দৈনিক উত্তরের নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংসদে আপসহীন থাকবে জামায়াত

জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংসদে আপসহীন থাকবে জামায়াত

বোয়ালমারীতে জ্বালানি সংকট নিরসনে উদ্যোগ: নিয়মিত সরবরাহের আশ্বাস দিলেন ডা. ইলিয়াস মোল্লা

বোয়ালমারীতে জ্বালানি সংকট নিরসনে উদ্যোগ: নিয়মিত সরবরাহের আশ্বাস দিলেন ডা. ইলিয়াস মোল্লা

প্রফেসর নায়লা ইসলাম সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন

প্রফেসর নায়লা ইসলাম সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ফোরাতুন নাহার প্যারিস

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ফোরাতুন নাহার প্যারিস

তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উলাশির জিয়ার খাল পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, খাল খননে নতুন গতি

তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উলাশির জিয়ার খাল পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, খাল খননে নতুন গতি

আগামী পৌরসভা নির্বাচনে লালমনিরহাটে ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় শফিকুল ইসলাম

আগামী পৌরসভা নির্বাচনে লালমনিরহাটে ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় শফিকুল ইসলাম

ভূরুঙ্গামারীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি আনোয়ারুল ইসলামের মতবিনিময়

ভূরুঙ্গামারীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি আনোয়ারুল ইসলামের মতবিনিময়

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

মিজানুর রহমান চৌধুরীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রবাসির মতামত।

মিজানুর রহমান চৌধুরীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রবাসির মতামত।

রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো আদর্শ, ত্যাগ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা ক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বার্থের কাছে এই মৌলিক নীতিগুলোকে বারবার বিসর্জন দিয়েছেন। মিজানুর রহমান মিজান চৌধুরী তাদেরই অন্যতম উদাহরণ।

তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পরিচয় তাকে জনগণের কাছে একটি নির্ভরতার জায়গায় দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা সেই আস্থাকেই সমর্তকদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন মাঠে ছিলেন। কিন্তু বিএনপি যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনাব কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে, তখন একজন আদর্শবান নেতার উচিত ছিল দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। কিন্তু তিনি তা না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যা স্পষ্টতই দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী।

এরপর আরও হতাশাজনক  হলো-তিনি শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা নির্যাতিত-নিপীড়িত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে না রেখে, ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এই আচরণ প্রমাণ করে,যে রাজনীতি জনসেবার মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত দরকষাকষির হাতিয়ার। এমন অভিযোগ এখন প্রায় সমর্থকদের মাঝে। এতে জনমনে প্রবলভাবে প্রশ্ন উঠেছে-তবে কি এই পুরো বিষয়টা ছিল কেবল রাজনৈতিক দরকষাকষির কৌশল? তবে কি নির্বাচন নয়, ছিল ব্যাক্তির জন্য সুবিধাজনক সমঝোতার খেলা? জাতীয় পর্যায়ের কোন নেতা যখন এমন অবস্থান নেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—তিনি কি আদৌ জনগণের কণ্ঠস্বর, নাকি কেবল নিজের স্বার্থের প্রতিনিধি?

যে সময় দেশজুড়ে অসংখ্য মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার, সেই সময়ে একজন প্রভাবশালী নেতার কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল দৃঢ়তা, ত্যাগ এবং নৈতিক অবস্থান। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং এতে রাজনীতিকে সাধারণ সমর্থকদের কাছে আরও অনাস্থার জায়গায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

রাজনীতিতে ভুল হতে পারে। কিন্তু বারবার সুবিধাবাদী অবস্থান নেওয়া ভুল নয়-এটি চরিত্রের সংকট বলা যায়। জনগণ এখন আর ফাঁকা স্লোগানে বিশ্বাস করে না; তারা কাজ ও অবস্থান দিয়ে নেতা চেনে।

এই প্রেক্ষাপটে মিজানুর রহমান মিজানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকা জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে। রাজনীতি যদি সত্যিই জনগণের জন্য হয়, তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে-তিনি ক্ষমতার রাজনীতি করবেন, নাকি নীতির রাজনীতি।

মিজানুর রহমান মিজানের সাম্প্রতিক ভূমিকা প্রমাণ করে, তিনি জনগণের প্রত্যাশার উচ্চতায় উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। একজন নেতা যখন সংকটে দিশা না দেখিয়ে নিজেই দিশাহীন হন, তখন তার নেতৃত্ব জনগণের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের রাজনীতি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল। কারণ ভোটাররা নেতা বেছে নেয় সংগ্রামের জন্য, সুবিধা ভোগের জন্য নয়। ইতিহাস সাক্ষী থাকে। আজ যারা আপসের রাজনীতি করেন, কাল তারা জনরোষের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হন। জনগণই শেষ বিচারের মালিক। 

লেখক যুক্তরাজ্য প্রবাসি আব্দুল কাদির জিলানী।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক উত্তরের নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


মিজানুর রহমান চৌধুরীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রবাসির মতামত।

প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো আদর্শ, ত্যাগ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা ক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বার্থের কাছে এই মৌলিক নীতিগুলোকে বারবার বিসর্জন দিয়েছেন। মিজানুর রহমান মিজান চৌধুরী তাদেরই অন্যতম উদাহরণ।


তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পরিচয় তাকে জনগণের কাছে একটি নির্ভরতার জায়গায় দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা সেই আস্থাকেই সমর্তকদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন মাঠে ছিলেন। কিন্তু বিএনপি যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনাব কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে, তখন একজন আদর্শবান নেতার উচিত ছিল দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। কিন্তু তিনি তা না করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যা স্পষ্টতই দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী।

এরপর আরও হতাশাজনক  হলো-তিনি শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা নির্যাতিত-নিপীড়িত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে না রেখে, ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এই আচরণ প্রমাণ করে,যে রাজনীতি জনসেবার মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত দরকষাকষির হাতিয়ার। এমন অভিযোগ এখন প্রায় সমর্থকদের মাঝে। এতে জনমনে প্রবলভাবে প্রশ্ন উঠেছে-তবে কি এই পুরো বিষয়টা ছিল কেবল রাজনৈতিক দরকষাকষির কৌশল? তবে কি নির্বাচন নয়, ছিল ব্যাক্তির জন্য সুবিধাজনক সমঝোতার খেলা? জাতীয় পর্যায়ের কোন নেতা যখন এমন অবস্থান নেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—তিনি কি আদৌ জনগণের কণ্ঠস্বর, নাকি কেবল নিজের স্বার্থের প্রতিনিধি?

যে সময় দেশজুড়ে অসংখ্য মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার, সেই সময়ে একজন প্রভাবশালী নেতার কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল দৃঢ়তা, ত্যাগ এবং নৈতিক অবস্থান। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ডে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং এতে রাজনীতিকে সাধারণ সমর্থকদের কাছে আরও অনাস্থার জায়গায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

রাজনীতিতে ভুল হতে পারে। কিন্তু বারবার সুবিধাবাদী অবস্থান নেওয়া ভুল নয়-এটি চরিত্রের সংকট বলা যায়। জনগণ এখন আর ফাঁকা স্লোগানে বিশ্বাস করে না; তারা কাজ ও অবস্থান দিয়ে নেতা চেনে।

এই প্রেক্ষাপটে মিজানুর রহমান মিজানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকা জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে। রাজনীতি যদি সত্যিই জনগণের জন্য হয়, তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে-তিনি ক্ষমতার রাজনীতি করবেন, নাকি নীতির রাজনীতি।

মিজানুর রহমান মিজানের সাম্প্রতিক ভূমিকা প্রমাণ করে, তিনি জনগণের প্রত্যাশার উচ্চতায় উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। একজন নেতা যখন সংকটে দিশা না দেখিয়ে নিজেই দিশাহীন হন, তখন তার নেতৃত্ব জনগণের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের রাজনীতি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল। কারণ ভোটাররা নেতা বেছে নেয় সংগ্রামের জন্য, সুবিধা ভোগের জন্য নয়। ইতিহাস সাক্ষী থাকে। আজ যারা আপসের রাজনীতি করেন, কাল তারা জনরোষের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হন। জনগণই শেষ বিচারের মালিক। 

লেখক যুক্তরাজ্য প্রবাসি আব্দুল কাদির জিলানী।


দৈনিক উত্তরের নিউজ

প্রকাশকঃ এম কে পুলক আহম্মেদ
Email: dainikauttareraniuja@gmail.com
web www.dainikuttarernews.com

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উত্তরের নিউজ