দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

খুবি'র লেক ও জলরাশির গল্প

খুবি'র লেক ও জলরাশির গল্প

খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে ১০৬ একরের সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। এই ক্যাম্পাসের বুক চিরে বয়ে যাওয়া  নীলচে-সবুজ জলরাশি - যা খুবিয়ানদের  কাছে 'গ্রিন লেক' নামে পরিচিত। লেকের পূর্ব পাড়ে সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ -প্রথম দর্শনে এটি মনে হতে পারে সুন্দরবন। 

শীতের সকাল মানেই খুবির লেকে এক ভিন্ন আমেজ।শীতকালে এখানে অতিথি পাখির আনাগোনা দেখা যায়। এ সময় কুয়াশার পর্দা ঠেলে পাখি এসে তার কিচিরমিচির শব্দে লেকে থাকা মাছেদের ঘুম ভাঙ্গায়। এ সময় কুয়াশার অন্ধকারে গুটিকয়েক লোক শরীরচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করে এবং তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাতে লেকের পাশে থাকা কৃষ্ণ ফুল গাছ তার পাপড়ির চাদর লেকে বিছিয়ে রাখে। 

লেকের পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ থাকায় ক্যাম্পাসে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।লেকটি তপ্ত দুপুরে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে ওঠে।খুব সম্ভবত দুপুরে লেকের নীল জলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রতিচ্ছবির অপরূপ দৃশ্য দেখা মেলে।এ সময় মাছরাঙ্গা পাখি লেকে জন্মানো লাল শাপলা ফুলের নিচে লুকিয়ে থাকা মাছ শিকার দৃশ্যও হর হামেশা দেখা মেলে। 

জোছনার রাতে চাঁদের আলোয় ধোয়া ওঠা এক কাপ চা, সন্ধ্যা শীতল বাতাস সাথে গিটারের সুরেলা সুর -এই তিনটির মিশ্রণে তৈরি হয় শিক্ষার্থীদের আড্ডা। লেকের অপার প্রান্তে মিটমিট করে জ্বলতে থাকা কোন এক ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে প্রেয়সীর সাথে প্রেয়স গল্পে মেতে উঠে। 

খুবি'র লেকটি  ময়ূরী নদীর সাথে সখ্য থাকাই বর্ষাকালে ক্যাম্পাসের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সহায়তা করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের অসচেতনতার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও লেকের স্বচ্ছ পানি কচুরিপানা ঢেকে রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুবি'র লেক ও জলরাশির গল্প

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে ১০৬ একরের সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। এই ক্যাম্পাসের বুক চিরে বয়ে যাওয়া  নীলচে-সবুজ জলরাশি - যা খুবিয়ানদের  কাছে 'গ্রিন লেক' নামে পরিচিত। লেকের পূর্ব পাড়ে সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ -প্রথম দর্শনে এটি মনে হতে পারে সুন্দরবন। 


শীতের সকাল মানেই খুবির লেকে এক ভিন্ন আমেজ।শীতকালে এখানে অতিথি পাখির আনাগোনা দেখা যায়। এ সময় কুয়াশার পর্দা ঠেলে পাখি এসে তার কিচিরমিচির শব্দে লেকে থাকা মাছেদের ঘুম ভাঙ্গায়। এ সময় কুয়াশার অন্ধকারে গুটিকয়েক লোক শরীরচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করে এবং তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাতে লেকের পাশে থাকা কৃষ্ণ ফুল গাছ তার পাপড়ির চাদর লেকে বিছিয়ে রাখে। 


লেকের পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ থাকায় ক্যাম্পাসে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।লেকটি তপ্ত দুপুরে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে ওঠে।খুব সম্ভবত দুপুরে লেকের নীল জলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রতিচ্ছবির অপরূপ দৃশ্য দেখা মেলে।এ সময় মাছরাঙ্গা পাখি লেকে জন্মানো লাল শাপলা ফুলের নিচে লুকিয়ে থাকা মাছ শিকার দৃশ্যও হর হামেশা দেখা মেলে। 


জোছনার রাতে চাঁদের আলোয় ধোয়া ওঠা এক কাপ চা, সন্ধ্যা শীতল বাতাস সাথে গিটারের সুরেলা সুর -এই তিনটির মিশ্রণে তৈরি হয় শিক্ষার্থীদের আড্ডা। লেকের অপার প্রান্তে মিটমিট করে জ্বলতে থাকা কোন এক ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে প্রেয়সীর সাথে প্রেয়স গল্পে মেতে উঠে। 


খুবি'র লেকটি  ময়ূরী নদীর সাথে সখ্য থাকাই বর্ষাকালে ক্যাম্পাসের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সহায়তা করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের অসচেতনতার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও লেকের স্বচ্ছ পানি কচুরিপানা ঢেকে রেখেছে।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ