দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতের সকালের প্রাণ কুমড়োর বড়ি দেওয়ার গ্রামীন মহোৎসব।

শীতের সকালের প্রাণ কুমড়োর বড়ি দেওয়ার গ্রামীন মহোৎসব।

র শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নে শীতের শুরুতে গ্রামের আঙিনা সরগরম হয়ে উঠেছে বড়ি তৈরির উৎসবে। শীতের সকালের রোদে মেঠোপথের ধারে ধারে দেখা যাচ্ছে, গ্রামের মহিলারা কলার ডালের ওপর ছোট ছোট কুমড়োর বড়ি সাজিয়ে দিচ্ছেন। শিলপাটায় গুঁড়ো করা কুমড়া, ডাল ও মসলা দিয়ে তৈরি এই বড়িগুলো শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয় বছরের বিভিন্ন সময়ে রান্নার জন্য।

স্থানীয় নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিসেম্বর মাস এলেই বড়ি তৈরির এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব শুরু হয়। তারা জানান, “শীতের দিনে সবজি বেশি পাওয়া যায়, তাই বড়ি আমাদের নিত্যদিনের রান্নায় বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। আগেকার দিনে আমাদের পূর্বপুরুষেরা শীতেই বড়ি বানিয়ে মজুদ রাখতেন—এখনো সেই রীতি আমরা ধরে রাখছি।”

এই বড়ি সংরক্ষণ করে বছরজুড়ে বিভিন্ন তরি-তরকারির সঙ্গে রান্না করা হয়। বিশেষ করে শীতের তরকারিতে বড়ির স্বাদ এক অন্য রকম। শুধু খাবার নয়, বড়ি তৈরির এই আদি পদ্ধতি গ্রামীণ নারীদের মিলনমেলাও সৃষ্টি করে—সকালবেলা সবাই মিলে বড়ি বানানো যেন এক ধরনের উৎসবে পরিণত হয়।

গ্রামীণ জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা কুমড়োর বড়ি তৈরি আজও বাংলার শীতের সকালে এক চিরচেনা রঙ ছড়ায়। আধুনিকতার স্পর্শে নানা পরিবর্তন এলেও এই ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে শার্শার গ্রামগুলোতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শীতের সকালের প্রাণ কুমড়োর বড়ি দেওয়ার গ্রামীন মহোৎসব।

প্রকাশের তারিখ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image


র শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নে শীতের শুরুতে গ্রামের আঙিনা সরগরম হয়ে উঠেছে বড়ি তৈরির উৎসবে। শীতের সকালের রোদে মেঠোপথের ধারে ধারে দেখা যাচ্ছে, গ্রামের মহিলারা কলার ডালের ওপর ছোট ছোট কুমড়োর বড়ি সাজিয়ে দিচ্ছেন। শিলপাটায় গুঁড়ো করা কুমড়া, ডাল ও মসলা দিয়ে তৈরি এই বড়িগুলো শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয় বছরের বিভিন্ন সময়ে রান্নার জন্য।

স্থানীয় নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিসেম্বর মাস এলেই বড়ি তৈরির এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব শুরু হয়। তারা জানান, “শীতের দিনে সবজি বেশি পাওয়া যায়, তাই বড়ি আমাদের নিত্যদিনের রান্নায় বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। আগেকার দিনে আমাদের পূর্বপুরুষেরা শীতেই বড়ি বানিয়ে মজুদ রাখতেন—এখনো সেই রীতি আমরা ধরে রাখছি।”

এই বড়ি সংরক্ষণ করে বছরজুড়ে বিভিন্ন তরি-তরকারির সঙ্গে রান্না করা হয়। বিশেষ করে শীতের তরকারিতে বড়ির স্বাদ এক অন্য রকম। শুধু খাবার নয়, বড়ি তৈরির এই আদি পদ্ধতি গ্রামীণ নারীদের মিলনমেলাও সৃষ্টি করে—সকালবেলা সবাই মিলে বড়ি বানানো যেন এক ধরনের উৎসবে পরিণত হয়।

গ্রামীণ জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা কুমড়োর বড়ি তৈরি আজও বাংলার শীতের সকালে এক চিরচেনা রঙ ছড়ায়। আধুনিকতার স্পর্শে নানা পরিবর্তন এলেও এই ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে শার্শার গ্রামগুলোতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ