন্তিত বলে জানা গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি কর্মসূচির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্যের জন্য দুই কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
ট্রাম্প বর্তমানে দেশে এবং নিজ দলের ভেতরেই যুদ্ধ নিয়ে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ পুনরায় শুরু করে, তবে তারা আরও বড় পরিসরে পাল্টা হামলা চালাবে। তবে এসব উত্তেজনার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান একটি নতুন পারমাণবিক ও শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ‘উপযুক্ত সময়ের’ অপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন কোন পথে হাঁটে। সূত্র: আল জাজিরা

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হতাশাজনক হারের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে মিশ্র বার্তা দিচ্ছেন। একদিকে তিনি ইরানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে আবার যুদ্ধ অবসানের ইঙ্গিতও দিচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইরানের বাকি অংশও ‘ধ্বংস’ করতে হতে পারে। তবে পরদিনই তিনি আবার দাবি করেন, আমরা ইরানের সঙ্গে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের করা বেশ কিছু দাবি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে ট্রাম্প এখন একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতেও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে সামরিক হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এসব হামলা করেছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে যে, তারা কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি আবারও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাবে? মনে হচ্ছে, তেহরান এ ধরনের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণ করছে, যা তেজস্ক্রিয়তা থেকে থাইরয়েড গ্রন্থিকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করা যায় না, তিনি এই অপরাধ করতেও পারেন। এ ছাড়া একটি মার্কিন পরমাণু হামলা নিয়ে তেহরান গভীরভাবে চিন্তিত বলে জানা গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি কর্মসূচির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্যের জন্য দুই কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
ট্রাম্প বর্তমানে দেশে এবং নিজ দলের ভেতরেই যুদ্ধ নিয়ে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ পুনরায় শুরু করে, তবে তারা আরও বড় পরিসরে পাল্টা হামলা চালাবে। তবে এসব উত্তেজনার আড়ালে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান একটি নতুন পারমাণবিক ও শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ‘উপযুক্ত সময়ের’ অপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন কোন পথে হাঁটে। সূত্র: আল জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন