চরম দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে অভিমান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো আফরোজা খাতুন (৪৫) মারা গেছেন। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে না পেরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৭টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এর আগে গত বুধবার (৬ মে) রাতে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে একদিন দুই রাত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।
আফরোজা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের ফুটকিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার পরিবার চলত বৃদ্ধ মা হাজেরা খাতুনের ভিক্ষাবৃত্তির ওপর।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আফরোজার বাড়িতে তার মেয়ে আসমা ও জামাতা সহিদ বেড়াতে আসেন। ঘরে চরম অভাব থাকায় মেহমানদের ঠিকমতো আপ্যায়ন বা দেখাশোনা করতে পারছিলেন না তিনি। এই অভাবজনিত গ্লানি ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গত ৬ মে রাত ৯টার দিকে সবার অলক্ষ্যে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন আফরোজা।
অর্থাভাবে মেলেনি উন্নত চিকিৎসা
আফরোজা যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখন তাকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে চরম নিঃস্ব পরিবারটির পক্ষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। ফলে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে না ফেরার দেশে চলে যেতে হলো তাকে।
আফরোজার পরিবারের সদস্যরা জানান, উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। এখন মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া এবং দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করাও তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
চরম দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে অভিমান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো আফরোজা খাতুন (৪৫) মারা গেছেন। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে না পেরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৭টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এর আগে গত বুধবার (৬ মে) রাতে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে একদিন দুই রাত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।
আফরোজা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের ফুটকিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার পরিবার চলত বৃদ্ধ মা হাজেরা খাতুনের ভিক্ষাবৃত্তির ওপর।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আফরোজার বাড়িতে তার মেয়ে আসমা ও জামাতা সহিদ বেড়াতে আসেন। ঘরে চরম অভাব থাকায় মেহমানদের ঠিকমতো আপ্যায়ন বা দেখাশোনা করতে পারছিলেন না তিনি। এই অভাবজনিত গ্লানি ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গত ৬ মে রাত ৯টার দিকে সবার অলক্ষ্যে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন আফরোজা।
অর্থাভাবে মেলেনি উন্নত চিকিৎসা
আফরোজা যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখন তাকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে চরম নিঃস্ব পরিবারটির পক্ষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। ফলে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে না ফেরার দেশে চলে যেতে হলো তাকে।
আফরোজার পরিবারের সদস্যরা জানান, উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। এখন মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া এবং দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করাও তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন