দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

তারিখ=০৯/০৮/২০২৬ ইং  বন্দরের রাস্তার ফোরলেন কাজের উদ্ভোধন করলেন ডা. জাহিদ

তারিখ=০৯/০৮/২০২৬ ইং বন্দরের রাস্তার ফোরলেন কাজের উদ্ভোধন করলেন ডা. জাহিদ

ছাত্রদল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে ৩৫ বছরের সংগ্রাম—১৬ মামলার ঝড় পেরিয়ে এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেই শিক্ষক নেতা

ছাত্রদল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে ৩৫ বছরের সংগ্রাম—১৬ মামলার ঝড় পেরিয়ে এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেই শিক্ষক নেতা

মদনে ইজারার নামে চাঁদা আদায়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি

মদনে ইজারার নামে চাঁদা আদায়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি

ইউএনওকে জানানোর পরও ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহ  কাজীর ‘খসড়া বিয়ে’ বক্তব্যে বিতর্ক, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ইউএনওকে জানানোর পরও ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহ কাজীর ‘খসড়া বিয়ে’ বক্তব্যে বিতর্ক, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ক্রয় কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও রোপণ কিত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ক্রয় কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা ও রোপণ কিত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে

১১দফা দাবীতে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিপ্রদান

১১দফা দাবীতে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিপ্রদান

তিস্তার আকস্মিক বন্যায় ভেঙে গেল সড়ক, ভোগান্তিতে ২ হাজার পরিবার

তিস্তার আকস্মিক বন্যায় ভেঙে গেল সড়ক, ভোগান্তিতে ২ হাজার পরিবার

ছাতকে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছাতকে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ: হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নকলায় ভূমি কর্মকর্তার যোগসাজসে নোটিশ গোপন করে পছন্দের ব্যক্তিকে খেয়াঘাট ইজারা দেয়ার অভিযোগ

নকলায় ভূমি কর্মকর্তার যোগসাজসে নোটিশ গোপন করে পছন্দের ব্যক্তিকে খেয়াঘাট ইজারা দেয়ার অভিযোগ

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নারায়নখোলা খেয়াঘাট ইজারা বিজ্ঞপ্তির নোটিশ গোপন করে স্বল্প মুল্যে পছন্দের ব্যক্তিকে খেয়াঘাট পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খেয়াঘাটটি ন্যায্য দরদাতা না পাওয়ায় বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি সাপেক্ষে খাস আদায় করা হচ্ছে জানালেও খেয়াঘাটের মাঝি জানিয়েছে ৭লাখ টাকায় তাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ৩০লাখ টাকার এই খেয়াঘাট মাত্র ৭লাখ টাকায় ইজারা দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা চলছে। 

ইতিপূর্বে এবিষয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হলে অনেকেই এই প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইজারা বিজ্ঞপ্তির নোটিশ গোপন করায় যথাযথ প্রতিযোগিতা না হওয়ায় সরকার প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবিও করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ দরদাতারা অভিযোগ করেন- ইজারা বিজ্ঞপ্তি গোপন করে প্রায় ৩০লাখ টাকা মূল্যের এই খেয়াঘাটটি মাত্র ৭লাখ টাকায় পছন্দের ব্যক্তিকে দিয়ে একদিকে যেমন সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করা হচ্ছে অপরদিকে ন্যায্য দরদাতাদের ঘাটের ইজারা নিতেও বাধা প্রদান করা হচ্ছে। 

নিয়ম অনুযায়ী সরকারি মালিকানাধীন খেয়াঘাটগুলো প্রতি বছর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার কথা। এর জন্য বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং অফিসের নোটিশ বোর্ডে তা টানিয়ে রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও শেরপুর,জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলা যাতায়াতের সংযোগ এলাকা নকলা উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলার এই গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাটের ক্ষেত্রে এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন জেলার সংযোগ এলাকা হিসাবে পরিচিত নারায়নখোলার এই খেয়া ঘাটের ইজারা হয় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে। এতে সাধারণ দরদাতাদের অংশ নিতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে নারায়ানখোলা ঘাটের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কোনো দৃশ্যমান স্থানে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়না।

অভিযোগ রয়েছে পছন্দের ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে ও অল্প দামে ইজারা নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য খেয়াঘাটের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা স্থানীয় চর অষ্টধর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হকের সাথে আতাত প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটকে নামমাত্র মূল্যে ঘাটটি ইজারা দিতেই এই "লুকোচুরি করছে। স্থানীয়রা আরো জানান- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে এই ঘাটের ইজারা হতো ২২-৩০ লাখ টাকায়। গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একটা মহল সরকারের রাজস্ব লুটে নিতে ইজারা গোপন করে পছন্দের ব্যক্তিদের নামমাত্র মুল্য ঘাট ইজারা দিয়ে সরকারি অর্থ লুট করে খাচ্ছে স্থানীয় নাইব ও প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট চক্র। 

ক্ষুব্ধ কয়েকজন দরদাতা জানান, "আমরা ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে আর কবে জমা নেওয়া হয়েছে তা কেউ জানতে পারেনি। একটি সিন্ডিকেট চর অষ্টধর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সাথে আতাত করে অফিসকে ম্যানেজ করে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় চর অষ্টধর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী একটি মহলের যোগসাজশে সাধারণ দরপত্র বিজ্ঞপ্তি বা মাইকিং না করেই এই গোপন ইজারা প্রক্রিয়া চালানোর ফলে খেয়া ঘাটের প্রকৃত বার্ষিক আয় ২৮লাখ টাকার বেশী হলেও এটি মাত্র ৭ লাখ টাকায় লিজ দেওয়ায় সরকারের প্রায় ২১লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাশবর্তী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়নের এক সাবেক চেয়ারম্যানের সাথে কথা হলে তিনি জানান-এই ঘাটটি আগে প্রায় ৪০-৫০লাখ টাকায় ইজারা হতো, এই রাজস্বের কিছু অংশ আমার এখানেও আসতো, কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদে এর রাজস্ব দেওয়া হয়না, খেয়াঘাটের ইজারা বিজ্ঞাপনটা কখন হয় তাও আমরা কেহ জানিনা,তিনি জানান-এখানে একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে তারা ইজারা বিজ্ঞাপনের নোটিশ গোপন করে নিজেদের ফায়দা লুটছে। 

নোটিশ গোপনের অভিযোগের বিষয়ে নকলা উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল উদ্দিনকে তার মুঠোফোনে কল দিলে ব্যস্ততা দেখিয়ে বক্তব্য দেয়া থেকে এড়িয়ে যান। 

এই বিষয়ে চর অষ্টধর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান-

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে এই খেয়া ঘাটের ইজারা হয়, ন্যায্য মুল্যে ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী দরদাতা না পাওয়ায় খেয়াঘাট টি বর্তমানে খাস আদায় করা হচ্ছে। খাস আদায়কৃত অর্থ ১৫দিন পর-পর বিভাগীয় কমিশনারের একাউন্টে জমা দেয়া হয়।

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এই বিষয়ে তদন্তের জন্য স্থানীয় এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে এই অনিয়মের ফলে ঘাটে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরাও শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, কম মূল্যে ইজারা পেলেও সিন্ডিকেটটি যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। সচেতন মহল এই খাস আদায় বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঘাটের ইজারা দেওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


নকলায় ভূমি কর্মকর্তার যোগসাজসে নোটিশ গোপন করে পছন্দের ব্যক্তিকে খেয়াঘাট ইজারা দেয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image


শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নারায়নখোলা খেয়াঘাট ইজারা বিজ্ঞপ্তির নোটিশ গোপন করে স্বল্প মুল্যে পছন্দের ব্যক্তিকে খেয়াঘাট পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খেয়াঘাটটি ন্যায্য দরদাতা না পাওয়ায় বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি সাপেক্ষে খাস আদায় করা হচ্ছে জানালেও খেয়াঘাটের মাঝি জানিয়েছে ৭লাখ টাকায় তাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ৩০লাখ টাকার এই খেয়াঘাট মাত্র ৭লাখ টাকায় ইজারা দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা চলছে। 


ইতিপূর্বে এবিষয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশিত হলে অনেকেই এই প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইজারা বিজ্ঞপ্তির নোটিশ গোপন করায় যথাযথ প্রতিযোগিতা না হওয়ায় সরকার প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবিও করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ দরদাতারা অভিযোগ করেন- ইজারা বিজ্ঞপ্তি গোপন করে প্রায় ৩০লাখ টাকা মূল্যের এই খেয়াঘাটটি মাত্র ৭লাখ টাকায় পছন্দের ব্যক্তিকে দিয়ে একদিকে যেমন সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করা হচ্ছে অপরদিকে ন্যায্য দরদাতাদের ঘাটের ইজারা নিতেও বাধা প্রদান করা হচ্ছে। 


নিয়ম অনুযায়ী সরকারি মালিকানাধীন খেয়াঘাটগুলো প্রতি বছর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার কথা। এর জন্য বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং অফিসের নোটিশ বোর্ডে তা টানিয়ে রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও শেরপুর,জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলা যাতায়াতের সংযোগ এলাকা নকলা উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলার এই গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাটের ক্ষেত্রে এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।


 স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন জেলার সংযোগ এলাকা হিসাবে পরিচিত নারায়নখোলার এই খেয়া ঘাটের ইজারা হয় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে। এতে সাধারণ দরদাতাদের অংশ নিতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে নারায়ানখোলা ঘাটের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কোনো দৃশ্যমান স্থানে ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়না।


অভিযোগ রয়েছে পছন্দের ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে ও অল্প দামে ইজারা নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য খেয়াঘাটের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা স্থানীয় চর অষ্টধর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হকের সাথে আতাত প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটকে নামমাত্র মূল্যে ঘাটটি ইজারা দিতেই এই "লুকোচুরি করছে। স্থানীয়রা আরো জানান- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে এই ঘাটের ইজারা হতো ২২-৩০ লাখ টাকায়। গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একটা মহল সরকারের রাজস্ব লুটে নিতে ইজারা গোপন করে পছন্দের ব্যক্তিদের নামমাত্র মুল্য ঘাট ইজারা দিয়ে সরকারি অর্থ লুট করে খাচ্ছে স্থানীয় নাইব ও প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট চক্র। 


ক্ষুব্ধ কয়েকজন দরদাতা জানান, "আমরা ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে আর কবে জমা নেওয়া হয়েছে তা কেউ জানতে পারেনি। একটি সিন্ডিকেট চর অষ্টধর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সাথে আতাত করে অফিসকে ম্যানেজ করে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করেছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় চর অষ্টধর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী একটি মহলের যোগসাজশে সাধারণ দরপত্র বিজ্ঞপ্তি বা মাইকিং না করেই এই গোপন ইজারা প্রক্রিয়া চালানোর ফলে খেয়া ঘাটের প্রকৃত বার্ষিক আয় ২৮লাখ টাকার বেশী হলেও এটি মাত্র ৭ লাখ টাকায় লিজ দেওয়ায় সরকারের প্রায় ২১লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


পাশবর্তী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়নের এক সাবেক চেয়ারম্যানের সাথে কথা হলে তিনি জানান-এই ঘাটটি আগে প্রায় ৪০-৫০লাখ টাকায় ইজারা হতো, এই রাজস্বের কিছু অংশ আমার এখানেও আসতো, কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদে এর রাজস্ব দেওয়া হয়না, খেয়াঘাটের ইজারা বিজ্ঞাপনটা কখন হয় তাও আমরা কেহ জানিনা,তিনি জানান-এখানে একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে তারা ইজারা বিজ্ঞাপনের নোটিশ গোপন করে নিজেদের ফায়দা লুটছে। 


নোটিশ গোপনের অভিযোগের বিষয়ে নকলা উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল উদ্দিনকে তার মুঠোফোনে কল দিলে ব্যস্ততা দেখিয়ে বক্তব্য দেয়া থেকে এড়িয়ে যান। 


এই বিষয়ে চর অষ্টধর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান-

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে এই খেয়া ঘাটের ইজারা হয়, ন্যায্য মুল্যে ইজারা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী দরদাতা না পাওয়ায় খেয়াঘাট টি বর্তমানে খাস আদায় করা হচ্ছে। খাস আদায়কৃত অর্থ ১৫দিন পর-পর বিভাগীয় কমিশনারের একাউন্টে জমা দেয়া হয়।


নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এই বিষয়ে তদন্তের জন্য স্থানীয় এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


তবে এই অনিয়মের ফলে ঘাটে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরাও শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, কম মূল্যে ইজারা পেলেও সিন্ডিকেটটি যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। সচেতন মহল এই খাস আদায় বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঘাটের ইজারা দেওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ