দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে বন্যা আতঙ্ক।

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে বন্যা আতঙ্ক।

​

সুনামগঞ্জে টানা মুষলধারে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি। গত ৭ জুলাই রাত থেকে শুরু হওয়া এই অবিরাম বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে মাঝারি ধরনের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছ।

​পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, জেলার নদীগুলোর পানি এখনও বেশিরভাগ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচে থাকলেও তা দ্রুত ওপরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে দিরাই উপজেলার মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতিমধ্যেই বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

​এদিকে, সুনামগঞ্জের সাথে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সড়কটির শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে প্রায় ১২০ মিটার রাস্তা তলিয়ে গেছে। ফলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

​সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

​সুরমা নদী ষোলঘর পয়েন্ট গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ সেমি পানি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ৬০ সেমি নিচ দিয়ে বইছে।

​সুরমা নদী ছাতক পয়েন্ট ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ সেমি পানি বেড়ে এখন বিপদসীমার ৫৩ সেমি নিচে রয়েছে।

​লাউড়েরগড় ও শক্তিয়ারখলা: তাহিরপুরের লাউড়েরগড়ে ১২৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলা এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ সেমি পানি বাড়লেও তা এখনো বিপদসীমার ৩৫ সেমি নিচে রয়েছে।

​টানা দুই দিনের এই বর্ষণে সুনামগঞ্জ শহরের নিচু এলাকা ও রাস্তাঘাটে ইতিমধ্যেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাউবোর আশঙ্কা, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত যদি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা এভাবে অব্যাহত থাকে, তবে জেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা পার হয়ে যেতে পারে।

​এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (টু) এমদাদুল হক জানান:

​গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় যে ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। নদীর তীরবর্তী ও হাওর এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে বন্যা আতঙ্ক।

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image

​




সুনামগঞ্জে টানা মুষলধারে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি। গত ৭ জুলাই রাত থেকে শুরু হওয়া এই অবিরাম বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে মাঝারি ধরনের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছ।


​পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, জেলার নদীগুলোর পানি এখনও বেশিরভাগ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচে থাকলেও তা দ্রুত ওপরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে দিরাই উপজেলার মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতিমধ্যেই বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

​এদিকে, সুনামগঞ্জের সাথে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সড়কটির শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে প্রায় ১২০ মিটার রাস্তা তলিয়ে গেছে। ফলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

​সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


​সুরমা নদী ষোলঘর পয়েন্ট গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ সেমি পানি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ৬০ সেমি নিচ দিয়ে বইছে।


​সুরমা নদী ছাতক পয়েন্ট ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ সেমি পানি বেড়ে এখন বিপদসীমার ৫৩ সেমি নিচে রয়েছে।

​লাউড়েরগড় ও শক্তিয়ারখলা: তাহিরপুরের লাউড়েরগড়ে ১২৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলা এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ সেমি পানি বাড়লেও তা এখনো বিপদসীমার ৩৫ সেমি নিচে রয়েছে।

​টানা দুই দিনের এই বর্ষণে সুনামগঞ্জ শহরের নিচু এলাকা ও রাস্তাঘাটে ইতিমধ্যেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাউবোর আশঙ্কা, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত যদি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা এভাবে অব্যাহত থাকে, তবে জেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা পার হয়ে যেতে পারে।

​এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (টু) এমদাদুল হক জানান:

​গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় যে ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। নদীর তীরবর্তী ও হাওর এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি রয়েছে।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ