শত্রুতা ভুলে মানুষ যখন শান্তির পথ খোঁজে, সমাজ তখন তাকে বাহবা দেয়। কিন্তু লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ঘটলো তার উল্টো ঘটনা। দুই প্রতিবেশীর ঝগড়া থামিয়ে দিতে গিয়েছিলেন রবিউল ইসলাম নামের এক যুবক। আর এই 'অপরাধেই' তার ওপর নেমে এলো মধ্যযুগীয় বর্বরতা। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার একটি পা দুই খণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সারপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রইসবাগ কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী মিজানুর রহমান মিজান। ঘটনার পর অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজান বলছেন ভিন্ন কথা। অনুসন্ধানে জানা যায় ১৪ই মে সারপুকুর ইউনিয়নের টেপারবাজারে বিএনপি নেতা ও রইসবাগ কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী মিজানুর রহমান মিজানের সাথে তুচ্ছ ঘটনায় দ্বন্দ্ব বাঁধে একই এলাকার আতোয়ার রহমানের। পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই উভয়পক্ষকে শান্ত করতে এগিয়ে আসেন রবিউল ইসলাম। নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দুই পক্ষকে শান্ত করেন, মিটিয়ে দেন বিবাদ।
সবাই ভেবেছিল ঝামেলা বুঝি শেষ। কিন্তু ক্ষোভের আগুন তখনো জ্বলছিল একপক্ষের বুকে। অভিযোগ উঠেছে, আগের দিনের 'অপমান' সইতে না পেরে পরেরদিন ১৫ই মে একই ইউনিয়নের লকডাউন বাজারে ঘটে যায় নারকীয় হামলার ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের জানায় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে ১৫-২০জনের একটিদল লোহার রড, লাঠি আর দেশীয় অস্ত্রসহ অতর্কিতভাবে হামলা চালায় রবিউলের উপর। এতে রবিউলের একটিপায়ের দুই জায়গায় ভেঙ্গে যায় এবং অপর পা মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এছাড়াও বাম হাতেও প্রচন্ডভাবে আঘাত পান রবিউল।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিউলকে তাৎক্ষণিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এবিষয়ে অসহায় রবিউলের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজান হামলার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে দাবি করেন, দৌড়ে পালাতে গিয়ে পরে গিয়ে আহত হয়েছে রবিউল।
কিন্তু মিজানের এই দাবি এখন এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
একটি সমাজ কতটা সহিংস হলে, বিবাদ মীমাংসা করার পুরস্কার হিসেবে হাসপাতালের বেড উপহার পেতে হয়— রবিউলের ভাঙা পা আজ সেই প্রশ্নই তুলেছে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
শত্রুতা ভুলে মানুষ যখন শান্তির পথ খোঁজে, সমাজ তখন তাকে বাহবা দেয়। কিন্তু লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ঘটলো তার উল্টো ঘটনা। দুই প্রতিবেশীর ঝগড়া থামিয়ে দিতে গিয়েছিলেন রবিউল ইসলাম নামের এক যুবক। আর এই 'অপরাধেই' তার ওপর নেমে এলো মধ্যযুগীয় বর্বরতা। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার একটি পা দুই খণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সারপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রইসবাগ কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী মিজানুর রহমান মিজান। ঘটনার পর অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজান বলছেন ভিন্ন কথা। অনুসন্ধানে জানা যায় ১৪ই মে সারপুকুর ইউনিয়নের টেপারবাজারে বিএনপি নেতা ও রইসবাগ কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী মিজানুর রহমান মিজানের সাথে তুচ্ছ ঘটনায় দ্বন্দ্ব বাঁধে একই এলাকার আতোয়ার রহমানের। পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই উভয়পক্ষকে শান্ত করতে এগিয়ে আসেন রবিউল ইসলাম। নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দুই পক্ষকে শান্ত করেন, মিটিয়ে দেন বিবাদ।
সবাই ভেবেছিল ঝামেলা বুঝি শেষ। কিন্তু ক্ষোভের আগুন তখনো জ্বলছিল একপক্ষের বুকে। অভিযোগ উঠেছে, আগের দিনের 'অপমান' সইতে না পেরে পরেরদিন ১৫ই মে একই ইউনিয়নের লকডাউন বাজারে ঘটে যায় নারকীয় হামলার ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের জানায় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে ১৫-২০জনের একটিদল লোহার রড, লাঠি আর দেশীয় অস্ত্রসহ অতর্কিতভাবে হামলা চালায় রবিউলের উপর। এতে রবিউলের একটিপায়ের দুই জায়গায় ভেঙ্গে যায় এবং অপর পা মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এছাড়াও বাম হাতেও প্রচন্ডভাবে আঘাত পান রবিউল।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিউলকে তাৎক্ষণিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এবিষয়ে অসহায় রবিউলের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজান হামলার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে দাবি করেন, দৌড়ে পালাতে গিয়ে পরে গিয়ে আহত হয়েছে রবিউল।
কিন্তু মিজানের এই দাবি এখন এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
একটি সমাজ কতটা সহিংস হলে, বিবাদ মীমাংসা করার পুরস্কার হিসেবে হাসপাতালের বেড উপহার পেতে হয়— রবিউলের ভাঙা পা আজ সেই প্রশ্নই তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন