দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের গেটে ভুমিদস্যুদের প্রতিবন্ধকতা গুড়িয়ে দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা

নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের গেটে ভুমিদস্যুদের প্রতিবন্ধকতা গুড়িয়ে দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা

ঐতিহ্য ও ইতিহাস রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা আবারও প্রমাণ করলো—জনতার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। অবশেষে ১৬ জুন রাতে অবমুক্ত হলো উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী নবাব ফয়েজুন্নেছার ঐতিহাসিক বাড়ির প্রবেশপথ। এটি শুধু একটি পথ উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনা নয়, বরং আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতি জনসচেতনতারও প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর রাতের আধারে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগায়ে নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বড়ী জাদুঘরের গেজেটভুক্ত প্রত্নতত্ত্বের ঐতিহাসিক প্রবেশপথ বেআইনিভাবে বন্ধ করে ভুমিদস্যু ছৈয়দ আলী। ওয়াকফ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ বিষয়টির আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের বন্ধ থাকা গেটটি খুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে সুপারিশ করেছে। কারন চলাচলের পথ কেউ বন্ধ করতে পারেনা। 

জানাগেছে,ভূমিদস্যু সৈয়দ আলী নবাব বাড়ির গেটের মালিকানা দাবী করে গত ৩/৩/২০২৪ মামলা করে। বিষয়টি এখনও বিচারধীন।কিন্তু বিষয়টি সাবজুডিস অবস্থায় উক্ত সৈয়দ আলী ৭ মাসের মাথায় গত ৩০/১০/ ২০২৪ অবৈধভাবে ওয়াল তুলে নবাব বাড়ির প্রবেশ পথটি বন্ধ করে দেয়। তিনি আদালতের রায় না পেয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক কর্মসাধন করেন। 

ছৈয়দ আলী এসম্পর্কিত একটি দায়েরকৃত ইনজেকশন মামলা নিম্ম আদালত ইতিমধ্যে খারিজ কর দিয়েছে।   

ছৈয়দ আলী কতৃক বেআইনীভাবে বন্ধ করায় নবাব বাড়ির প্রবেশপথটি খুলে দিতে 

লাকসাম পৌরসভা পক্ষ থেকে আইনগত দিক যাচাই বাচাই সাপেক্ষে উক্ত গেট খুলে দিতে ছৈয়দ আলীকে চুড়ান্ত নোটিশ দিলেও তিনি তোয়াক্কা করেননি । পৌর কতৃপক্ষের মতে এই ওয়ালের 

অনুমোদন নেই। যা নির্মাণ ও নবাব বাড়ির প্রবেশ পথ বন্ধের বিষয়টি স্হানীয় সরকার বিধিমালা লংঘন।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়,ছৈয়দ আলীর দলিলের চৌহদ্দি নবাব বাড়ির উত্তর প্রান্তে। কিন্তু মালিকানা দাবী করেন দক্ষিণ প্রান্তে।

.সৈয়দ আলীর দলিল দাতা রফিকুল হক জায়গা মালিক ছিলেন ১ ডিং৯ সেন্ট। কিন্তু ছৈয়দ আলী 

দলিল নিয়েছেন ৫ ডিং। যা বেআইনি ও জালিয়াতি। 

এব্যাপারে জনগনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মোতাওয়াল্লী সৈয়দ মাসুদুল হক। 

ফয়জুন্নেছা পিতার বংশধর ফজলে রহমান চৌধুরী আয়াজ বলেন, গেটটি অনেক আগেই উম্মুক্ত হওয়া দরকার ছিল। 

বিষয়টি নিয়ে আমারও অসস্তিতে ছিলাম। কারন নবাব বাড়ি আমাদের সকলের গর্ভের ও ঐতিহ্যের বিষয়।

আইনজীবী ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, চলাচলের পথ কেউ বন্ধ করতে পারেনা। যদি উনি জায়গার মালিক হন তাও পথ বন্ধ করা বেআইনী।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের গেটে ভুমিদস্যুদের প্রতিবন্ধকতা গুড়িয়ে দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image



ঐতিহ্য ও ইতিহাস রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা আবারও প্রমাণ করলো—জনতার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। অবশেষে ১৬ জুন রাতে অবমুক্ত হলো উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী নবাব ফয়েজুন্নেছার ঐতিহাসিক বাড়ির প্রবেশপথ। এটি শুধু একটি পথ উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনা নয়, বরং আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতি জনসচেতনতারও প্রতিফলন।


উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর রাতের আধারে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগায়ে নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বড়ী জাদুঘরের গেজেটভুক্ত প্রত্নতত্ত্বের ঐতিহাসিক প্রবেশপথ বেআইনিভাবে বন্ধ করে ভুমিদস্যু ছৈয়দ আলী। ওয়াকফ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ বিষয়টির আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের বন্ধ থাকা গেটটি খুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে সুপারিশ করেছে। কারন চলাচলের পথ কেউ বন্ধ করতে পারেনা। 


জানাগেছে,ভূমিদস্যু সৈয়দ আলী নবাব বাড়ির গেটের মালিকানা দাবী করে গত ৩/৩/২০২৪ মামলা করে। বিষয়টি এখনও বিচারধীন।কিন্তু বিষয়টি সাবজুডিস অবস্থায় উক্ত সৈয়দ আলী ৭ মাসের মাথায় গত ৩০/১০/ ২০২৪ অবৈধভাবে ওয়াল তুলে নবাব বাড়ির প্রবেশ পথটি বন্ধ করে দেয়। তিনি আদালতের রায় না পেয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এই ন্যাক্কারজনক কর্মসাধন করেন। 


ছৈয়দ আলী এসম্পর্কিত একটি দায়েরকৃত ইনজেকশন মামলা নিম্ম আদালত ইতিমধ্যে খারিজ কর দিয়েছে।   


ছৈয়দ আলী কতৃক বেআইনীভাবে বন্ধ করায় নবাব বাড়ির প্রবেশপথটি খুলে দিতে 

লাকসাম পৌরসভা পক্ষ থেকে আইনগত দিক যাচাই বাচাই সাপেক্ষে উক্ত গেট খুলে দিতে ছৈয়দ আলীকে চুড়ান্ত নোটিশ দিলেও তিনি তোয়াক্কা করেননি । পৌর কতৃপক্ষের মতে এই ওয়ালের 

অনুমোদন নেই। যা নির্মাণ ও নবাব বাড়ির প্রবেশ পথ বন্ধের বিষয়টি স্হানীয় সরকার বিধিমালা লংঘন।


নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়,ছৈয়দ আলীর দলিলের চৌহদ্দি নবাব বাড়ির উত্তর প্রান্তে। কিন্তু মালিকানা দাবী করেন দক্ষিণ প্রান্তে।

.সৈয়দ আলীর দলিল দাতা রফিকুল হক জায়গা মালিক ছিলেন ১ ডিং৯ সেন্ট। কিন্তু ছৈয়দ আলী 

দলিল নিয়েছেন ৫ ডিং। যা বেআইনি ও জালিয়াতি। 

এব্যাপারে জনগনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মোতাওয়াল্লী সৈয়দ মাসুদুল হক। 

ফয়জুন্নেছা পিতার বংশধর ফজলে রহমান চৌধুরী আয়াজ বলেন, গেটটি অনেক আগেই উম্মুক্ত হওয়া দরকার ছিল। 

বিষয়টি নিয়ে আমারও অসস্তিতে ছিলাম। কারন নবাব বাড়ি আমাদের সকলের গর্ভের ও ঐতিহ্যের বিষয়।

আইনজীবী ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, চলাচলের পথ কেউ বন্ধ করতে পারেনা। যদি উনি জায়গার মালিক হন তাও পথ বন্ধ করা বেআইনী।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ