দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে বসন্ত উৎসব-১৪৩২

বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে বসন্ত উৎসব-১৪৩২

বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে বসন্ত উৎসব-১৪৩২

বিএনপির নেতৃত্বে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে: আশা মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনে

 বিএনপির নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হচ্ছে, তা বাংলাদেশে ধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। 

শনিবার পাহাড়তলীর শহীদ ওয়াসিম আকরাম পার্কে বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে ‘বসন্ত উৎসব-১৪৩২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ আশা ব্যক্ত করেন। 

তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। রমনা বটমূলে বৈশাখী উৎসবে বোমা হামলা, উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে গ্রেনেড হামলা, জসীমউদ্দীন হল, বাংলা একাডেমি, পিলখানা, সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক কর্মী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর নির্মম হামলা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসব, মন্দির-মসজিদ-গির্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—কোনো কিছুই নিরাপদ ছিল না। কিন্তু জনগণ সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। এখন সাংস্কৃতিক ও ধর্ম চর্চার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, বসন্ত উৎসব কেবল ঋতু পরিবর্তনের উদযাপন নয়—এটি বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। বৈশাখ থেকে চৈত্র পর্যন্ত বাংলা মাসের ধারাবাহিকতায় ফাল্গুন আমাদের প্রাণের মাস; এই মাসে প্রকৃতি যেমন নব রূপে সেজে ওঠে, তেমনি মানুষের মনও নতুন প্রত্যয়ে উজ্জীবিত হয়। আমরাও সবার আগে বাংলাদেশ এ চেতনাকে ধারণ করে ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে উঠে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব। 

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, তা বিএনপির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এই নতুন নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারায় আরও এগিয়ে যাবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

বসন্তের রঙিণ প্রকৃতি তার সঙ্গে তরুণ-তরুণীদের গায়ে বাসন্তী পোশাক, বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপাচারে শনিবার পয়লা ফাল্গুনের সকালটা ছিল উৎসবের। বোধন আবৃত্তি পরিষদ আয়োজন করে এই বসন্ত উৎসব-১৪৩২। ভালোবাসার দিনে, শীতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানিয়ে এই উৎসব যেন ছিল একসঙ্গে ঋতু ও রংকে বরণ করার আয়োজন।

সকালে নয়টায় ভায়োলিনের সুরে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর একে একে মঞ্চে আসে নৃত্যরূপ, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, দ্যা স্কুল অব ক্ল্যাসিক্যাল অ্যান্ড ফোক ড্যান্স, নৃত্য নিকেতন ও মাধুরী ড্যান্স একাডেমির শিল্পীরা। ঢোলের তালে, রঙিন ওড়নার দোলায়, কখনো রবীন্দ্রনাথের গানে, কখনো লোকগীতির ছন্দে ফুটে ওঠে ফাগুনের উচ্ছ্বাস।  একক পরিবেশনায় ছিলেন কেশব জিপসী, ঋষু তালুকদার, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, কান্তা দে, সুমিতা সরকার, রিনা দাশ ও মনি আচার্য। একক আবৃত্তিতে কঙ্কণ দাশ, মিশফাক রাসেল ও দেবাশীষ রুদ্র উচ্চারণ করেন বসন্তের কবিতা। 

বসন্তকথনে বোধনের অর্থ সম্পাদক অনুপম শীল বলেন, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে বাঙালির উৎসবগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।  নতুন দিনে পুরোনো জীর্ণতা ভুলে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। 

পুরো আয়োজন উপস্থাপনা করেন গৌতম চৌধুরী, পল্লব গুপ্ত, পলি ঘোষ, শ্রেয়সী স্রোতস্বিনী ও ঋত্বিকা নন্দী। দিনের শেষে পার্ক প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে বসন্ত উৎসব-১৪৩২

প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে বসন্ত উৎসব-১৪৩২


বিএনপির নেতৃত্বে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে: আশা মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনে

 বিএনপির নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হচ্ছে, তা বাংলাদেশে ধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। 


শনিবার পাহাড়তলীর শহীদ ওয়াসিম আকরাম পার্কে বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে ‘বসন্ত উৎসব-১৪৩২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ আশা ব্যক্ত করেন। 


তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। রমনা বটমূলে বৈশাখী উৎসবে বোমা হামলা, উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে গ্রেনেড হামলা, জসীমউদ্দীন হল, বাংলা একাডেমি, পিলখানা, সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক কর্মী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর নির্মম হামলা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসব, মন্দির-মসজিদ-গির্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—কোনো কিছুই নিরাপদ ছিল না। কিন্তু জনগণ সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। এখন সাংস্কৃতিক ও ধর্ম চর্চার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।


মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, বসন্ত উৎসব কেবল ঋতু পরিবর্তনের উদযাপন নয়—এটি বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। বৈশাখ থেকে চৈত্র পর্যন্ত বাংলা মাসের ধারাবাহিকতায় ফাল্গুন আমাদের প্রাণের মাস; এই মাসে প্রকৃতি যেমন নব রূপে সেজে ওঠে, তেমনি মানুষের মনও নতুন প্রত্যয়ে উজ্জীবিত হয়। আমরাও সবার আগে বাংলাদেশ এ চেতনাকে ধারণ করে ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে উঠে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব। 


তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, তা বিএনপির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এই নতুন নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারায় আরও এগিয়ে যাবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”


বসন্তের রঙিণ প্রকৃতি তার সঙ্গে তরুণ-তরুণীদের গায়ে বাসন্তী পোশাক, বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপাচারে শনিবার পয়লা ফাল্গুনের সকালটা ছিল উৎসবের। বোধন আবৃত্তি পরিষদ আয়োজন করে এই বসন্ত উৎসব-১৪৩২। ভালোবাসার দিনে, শীতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানিয়ে এই উৎসব যেন ছিল একসঙ্গে ঋতু ও রংকে বরণ করার আয়োজন।


সকালে নয়টায় ভায়োলিনের সুরে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর একে একে মঞ্চে আসে নৃত্যরূপ, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, দ্যা স্কুল অব ক্ল্যাসিক্যাল অ্যান্ড ফোক ড্যান্স, নৃত্য নিকেতন ও মাধুরী ড্যান্স একাডেমির শিল্পীরা। ঢোলের তালে, রঙিন ওড়নার দোলায়, কখনো রবীন্দ্রনাথের গানে, কখনো লোকগীতির ছন্দে ফুটে ওঠে ফাগুনের উচ্ছ্বাস।  একক পরিবেশনায় ছিলেন কেশব জিপসী, ঋষু তালুকদার, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, কান্তা দে, সুমিতা সরকার, রিনা দাশ ও মনি আচার্য। একক আবৃত্তিতে কঙ্কণ দাশ, মিশফাক রাসেল ও দেবাশীষ রুদ্র উচ্চারণ করেন বসন্তের কবিতা। 

বসন্তকথনে বোধনের অর্থ সম্পাদক অনুপম শীল বলেন, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে বাঙালির উৎসবগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।  নতুন দিনে পুরোনো জীর্ণতা ভুলে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। 


পুরো আয়োজন উপস্থাপনা করেন গৌতম চৌধুরী, পল্লব গুপ্ত, পলি ঘোষ, শ্রেয়সী স্রোতস্বিনী ও ঋত্বিকা নন্দী। দিনের শেষে পার্ক প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ