লালমনিরহাটে এনজিওর ম্যানেজার পরিচয়ে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা দেওয়ার নাম করে এক নারীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কাকেয়াটেপা এলাকার ভারতী রানী (৪৬)। এই ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ মে) সকালে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ভুক্তভোগী ভারতী রানীর ফোনে একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ঠ্যাংগামারা সমিতি’র (টিএমএসএস) ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেয়। আলাপচারিতার একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ঘর নির্মাণ, গৃহপালিত গরু প্রদান, ৩০টি রিং স্ল্যাব এবং সংসার পরিচালনার খরচসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বড় ধরনের অনুদান পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
"সহজ-সরল মানুষকে সরকারি সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল ওই ব্যক্তির মূল উদ্দেশ্য।"
-ভারতী রানী, ভুক্তভোগী। নিউজ সূত্রে জানা গেছে, এসব সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করার অজুহাতে ওই প্রতারক ভুক্তভোগীর কাছে অগ্রিম ভ্যাট বা খরচ বাবদ সাড়ে ১৪ হাজার টাকা দাবি করে। তার কথায় সরল বিশ্বাস করে ভারতী রানী মোবাইল ব্যাংকিং সেবা 'বিকাশ'-এর মাধ্যমে উল্লিখিত টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর প্রতারক চক্রটি এখানেই দমে যায়নি; তারা উল্টো আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করে বসে।
পরপর দুইবার মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করায় ভুক্তভোগীর মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। পরবর্তীতে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, তিনি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পেরে ভারতী রানী টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাত ও টালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি তার পরিবারকে জানান এবং পরবর্তীতে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর সন্দেহ, 'জাহাঙ্গীর' নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে এনজিও কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিরীহ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এনজিও বা বিভিন্ন নামী-দামী সংস্থার ভুয়া নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ ধরনের জালিয়াতি রুখতে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট থানা সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত এই প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার এবং হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
লালমনিরহাটে এনজিওর ম্যানেজার পরিচয়ে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা দেওয়ার নাম করে এক নারীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কাকেয়াটেপা এলাকার ভারতী রানী (৪৬)। এই ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ মে) সকালে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ভুক্তভোগী ভারতী রানীর ফোনে একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ঠ্যাংগামারা সমিতি’র (টিএমএসএস) ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেয়। আলাপচারিতার একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ঘর নির্মাণ, গৃহপালিত গরু প্রদান, ৩০টি রিং স্ল্যাব এবং সংসার পরিচালনার খরচসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বড় ধরনের অনুদান পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
"সহজ-সরল মানুষকে সরকারি সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল ওই ব্যক্তির মূল উদ্দেশ্য।"
-ভারতী রানী, ভুক্তভোগী। নিউজ সূত্রে জানা গেছে, এসব সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করার অজুহাতে ওই প্রতারক ভুক্তভোগীর কাছে অগ্রিম ভ্যাট বা খরচ বাবদ সাড়ে ১৪ হাজার টাকা দাবি করে। তার কথায় সরল বিশ্বাস করে ভারতী রানী মোবাইল ব্যাংকিং সেবা 'বিকাশ'-এর মাধ্যমে উল্লিখিত টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর প্রতারক চক্রটি এখানেই দমে যায়নি; তারা উল্টো আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করে বসে।
পরপর দুইবার মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করায় ভুক্তভোগীর মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। পরবর্তীতে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, তিনি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পেরে ভারতী রানী টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাত ও টালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি তার পরিবারকে জানান এবং পরবর্তীতে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর সন্দেহ, 'জাহাঙ্গীর' নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে এনজিও কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিরীহ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এনজিও বা বিভিন্ন নামী-দামী সংস্থার ভুয়া নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ ধরনের জালিয়াতি রুখতে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট থানা সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী দ্রুত এই প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার এবং হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন