দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

৬০ একরে কুমড়া নয় শুধু গাছ: পঞ্চগড়ের কৃষকের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসানের অভিযোগ

৬০ একরে কুমড়া নয় শুধু গাছ: পঞ্চগড়ের কৃষকের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসানের অভিযোগ

“আলমগীর সীড কোম্পানি”র কাছে বীজ ক্রয় করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন।। সম্প্রতি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তিনি অভিযোগ কর বলেন, ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের বীজ কিনে ৬০ একর জমিতে রোপণের ৮০-৯০ দিন পরও একটিও কুমড়া ফলেনি। অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এখন পর্যন্ত যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমি বোদা থানাধীন ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের নলেহা গ্রামে ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও মিষ্টি কুমড়া চাষের সিদ্ধান্ত নিই। বোদা উপজেলার কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল আমাকে বলেন, আলমগীর সীডস কোম্পানি জানিয়েছে তাদের বীজ ভালো হবে। এরপর কোম্পানি জানায়, একরে ১৯-২০ টন ফলন হবে। গত ২৬ জানুয়ারি কোম্পানিকে নগদ টাকা দিয়ে ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ কিনি। তাদের নির্দেশনা মেনে সব করি। গাছ হয়েছে, কিন্তু কুমড়া একটিও হয়নি। এখন আমার ক্ষতি প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। আমি সাধারণ কৃষক, এই প্রতারণার বিচার চাই।” স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল বলেন, “আলমগীর সীড কোম্পানি আমাকে নিশ্চয়তা দিয়েছিল তাদের বীজের ফলন ভালো হবে। আমি সাজ্জাদ ভাইকে সেটাই বলি। এখন তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত, আমিও বিব্রত। আমি নিজেও কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। তারা প্রথমে কথা বললেও এখন আর মুঠোফোন ধরছে না। আমি মনে করি, এটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণা।”

শ্রমিক ললিতা বালা বলেন, “আমি সাজ্জাদ ভাইয়ের কাছে কাজের ১০ হাজার টাকা পাব। এখন যে অবস্থা তিনি কোথা থেকে টাকা দিবে? আমি কি টাকা ছাড় দিবো ? প্রতিবছর এখান থেকে কুমড়া শতশত গাড়ি লোড হয়, এবার তো সব শেষ।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোম্পানির মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৬০ একরে কুমড়া নয় শুধু গাছ: পঞ্চগড়ের কৃষকের ১ কোটি ২০ লাখ টাকা লোকসানের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image


“আলমগীর সীড কোম্পানি”র কাছে বীজ ক্রয় করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন।। সম্প্রতি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তিনি অভিযোগ কর বলেন, ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের বীজ কিনে ৬০ একর জমিতে রোপণের ৮০-৯০ দিন পরও একটিও কুমড়া ফলেনি। অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এখন পর্যন্ত যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমি বোদা থানাধীন ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের নলেহা গ্রামে ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও মিষ্টি কুমড়া চাষের সিদ্ধান্ত নিই। বোদা উপজেলার কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল আমাকে বলেন, আলমগীর সীডস কোম্পানি জানিয়েছে তাদের বীজ ভালো হবে। এরপর কোম্পানি জানায়, একরে ১৯-২০ টন ফলন হবে। গত ২৬ জানুয়ারি কোম্পানিকে নগদ টাকা দিয়ে ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ কিনি। তাদের নির্দেশনা মেনে সব করি। গাছ হয়েছে, কিন্তু কুমড়া একটিও হয়নি। এখন আমার ক্ষতি প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। আমি সাধারণ কৃষক, এই প্রতারণার বিচার চাই।” স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল বলেন, “আলমগীর সীড কোম্পানি আমাকে নিশ্চয়তা দিয়েছিল তাদের বীজের ফলন ভালো হবে। আমি সাজ্জাদ ভাইকে সেটাই বলি। এখন তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত, আমিও বিব্রত। আমি নিজেও কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। তারা প্রথমে কথা বললেও এখন আর মুঠোফোন ধরছে না। আমি মনে করি, এটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণা।”

শ্রমিক ললিতা বালা বলেন, “আমি সাজ্জাদ ভাইয়ের কাছে কাজের ১০ হাজার টাকা পাব। এখন যে অবস্থা তিনি কোথা থেকে টাকা দিবে? আমি কি টাকা ছাড় দিবো ? প্রতিবছর এখান থেকে কুমড়া শতশত গাড়ি লোড হয়, এবার তো সব শেষ।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোম্পানির মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ