দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

দেবীগঞ্জে রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধারে বাধা: রাজনৈতিক প্রভাবে জিম্মি প্রশাসন, ভেস্তে যাচ্ছে তিন দফার উচ্ছেদ অভিযান

দেবীগঞ্জে রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধারে বাধা: রাজনৈতিক প্রভাবে জিম্মি প্রশাসন, ভেস্তে যাচ্ছে তিন দফার উচ্ছেদ অভিযান

 পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় খাস জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের তিনবার ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রভাবশালীদের রাজনৈতিক চাপে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান। আইনি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধারে রহস্যজনক টালবাহানায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী।

 তিনবারেও অধরা উচ্ছেদ অভিযান

তথ্যমতে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দফায় দফায় নোটিশ প্রদান করা হলেও উচ্ছেদ কার্যক্রম কার্যকর হচ্ছে না। গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ সালে জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সোনাহার ইউনিয়নের সোনাহার মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ২৭২১ নম্বর দাগের ০.২২ একর (২২ শতাংশ) জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সারোয়ার আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 পরবর্তীতে কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯ মে পুনরায় নোটিশ জারি করা হয় এবং ২১ মে উচ্ছেদের দিন ধার্য করা হয়। সর্বশেষ গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে "The Government & Local Authority Lands And Building (Recovery of Possession) Ordinance, 1970"-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এসে 'অনিবার্য কারণবশত' অভিযান স্থগিত করা হয় বলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পঞ্চগড় নোটিশ সূত্রে জানা গেছে।

 রাজনৈতিক প্রভাব ও জবরদখল

মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই খাস জমিটি বর্তমানে ১৯ জন ব্যক্তির দখলে রয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে অবৈধভাবে ৬টি দোকান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বাকি অংশে ঘর তুলে জমি দখল করে রাখা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সোনাহার জগন্নাথ হাট হাইস্কুল মোড় থেকে মাংস শেড পর্যন্ত এলাকায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রতিবেদন পাঠানো হলেও, তা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। 

 স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি এই সম্পত্তি কুক্ষিগত করে রেখেছে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, জবরদখল করা এই জায়গাটি উদ্ধার করা গেলে মাঝখানে একটি প্রশস্ত রাস্তা রেখে দুপাশে প্রায় শতাধিক দোকান নির্মাণ করা সম্ভব। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অনেক বেকার যুবক জীবন-জীবিকার সুযোগ পাবে।

 দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা

সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের এহেন দুর্বল ভূমিকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। 

 এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে কবে নাগাদ এই অভিযান সফল হবে, তা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দেবীগঞ্জে রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধারে বাধা: রাজনৈতিক প্রভাবে জিম্মি প্রশাসন, ভেস্তে যাচ্ছে তিন দফার উচ্ছেদ অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image


 পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় খাস জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের তিনবার ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রভাবশালীদের রাজনৈতিক চাপে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান। আইনি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধারে রহস্যজনক টালবাহানায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী।


 তিনবারেও অধরা উচ্ছেদ অভিযান

তথ্যমতে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দফায় দফায় নোটিশ প্রদান করা হলেও উচ্ছেদ কার্যক্রম কার্যকর হচ্ছে না। গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ সালে জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সোনাহার ইউনিয়নের সোনাহার মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ২৭২১ নম্বর দাগের ০.২২ একর (২২ শতাংশ) জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সারোয়ার আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।


 পরবর্তীতে কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯ মে পুনরায় নোটিশ জারি করা হয় এবং ২১ মে উচ্ছেদের দিন ধার্য করা হয়। সর্বশেষ গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে "The Government & Local Authority Lands And Building (Recovery of Possession) Ordinance, 1970"-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এসে 'অনিবার্য কারণবশত' অভিযান স্থগিত করা হয় বলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পঞ্চগড় নোটিশ সূত্রে জানা গেছে।


 রাজনৈতিক প্রভাব ও জবরদখল

মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই খাস জমিটি বর্তমানে ১৯ জন ব্যক্তির দখলে রয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে অবৈধভাবে ৬টি দোকান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বাকি অংশে ঘর তুলে জমি দখল করে রাখা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সোনাহার জগন্নাথ হাট হাইস্কুল মোড় থেকে মাংস শেড পর্যন্ত এলাকায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রতিবেদন পাঠানো হলেও, তা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। 


 স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি এই সম্পত্তি কুক্ষিগত করে রেখেছে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, জবরদখল করা এই জায়গাটি উদ্ধার করা গেলে মাঝখানে একটি প্রশস্ত রাস্তা রেখে দুপাশে প্রায় শতাধিক দোকান নির্মাণ করা সম্ভব। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অনেক বেকার যুবক জীবন-জীবিকার সুযোগ পাবে।


 দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা

সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের এহেন দুর্বল ভূমিকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। 

 এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে কবে নাগাদ এই অভিযান সফল হবে, তা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ