মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জমির মুন্সীকে পরিকল্পিতভাবে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জমির মুন্সীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নুরু বাউল গ্রুপ ও সরকার গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। কোরবানির ঈদের প্রায় সাত দিন আগে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে। এরপর থেকেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিপক্ষের হামলা, হুমকি ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সংঘর্ষের আগের দিন তার ভাতিজা নিজাম মুন্সীকে গরুর হাটের পাশে একটি গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার একটি পা ভেঙে যায়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য ভিডিওতে ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জমির মুন্সীর ভাষ্য, পরদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোল্লাকান্দি থেকে বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে শহীদ বাউল, নুরু বাউলের ছেলে মিঠুন বাউলসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তার পরনের শার্ট, গেঞ্জি ও লুঙ্গি ছিঁড়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, পরে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। অথচ ঘটনাস্থলে কোনো নারী উপস্থিত ছিলেন না এবং এমন অভিযোগের পক্ষে কেউ কোনো প্রমাণও দেখাতে পারেনি। পুলিশও তাকে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে পূর্বের একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জমির মুন্সীর অভিযোগ, শহীদ বাউল, নুরু বাউল, মুক্তার হোসেনসহ প্রতিপক্ষের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করে আসছে। নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ সাজিয়ে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তার বাড়িতে দুই দফা হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। প্রথম দফার হামলার পর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। এরপর ঈদের পর আবারও তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জমির মুন্সীর ভাষ্য, সম্প্রতি মুক্তার হোসেন, শহীদ বাউল ও নুরু বাউলের নির্দেশে মিঠুন বাউলসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাকে নারী কেলেঙ্কারির নাটক সাজিয়ে হয়রানিসহ তিনি ও তার দলের সুনাম ক্ষুন্ন করে।
তিনি জানান, বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সরকার ও বাউল গ্রুপ ঝগড়ার শেষে এক পর্যায়ে বাউল গ্রুপের সহিদ বাউল ও মিঠুন বাউলের নেতৃত্বে জমির মুন্সীর এবং নিজাম মুন্সির বাড়ি ঘরে অতর্কিত হামলা করে বাড়িঘর ও আসবারপত্র ভাঙচুর সহ কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে। উপায়ান্তু না পেয়ে জমির মুন্সি ও নিজাম মুন্স বাদী হয়ে আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর প্রতিপক্ষ শহীদ বাউল মামলা প্রত্যাহারের জন্য জমির মুন্সী ও নিজাম মুন্সীকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। হুমকি ধমকিতে কাজ না হওয়ায় সর্বশেষ জমির মুন্সীকে আটকে নারী কেলেঙ্কারির নাটক সাজিয়ে হেয় করার চেষ্টা করে বলে জমির মুন্সীর অভিযোগ।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জমির মুন্সীকে পরিকল্পিতভাবে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জমির মুন্সীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নুরু বাউল গ্রুপ ও সরকার গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। কোরবানির ঈদের প্রায় সাত দিন আগে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে। এরপর থেকেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিপক্ষের হামলা, হুমকি ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সংঘর্ষের আগের দিন তার ভাতিজা নিজাম মুন্সীকে গরুর হাটের পাশে একটি গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার একটি পা ভেঙে যায়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে বিভিন্ন বক্তব্য ভিডিওতে ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জমির মুন্সীর ভাষ্য, পরদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোল্লাকান্দি থেকে বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে শহীদ বাউল, নুরু বাউলের ছেলে মিঠুন বাউলসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তার পরনের শার্ট, গেঞ্জি ও লুঙ্গি ছিঁড়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, পরে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। অথচ ঘটনাস্থলে কোনো নারী উপস্থিত ছিলেন না এবং এমন অভিযোগের পক্ষে কেউ কোনো প্রমাণও দেখাতে পারেনি। পুলিশও তাকে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে পূর্বের একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জমির মুন্সীর অভিযোগ, শহীদ বাউল, নুরু বাউল, মুক্তার হোসেনসহ প্রতিপক্ষের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করে আসছে। নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ সাজিয়ে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের ঘটনায় তার বাড়িতে দুই দফা হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। প্রথম দফার হামলার পর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। এরপর ঈদের পর আবারও তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জমির মুন্সীর ভাষ্য, সম্প্রতি মুক্তার হোসেন, শহীদ বাউল ও নুরু বাউলের নির্দেশে মিঠুন বাউলসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাকে নারী কেলেঙ্কারির নাটক সাজিয়ে হয়রানিসহ তিনি ও তার দলের সুনাম ক্ষুন্ন করে।
তিনি জানান, বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সরকার ও বাউল গ্রুপ ঝগড়ার শেষে এক পর্যায়ে বাউল গ্রুপের সহিদ বাউল ও মিঠুন বাউলের নেতৃত্বে জমির মুন্সীর এবং নিজাম মুন্সির বাড়ি ঘরে অতর্কিত হামলা করে বাড়িঘর ও আসবারপত্র ভাঙচুর সহ কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে। উপায়ান্তু না পেয়ে জমির মুন্সি ও নিজাম মুন্স বাদী হয়ে আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর প্রতিপক্ষ শহীদ বাউল মামলা প্রত্যাহারের জন্য জমির মুন্সী ও নিজাম মুন্সীকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। হুমকি ধমকিতে কাজ না হওয়ায় সর্বশেষ জমির মুন্সীকে আটকে নারী কেলেঙ্কারির নাটক সাজিয়ে হেয় করার চেষ্টা করে বলে জমির মুন্সীর অভিযোগ।

আপনার মতামত লিখুন