দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের বিরামপুরে কাটলা চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্টে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের মহোৎসব,ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে—প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি

দিনাজপুরের বিরামপুরে কাটলা চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্টে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের মহোৎসব,ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে—প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্ট মহল্লায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর (পিতা: মোঃ বাবু মিয়া)-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার নিজস্ব জমির অজুহাতে প্রতিদিন শতশত ট্রাক বালি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন,যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,দিনের পাশাপাশি দিনে ও রাতের আঁধারেও ট্রাক ও লোকজন দিয়ে নির্বিচারে বালি উত্তোলন চলছে। এতে করে শুধু ওই জমিই নয়,আশপাশের আবাদি জমি গুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমির প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে,কোথাও আবার জমি দেবে গিয়ে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কৃষকরা জানান,তাদের বছরের পর বছর ধরে চাষ করা জমি এখন হুমকির মুখে। ধান,গম,ভুট্টা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের উৎপাদন মারাত্মক ভাবে কমে গেছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি,দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

পরিবেশবিদদের মতে,এভাবে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জমি থেকে বালি উত্তোলন করলে ভূমির ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে করে জলাবদ্ধতা,মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

সরকারি আইন অনুযায়ী,কৃষিজমি বা যেকোনো ভূমি থেকে অনুমতি ছাড়া বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় এ ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব আইনকে তোয়াক্কা না করে অবাধে বালি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন,সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেন,“আমাদের ফসলি জমি বাঁচাতে হলে এখনই এই অবৈধ বালি কাটা বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ বালি উত্তোলনের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে শুধু কৃষি নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দিনাজপুরের বিরামপুরে কাটলা চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্টে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের মহোৎসব,ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে—প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image






দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া জিরো পয়েন্ট মহল্লায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর (পিতা: মোঃ বাবু মিয়া)-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার নিজস্ব জমির অজুহাতে প্রতিদিন শতশত ট্রাক বালি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন,যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,দিনের পাশাপাশি দিনে ও রাতের আঁধারেও ট্রাক ও লোকজন দিয়ে নির্বিচারে বালি উত্তোলন চলছে। এতে করে শুধু ওই জমিই নয়,আশপাশের আবাদি জমি গুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমির প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে,কোথাও আবার জমি দেবে গিয়ে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কৃষকরা জানান,তাদের বছরের পর বছর ধরে চাষ করা জমি এখন হুমকির মুখে। ধান,গম,ভুট্টা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের উৎপাদন মারাত্মক ভাবে কমে গেছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি,দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না হলে পুরো এলাকার কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

পরিবেশবিদদের মতে,এভাবে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জমি থেকে বালি উত্তোলন করলে ভূমির ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে করে জলাবদ্ধতা,মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

সরকারি আইন অনুযায়ী,কৃষিজমি বা যেকোনো ভূমি থেকে অনুমতি ছাড়া বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় এ ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব আইনকে তোয়াক্কা না করে অবাধে বালি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন,সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলেন,“আমাদের ফসলি জমি বাঁচাতে হলে এখনই এই অবৈধ বালি কাটা বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ বালি উত্তোলনের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে শুধু কৃষি নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।



দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ