দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ছাতকে বসেছে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট, রাজস্ব হারালো সরকার।

ছাতকে বসেছে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট, রাজস্ব হারালো সরকার।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ইজারা বহির্ভূত একাধিক পশুর হাট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে এসব পশুর হাট বসিয়ে অবৈধ ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের এমন ব্যবসায় সরকার যেমন বিপুল পরিমানের রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি হাটগুলোর বৈধ ইজারাদারগন অর্থিক ভাবে ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।

জানা যায়, গত বছর পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ছাতক উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে মোট ১২টি পশুর হাট বসেছিল। এর মধ্যে ৩টি ছিল স্থায়ী। পৌরসভার ১টি-সহ ৯টি ছিল অস্থায়ী পশুর হাট। তবে এ বছর গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজার দুটি স্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এছাড়া ছাতক পৌরসভায় ১টি, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ইসলামবাজার ও নোয়ারাই ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারসহ স্থায়ী অস্থায়ী মোট ৫টি পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়। অজ্ঞাত কারণে উপজেলার আরও ৮টি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন না থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে পশুর হাট বসানো হচ্ছে। গত রোববার (২৪ মে) উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ধারণ নতূন বাজারে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট বসেছিল। এছাড়া আজ (২৫ মে) সোমবার উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের বুরাইয়া বাজারে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট বসেছে। এ বিষয়ে গতকাল (২৪ মে) দিনব্যাপী যানবাহন যোগে মাইকিং করে প্রচার করা হয়েছিল। এতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন তৎপরতা লক্ষ করা যায় নি। এসব অবৈধ পশুর হাটের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে নেওয়া হয়নি কার্যকরি কোন পদক্ষেপ। অবৈধ পশুর হাট বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় ইজারাদারসহ সচেতন মহলের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এসব পশুর হাট নিয়তান্ত্রিকভাবে ইজারা দেওয়া হলে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব লাভ করতো। কিন্তু ইজারা বহির্ভূতভাবে পশুর হাট পরিচালনার কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন বৈধ ইজারাদারগন। অবৈধভাবে লাভবান হচ্ছেন পশুর হাট পরিচালনায় জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, এ উপজেলায় স্থায়ী পশুর হাট গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজার। অস্থায়ী হাটের সংখ্যা ৩টি। এর মধ্যে ছাতক পৌরসভা, ইসলামবাজার ও চৌমুহনী বাজার। এ ছাড়া উপজেলার আর কোথাও স্থায়ী অস্থায়ী কোন পশুর হাট নেই। অবৈধ পশুর হাটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইতোমধ্যে একজায়গায় এসিল্যান্ড অভিযান করেছেন। আজ বুরাইয়া বাজারে যাবেন। তিনি বলেন, অবৈধ ভাবে পশুর হাট কেউ বসালে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ছাতকে বসেছে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট, রাজস্ব হারালো সরকার।

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image






সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ইজারা বহির্ভূত একাধিক পশুর হাট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে এসব পশুর হাট বসিয়ে অবৈধ ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের এমন ব্যবসায় সরকার যেমন বিপুল পরিমানের রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি হাটগুলোর বৈধ ইজারাদারগন অর্থিক ভাবে ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।


জানা যায়, গত বছর পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ছাতক উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে মোট ১২টি পশুর হাট বসেছিল। এর মধ্যে ৩টি ছিল স্থায়ী। পৌরসভার ১টি-সহ ৯টি ছিল অস্থায়ী পশুর হাট। তবে এ বছর গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজার দুটি স্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এছাড়া ছাতক পৌরসভায় ১টি, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ইসলামবাজার ও নোয়ারাই ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারসহ স্থায়ী অস্থায়ী মোট ৫টি পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়। অজ্ঞাত কারণে উপজেলার আরও ৮টি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেয়নি কর্তৃপক্ষ।


অভিযোগ উঠেছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন না থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে পশুর হাট বসানো হচ্ছে। গত রোববার (২৪ মে) উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ধারণ নতূন বাজারে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট বসেছিল। এছাড়া আজ (২৫ মে) সোমবার উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের বুরাইয়া বাজারে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট বসেছে। এ বিষয়ে গতকাল (২৪ মে) দিনব্যাপী যানবাহন যোগে মাইকিং করে প্রচার করা হয়েছিল। এতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন তৎপরতা লক্ষ করা যায় নি। এসব অবৈধ পশুর হাটের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে নেওয়া হয়নি কার্যকরি কোন পদক্ষেপ। অবৈধ পশুর হাট বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় ইজারাদারসহ সচেতন মহলের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।


স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এসব পশুর হাট নিয়তান্ত্রিকভাবে ইজারা দেওয়া হলে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব লাভ করতো। কিন্তু ইজারা বহির্ভূতভাবে পশুর হাট পরিচালনার কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন বৈধ ইজারাদারগন। অবৈধভাবে লাভবান হচ্ছেন পশুর হাট পরিচালনায় জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, এ উপজেলায় স্থায়ী পশুর হাট গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজার। অস্থায়ী হাটের সংখ্যা ৩টি। এর মধ্যে ছাতক পৌরসভা, ইসলামবাজার ও চৌমুহনী বাজার। এ ছাড়া উপজেলার আর কোথাও স্থায়ী অস্থায়ী কোন পশুর হাট নেই। অবৈধ পশুর হাটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইতোমধ্যে একজায়গায় এসিল্যান্ড অভিযান করেছেন। আজ বুরাইয়া বাজারে যাবেন। তিনি বলেন, অবৈধ ভাবে পশুর হাট কেউ বসালে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ