দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬

কোরআনের ক্লাসেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন শিক্ষক

কোরআনের ক্লাসেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন শিক্ষক

পবিত্র কোরআন হাতে নিয়ে আদরের ছাত্রের তিলাওয়াত শুনছিলেন তিনি। হঠাৎ নিথর হয়ে পড়ল দেহটি, প্রাণপাখি উড়ে গেল মহাপ্রভুর সান্নিধ্যে। ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে পবিত্র কোরআন পাঠদানরত অবস্থায় এক মহিমান্বিত মৃত্যুর সাক্ষী হলেন উপস্থিত ছাত্র ও মুসল্লিরা।

গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) মারিবের রুইমেলা এলাকার নুরা মসজিদে কোরআন হিফজের পাঠদানকালে ইন্তেকাল করেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও কোরআন গবেষক শায়খ ড. আলী মুহাম্মদ আস-সানআনি।

ড. আলী আস-সানআনি একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইয়েমেনের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম আলোকবর্তিকা। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নুরা মসজিদের হিফজুল কোরআন বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মারিব প্রদেশের কয়েক প্রজন্মের হাজারো শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে কোরআনের পাঠ গ্রহণ করেছেন। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল আকাশছোঁয়া; তিনি সম্মানের সঙ্গে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, মৃত্যুকালে শায়খ আস-সানআনি তাঁর চিরচেনা আসনে বসে ছিলেন। হাতে ছিল আল্লাহর কালাম, আর তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে এক ছাত্রের তিলাওয়াত শুনছিলেন। সেই অবস্থাতেই হঠাৎ তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। উপস্থিত ছাত্ররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কোরআনের এই নিরলস খাদেম তাঁর মহান স্রষ্টার ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। স্থানীয় বাসিন্দারা এই মৃত্যুকে ‘হুসনে খাতেমা’ বা ‘বরকতময় প্রস্থান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে ড. সানআনি তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং নম্রতার জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। প্রচারবিমুখ এই নিভৃতচারী আলেম তাঁর পুরো জীবন দ্বীনি শিক্ষা এবং দাওয়াতি মিশনের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। ইয়েমেনের ইসলামি শিক্ষাঙ্গনে তাঁর মৃত্যু এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

যে কোরআনকে তিনি জীবনের পাথেয় করেছিলেন, সেই কোরআনের খেদমতে থাকা অবস্থায়ই মহান রব তাঁকে নিজের কাছে ডেকে নিলেন। তাঁর এই বিদায় যেন প্রমাণ করল—মানুষ যেভাবে জীবন কাটায়, সেভাবেই তার সমাপ্তি ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


কোরআনের ক্লাসেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

পবিত্র কোরআন হাতে নিয়ে আদরের ছাত্রের তিলাওয়াত শুনছিলেন তিনি। হঠাৎ নিথর হয়ে পড়ল দেহটি, প্রাণপাখি উড়ে গেল মহাপ্রভুর সান্নিধ্যে। ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে পবিত্র কোরআন পাঠদানরত অবস্থায় এক মহিমান্বিত মৃত্যুর সাক্ষী হলেন উপস্থিত ছাত্র ও মুসল্লিরা।

গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) মারিবের রুইমেলা এলাকার নুরা মসজিদে কোরআন হিফজের পাঠদানকালে ইন্তেকাল করেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ও কোরআন গবেষক শায়খ ড. আলী মুহাম্মদ আস-সানআনি।

ড. আলী আস-সানআনি একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইয়েমেনের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম আলোকবর্তিকা। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নুরা মসজিদের হিফজুল কোরআন বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মারিব প্রদেশের কয়েক প্রজন্মের হাজারো শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে কোরআনের পাঠ গ্রহণ করেছেন। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল আকাশছোঁয়া; তিনি সম্মানের সঙ্গে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, মৃত্যুকালে শায়খ আস-সানআনি তাঁর চিরচেনা আসনে বসে ছিলেন। হাতে ছিল আল্লাহর কালাম, আর তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে এক ছাত্রের তিলাওয়াত শুনছিলেন। সেই অবস্থাতেই হঠাৎ তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। উপস্থিত ছাত্ররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কোরআনের এই নিরলস খাদেম তাঁর মহান স্রষ্টার ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। স্থানীয় বাসিন্দারা এই মৃত্যুকে ‘হুসনে খাতেমা’ বা ‘বরকতময় প্রস্থান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে ড. সানআনি তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং নম্রতার জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। প্রচারবিমুখ এই নিভৃতচারী আলেম তাঁর পুরো জীবন দ্বীনি শিক্ষা এবং দাওয়াতি মিশনের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। ইয়েমেনের ইসলামি শিক্ষাঙ্গনে তাঁর মৃত্যু এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

যে কোরআনকে তিনি জীবনের পাথেয় করেছিলেন, সেই কোরআনের খেদমতে থাকা অবস্থায়ই মহান রব তাঁকে নিজের কাছে ডেকে নিলেন। তাঁর এই বিদায় যেন প্রমাণ করল—মানুষ যেভাবে জীবন কাটায়, সেভাবেই তার সমাপ্তি ঘটে।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ