সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।দেবীর মুখাবয়ব ফুটিয়ে তোলা ও প্রতিমার সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মৃৎশিল্পীরা।
অন্যদিকে, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ। সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায়।
শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর শিউলির সুবাসে প্রকৃতিতে বইছে আগমনী বার্তা। আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি এবং কয়েক ধাপে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষে এখন চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত কারিগরেরা।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূজামণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি বরাদ্দের ৬০০ কেজি করে চালের ডিও বিতরণ করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড অয়ন ফারহান শামস,জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাছেত সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক কেশব চন্দ্র কর, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পূজামণ্ডপের সভাপতি-সম্পাদকসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের নাপিতপাড়া গীতালি সার্বজনীন মণ্ডপের মৃৎশিল্পী বিশ্বনাথ পাল বলেন, পূজা ঘনিয়ে আসায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিমার আকারভেদে ১৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাওয়া যায়। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও সে তুলনায় মজুরি বাড়েনি। ফলে কাঙ্ক্ষিত লাভ হচ্ছে না।
একই ধরনের হতাশার কথা জানান পাকেরহাট পানধোয়ার ঘাট পণ্ডিতপাড়া মণ্ডপের আরেক কারিগর উত্তম কুমার পাল।
তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও উৎসবের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি নেই। এ বছর খানসামা উপজেলায় মোট ১৪৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০টি বেশি।
শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। এখন অপেক্ষা মহাষষ্ঠীর ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর দেবীবন্দনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনার।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।দেবীর মুখাবয়ব ফুটিয়ে তোলা ও প্রতিমার সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মৃৎশিল্পীরা।
অন্যদিকে, মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ। সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায়।
শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর শিউলির সুবাসে প্রকৃতিতে বইছে আগমনী বার্তা। আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি এবং কয়েক ধাপে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষে এখন চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত কারিগরেরা।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূজামণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি বরাদ্দের ৬০০ কেজি করে চালের ডিও বিতরণ করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড অয়ন ফারহান শামস,জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাছেত সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক কেশব চন্দ্র কর, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পূজামণ্ডপের সভাপতি-সম্পাদকসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের নাপিতপাড়া গীতালি সার্বজনীন মণ্ডপের মৃৎশিল্পী বিশ্বনাথ পাল বলেন, পূজা ঘনিয়ে আসায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিমার আকারভেদে ১৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাওয়া যায়। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও সে তুলনায় মজুরি বাড়েনি। ফলে কাঙ্ক্ষিত লাভ হচ্ছে না।
একই ধরনের হতাশার কথা জানান পাকেরহাট পানধোয়ার ঘাট পণ্ডিতপাড়া মণ্ডপের আরেক কারিগর উত্তম কুমার পাল।
তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও উৎসবের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি নেই। এ বছর খানসামা উপজেলায় মোট ১৪৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০টি বেশি।
শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। এখন অপেক্ষা মহাষষ্ঠীর ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর দেবীবন্দনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনার।

আপনার মতামত লিখুন