স্বামী ভবঘুরে বলে একরকম রাগ করেই তিন বছর আগে বিদেশে পাড়ি জমান আমেনা বেগম। শাশুড়ির কাছে রেখে যান আদরের একমাত্র ছেলে আলিফ ইসলামকে (১১)। মায়ের কথামতো আলিফকে তার দাদি গত ৩১ ডিসেম্বর উপজেলার সফিপুরে সাফিয়াতুল উম্মাহ ক্যাডেট মডেল মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে আবাসিকে রেখে যান। তবে কিছুতেই সেখানে থাকতে চাচ্ছিল না শিশুটি। গতকাল বুধবার সকালে মাদ্রাসা ভবনের নিচে মেলে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। ধারণা করা হচ্ছে, পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সাফিয়াতুল উম্মাহ ক্যাডেট মডেল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ধারণা, আলিফ ইসলাম মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ভবনের সাততলার ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিল বা শৌচাগারের পানির পাইপ ধরে নিচে নামার সময় পড়ে গিয়েছিল। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশুটি উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কৌচাকুড়ি গ্রামের শহিদ শাদানের ছেলে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, আলিফকে গত ৩১ ডিসেম্বর মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। মাদ্রাসার আবাসিক ভবনেই তাকে রেখে যান তার দাদি সুফিয়া বেগম। কিন্তু ভর্তির পর থেকেই শিশুটি কয়েকবার পালানোর চেষ্টা করলে দাদি এসে তাকে বুঝিয়ে রেখে যান। গত মঙ্গলবার রাতেও সে থাকতে না চাইলে আলিফের মা প্রবাসী আমেনা বেগমের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এতে শিশুটি শান্ত হয়। পরদিন সকালেই ঘটে এ দুর্ঘটনা।
মাদ্রাসা ভবনের নিরাপত্তাকর্মী দুলাল মিয়া বলেন, শিক্ষার্থী আলিফ ইসলাম যখন মাটিতে পড়ে তখন শব্দ পাই। একটা শব্দ শুনে তাকাতেই দেখি শিশুটি মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তবে সে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে না বাথরুমের পানির পাইপ ধরে নামার সময় হাত ফসকে পড়ে গেছে বুঝতে পারিনি। স্থানীয়রা শিশুটিকে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিক্ষার্থীর দাদি সুফিয়া বেগম বলেন, সকালে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আলিফের লাশ দেখতে পাই। এক সপ্তাহ আগে তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করি। কিন্তু কোনোমতেই সেখানে মাদ্রাসার আবাসিকে থাকতে চাইছিল না সে। তবু জোর করে রাখার চেষ্টা করি। আমরা বুঝতে পারিনি যে, ও এভাবে সাততলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা যাবে।
মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ওই শিক্ষার্থী সপ্তাহখানেক আগে নতুন ভর্তি হয়েছে। ভর্তির পর থেকেই সে আবাসিক ভবনে থাকতে চাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে তার স্বজনদের সঙ্গে এ নিয়ে অনেকবার কথা বলেছি। এর আগেও কয়েকবার পালাতে চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, শিশুটি ছাদ থেকে কীভাবে নিচে পড়ল, তা বুঝতে পারছি না।
কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, শিশুটির মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ দিলে মামলা নিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
স্বামী ভবঘুরে বলে একরকম রাগ করেই তিন বছর আগে বিদেশে পাড়ি জমান আমেনা বেগম। শাশুড়ির কাছে রেখে যান আদরের একমাত্র ছেলে আলিফ ইসলামকে (১১)। মায়ের কথামতো আলিফকে তার দাদি গত ৩১ ডিসেম্বর উপজেলার সফিপুরে সাফিয়াতুল উম্মাহ ক্যাডেট মডেল মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে আবাসিকে রেখে যান। তবে কিছুতেই সেখানে থাকতে চাচ্ছিল না শিশুটি। গতকাল বুধবার সকালে মাদ্রাসা ভবনের নিচে মেলে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। ধারণা করা হচ্ছে, পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সাফিয়াতুল উম্মাহ ক্যাডেট মডেল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ধারণা, আলিফ ইসলাম মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ভবনের সাততলার ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিল বা শৌচাগারের পানির পাইপ ধরে নিচে নামার সময় পড়ে গিয়েছিল। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশুটি উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কৌচাকুড়ি গ্রামের শহিদ শাদানের ছেলে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, আলিফকে গত ৩১ ডিসেম্বর মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। মাদ্রাসার আবাসিক ভবনেই তাকে রেখে যান তার দাদি সুফিয়া বেগম। কিন্তু ভর্তির পর থেকেই শিশুটি কয়েকবার পালানোর চেষ্টা করলে দাদি এসে তাকে বুঝিয়ে রেখে যান। গত মঙ্গলবার রাতেও সে থাকতে না চাইলে আলিফের মা প্রবাসী আমেনা বেগমের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এতে শিশুটি শান্ত হয়। পরদিন সকালেই ঘটে এ দুর্ঘটনা।
মাদ্রাসা ভবনের নিরাপত্তাকর্মী দুলাল মিয়া বলেন, শিক্ষার্থী আলিফ ইসলাম যখন মাটিতে পড়ে তখন শব্দ পাই। একটা শব্দ শুনে তাকাতেই দেখি শিশুটি মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তবে সে ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে না বাথরুমের পানির পাইপ ধরে নামার সময় হাত ফসকে পড়ে গেছে বুঝতে পারিনি। স্থানীয়রা শিশুটিকে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিক্ষার্থীর দাদি সুফিয়া বেগম বলেন, সকালে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আলিফের লাশ দেখতে পাই। এক সপ্তাহ আগে তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করি। কিন্তু কোনোমতেই সেখানে মাদ্রাসার আবাসিকে থাকতে চাইছিল না সে। তবু জোর করে রাখার চেষ্টা করি। আমরা বুঝতে পারিনি যে, ও এভাবে সাততলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা যাবে।
মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ওই শিক্ষার্থী সপ্তাহখানেক আগে নতুন ভর্তি হয়েছে। ভর্তির পর থেকেই সে আবাসিক ভবনে থাকতে চাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে তার স্বজনদের সঙ্গে এ নিয়ে অনেকবার কথা বলেছি। এর আগেও কয়েকবার পালাতে চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, শিশুটি ছাদ থেকে কীভাবে নিচে পড়ল, তা বুঝতে পারছি না।
কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, শিশুটির মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ দিলে মামলা নিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন